দক্ষিণ এশিয়ান গেমস শুরু হতে বাকি আর মাত্র দেড় মাস। তার আগেই সাঁতারের ক্যাম্পে বয়ে গেছে ঝড়। সোমবার ক্ষোভে হতাশায় দায়িত্ব ছেড়ে চলে গেছেন জাপানিজ কোচ তাকেও ইনোকি।
যদিও কারণ দেখিয়েছেন ব্যক্তিগত, তবে ফেইসবুক পেজে তার স্ট্যাটাস থেকে জানা গেছে আসল কারণ। ক্যাম্পে স্থানীয় কোচদের জুনিয়র সাঁতারুদের ওপর কঠোর শাস্তির নির্দেশ দেওয়ায় তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।
ঘটনা রবিবারের। জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে এই জাপানিজ কোচের অধীনে চলছিল এসএ গেমসের অনুশীলন। সেখানে একই সঙ্গে চলছিল বাছাইকৃত জুনিয়র সাঁতারুদের ক্যাম্প। সেখানে নিয়ম ভেঙে কিছু জুনিয়র সাঁতারু মোবাইল ফোন ব্যবহার করায় তাদের কঠোর শাস্তি দেন স্থানীয় কোচরা। খোলা আকাশের নিচে কড়া রোদের মধ্যে তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হয়।
একপর্যায়ে জুনিয়র সাঁতারু শরীফা আক্তার মিম জ্ঞান হারিয়ে মেঝেতে পড়ে যান। প্রায় ১০ মিনিটের মতো পড়ে ছিলেন। কেউ তাকে শুশ্রূষা করতে এগিয়ে যাননি। সেটা দেখে স্থানীয় কোচদের ইনোকি জিজ্ঞাসা করেন মেয়েটা ঠিক আছে কি-না। সে সময় এক কোচ হাসতে হাসতে বলেন, ‘ওর কিছু হয়নি, ভান করে পড়ে আছে।’
ইনোকি মিমকে শুশ্রূষা করার তাগিদ দিলে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। পরে তাকে ছায়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় কোচদের বারবার অনুরোধ করা সত্যেও অ্যাম্বুলেন্স ডাকেননি। পরে ভ্যানে চড়িয়ে তাকে কোথাও নিয়ে যাওয়া হয়।’
সেদিনই এই ঘটনায় মর্মাহত ইনোকি পদত্যাগপত্র জমা দেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এমবি সাইফের কাছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে সাইফ বলেন, ‘তার যাওয়ার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম। আমরা কথা বলার চেষ্টা করেছি। সে আমাদের সঙ্গে কোনো কথা বলেনি। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে চলে গেছে। সাঁতারুরা গোপনে মোবাইল ফোন রাখত। তার জন্য তাদের শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। সেটা নিয়েই কোচ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন।’
জাপানি কোচ তাকেও ইনোকি বিষয়টি বিশ্ব সাঁতার সংস্থা ফিনাতেও জানানোর কথা উল্লেখ করেছেন তার ফেইসবুক স্ট্যাটাসে। এদিকে বিষয়টি তদন্ত করতে একটি কমিটি গঠন করেছে সাঁতার ফেডারেশন।