দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নারী ক্রীড়াবিদদের প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূর, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, ক্ষমতায়ন এবং অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই উদ্দেশ্য পূরণে এবং ক্রীড়াকে নারীর অগ্রগতির অন্যতম মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ক্রীড়ানুরাগী পাঁচজন বিশিষ্ট নারীর সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গত ২ জুন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব অংগ্যজাই মারমা স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়।
জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সাবেক জাতীয় টেবিল টেনিস খেলোয়াড় জোবেরা রহমান লিনুকেএই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটির অপর চার বিশিষ্ট সদস্য হলেন- সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি সারওয়াত সিরাজ শুক্লা, ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিকসের অধ্যাপক নাসরিন সুলতানা এবং বিশ্ববিদ্যালয়)যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপসচিব উম্মে ইসরাত।
কমিটির প্রধান কার্যপরিধিগুলো নিচে দেওয়া হলো-
নারী ক্রীড়াবিদদের নিরাপত্তা ও প্রতিভা বিকাশের জন্য নতুন পরিকল্পনা করা এবং খেলাধুলায় নারীদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব বাড়ানো। গ্রামগঞ্জ বা তৃণমূল থেকে উঠে আসা সম্ভাবনাময় নারী খেলোয়াড়দের বড় মঞ্চের জন্য উন্নত ট্রেনিং দেওয়া এবং প্রয়োজনে তাদের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সাহায্য করা। নারী খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য, সঠিক পুষ্টি ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া, যাতে সমাজে তারা নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেন। নারী খেলাধুলায় স্পন্সর বা বিনিয়োগের অভাব দূর করা এবং পুরুষ খেলোয়াড়দের সমান বেতন ও আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করা। খেলাধুলার জায়গায় নারীদের প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বন্ধ করা এবং একটি নিরাপদ ও সমান অধিকারের পরিবেশ তৈরি করা।
কমিটি প্রতি দুই মাস পর পর তাদের কাজের অগ্রগতি লিখিতভাবে সরকারকে জানাবে। এছাড়া কাজের প্রয়োজনে তারা চাইলে বাইরের যেকোনো অভিজ্ঞ বা বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিকে এই কমিটিতে যুক্ত করে নিতে পারবে।
