বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের যৌথ বাছাইয়ে ভারতের বিপক্ষে দুর্দান্ত ড্র নিয়ে ফিরেছে বাংলাদেশ। ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে লাল-সবুজের দলের গোলটি এসেছে সাদ উদ্দিনের পা থেকে। চারদিকে দেশের ফুটবলের সঙ্গে সিলেটী তরুণকে নিয়ে আলাদা উন্মাদনা। কলকাতা থেকে ফেরার পর দেশ রূপান্তরের মুখোমুখি হলেন দেশের ফুটবলের নতুন সেনসেশন। সাক্ষাৎকারে ২১ বছর বয়সী তরুণ খুলে দিলেন মনের দুয়ার। আজ পড়ুন শেষ পর্ব
প্রশ্ন: ইনজুরির কারণে বড় ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গিয়েছিল আপনার ক্যারিয়ার। সেখান থেকে ফিরে আসা কতটা কঠিন ছিল?
সাদ উদ্দিন: ক্যারিয়ারে এ রকম ইনজুরি আমার আগে হয়নি। সবচেয়ে বড় বাধা ছিল গত বছরের এই ইনজুরিটা। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলার পরই ইনজুরিতে পড়ি। এরপর বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ হলো আমাদের সিলেটের মাটিতে। সেখানে আমি খেলতে পারিনি। জাতীয় দলের হয়ে লাওসের বিপক্ষে ম্যাচ দুটি খেলতে পারিনি। ঘরোয়া ফুটবলের কথা যদি বলেন, সর্বশেষ লিগের প্রথম লেগে আমি কোনো ম্যাচই খেলতে পারিনি। দুটি টুর্নামেন্ট মিস করি। তবে লিগের দ্বিতীয় লেগে পুরোপুরি খেলেছি। প্রায় সাত মাস মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল। ফেরার জন্য আমি অনেক পরিশ্রম করেছি। আল্লাহ আমার পরিশ্রম কবুল করেছেন। এ কারণেই ভালোভাবে ফিরতে পেরেছি। লিগের দ্বিতীয় লেগে সবগুলো ম্যাচই খেলেছি। এএফসি কাপের ম্যাচগুলোও খেলেছি।
প্রশ্ন: ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্টে এত বড় চোট। হতাশা কাজ করেনি নিজের মধ্যে? বা আবার জাতীয় দলে ফিরতে পারব কিনা এমন ভয়?
সাদ উদ্দিন: সত্যি বলতে আমি মানসিকভাবে অনেক শক্ত সব সময়। যে কারণে আমি কখনো আফসোস করিনি। ইনজুরিতে পড়েছি, খেলতে পারছি না... এমন ভাবনা কখনো ছিল না। বরং আমি ভালোভাবে ফেরার জন্য নিজেকে তৈরি করেছি। প্রাক-বাছাই খেলতে না পারলেও আফগানিস্তান ম্যাচ থেকেই ফিরতে পেরেছি। এরপর ভুটানের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ, কাতার ও ভারতের বিপক্ষে খেললাম। ভারতের বিপক্ষে জাতীয় দলের হয়ে প্রথম গোলও পেয়ে গেলাম...।
প্রশ্ন: কাতার ও ভারত এই দুই ম্যাচের মধ্যে কোনটা এগিয়ে রাখবেন?
সাদ উদ্দিন: দুটি ম্যাচই অনেক কঠিন ছিল আমাদের জন্য। কাতার ম্যাচ আমাদের মাটিতে, আর ভারত ম্যাচ ছিল ওদের মাটিতে। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটা ছিল ফিফটি-ফিফটি। কিন্তু কাতার ম্যাচটা অনেক কঠিন ছিল। ০-২ গোলে হারলেও আমরা ওদের বিপক্ষে সমানে সমানে লড়েছি। তাই আমি কাতার ম্যাচকেই এগিয়ে রাখব।
প্রশ্ন: বাছাই পর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডে তিনটি ম্যাচ শেষ হলো বাংলাদেশের। সামনে আরো ৫ ম্যাচ। কী লক্ষ্য থাকবে আপনাদের?
সাদ উদ্দিন: আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ চিন্তা করব। কোচ (জেমি ডে) এমন পরিকল্পনার কথাই বলেছেন। আমি আশা করি এই ম্যাচগুলোতেও খেলোয়াড়রা নিজেদের সেরাটা দেবে এবং ভালো কিছু করার চেষ্টা করবে। আমাদের পরবর্তী ম্যাচ ওমানের বিপক্ষে। ওই ম্যাচ নিয়েই এখন আমাদের ভাবনা। এরপর বাকি ম্যাচ নিয়ে ভাবব।
প্রশ্ন: ঘরের মাঠে কাতারের বিপক্ষে লড়লেও ওদের মাঠে খেলতে হবে। অন্য দিকে ভারত আসবে বাংলাদেশে। এই দুটি ম্যাচের (দুটি ম্যাচই আগামী বছর) কথা যদি আলাদা করে বলেন...।
সাদ উদ্দিন: কাতারের মাঠে ম্যাচটা অনেক কঠিন হবে। ওই ম্যাচে আমাদের অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হবে। ভালো একটা রেজাল্ট করতে হলে সবাইকে অনেক কঠিন পরিশ্রম করতে হবে। আর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটা আমরা জিতব ইনশা আল্লাহ। ড্র’ও করব না, হারবও না। আমরা সবাই জেতার জন্য মাঠে নামব।
প্রশ্ন: একটু ভিন্ন বিষয়ে আসি। আপনার স্টাইল নিয়ে কিন্তু অনেক আলোচনা হচ্ছে। বিশেষ করে নায়ক সিয়ামের সঙ্গে আপনার স্টাইল, চেহারার মিলের কথা বলছেন অনেকে।
সাদ উদ্দিন: (হাসি) সিয়াম ভাই অনেক বড় একজন মানুষ। অনেক বড় তারকা। ওনার সঙ্গে আমার ভালো পরিচয়ও আছে। সবাই বলে ওনার সঙ্গে চেহারার মিলের কথা। হতে পারে... আমি ঠিক জানি না।
প্রশ্ন: এমনিতে আপনি তাকে ফলো করেন?
সাদ উদ্দিন: আমি আসলে আমার খেলা নিয়েই ব্যস্ত থাকি। উনি ওনার জায়গায়। তবে আমি তাকে সম্মান করি। একটা অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। ভারতের বিপক্ষে গোলের পর উনি অভিনন্দন জানিয়েছেন আমাকে।
প্রশ্ন: ভবিষ্যতে মডেলিংয়ে দেখা যেতে পারে সাদকে?
সাদ উদ্দিন: প্রফেশনাল মডেলিংয়ে আমার আগ্রহ নেই। তবে খেলার ফাঁকে ফাঁকে খেলোয়াড়রা টুকটাক যেমন করে, সেরকম হতে পারে। একটা টিভিসিও এরই মধ্যে করেছি আমি।
সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্ব পড়ুন: