‌‘বালিশকাণ্ডে মন্ত্রণালয়ও দায় এড়াতে পারে না'

কোনোভাবে যেন সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না হয় সে ব্যাপারে প্রকৌশলীদের সতর্ক হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (আইইবি) সভাপতি আবদুস সবুর।

শনিবার রাজধানীর আইইবি মিলনায়তনে এক গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা বলেন আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এই প্রকৌশলী।

ভবিষ্যতে বালিশকাণ্ডের মতো কোনো ঘটনা যেন না ঘটে, সেদিকে প্রকৌশলীদের কড়া নজরদারির তাগিদ দিয়ে প্রকৌশলী সবুর বলেন, ‘এই সব ঘটনার জন্য যেন সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।’

‘সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থা : বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক এ গোলটেবিলে আবদুস সবুর বলেন, ‘বালিশকাণ্ডের দায় শুধু প্রকৌশলীদের একার নয়, এই দায়ভার মন্ত্রণালয়েরও রয়েছে। বালিশকাণ্ড ঘটার পর সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট (সিপিটিইউ) তাদের বক্তব্য জনগণের সামনে তুলে ধরেনি। তারা এ বিষয়টি জনগণের সামনে পরিষ্কার করেনি।’

গত ১৬ মে দেশ রূপান্তরে ‘কেনা তোলায় এত ঝাঁজ’ শিরোনামে এই প্রকল্পের দুর্নীতিবিষয়ক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পরপরই গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় দুটি কমিটি গঠন করে। এর মধ্যে একটি কমিটির তদন্তেই ৬২ কোটি ২০ লাখ ৮৯ হাজার টাকার অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। উচ্চ আদালতে জমা দেওয়া ওই তদন্ত প্রতিবেদনে দুর্নীতির জন্য ৩৪ প্রকৌশলীকে দায়ী করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।

এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম দুর্নীতির বিষয়টি সামনে আনার জন্য দেশ রূপান্তরকে ধন্যবাদও জানান। রূপপুর প্রকল্পে অস্বাভাবিক ব্যয়সংক্রান্ত দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে গত বৃহস্পতিবার তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য গ্রিন সিটি আবাসন পল্লীতে ২০তলা ১১টি ও ১৬তলা ৮টি ভবন হচ্ছে। এরই মধ্যে ২০তলা ৮টি ও ১৬তলা ১টি ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। ২০তলা ভবনের প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য প্রতিটি বালিশ কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা। আর ভবনে বালিশ ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা।

রেফ্রিজারেটর, খাট, টেলিভিশন, বিছানা, ওয়ারড্রোব, বৈদ্যুতিক চুলা, বৈদ্যুতিক কেটলি, রুম পরিষ্কারের মেশিন, ইলেকট্রিক আয়রন, মাইক্রোওয়েভ ইত্যাদি কেনাকাটা ও ভবনে তুলতে অস্বাভাবিক খরচ দেখানো হয়েছে।

আইইবির পুরকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চিপস বাংলাদেশের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল হুদা, এলজিইডির প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন, বিশ্বব্যাংকের প্রকিউরমেন্ট বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী গোলাম ইয়াজদানী, এলজিইডির প্রকিউরমেন্ট ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুস সাত্তার প্রমুখ।