ব্রেক্সিটে বিলম্বের আভাস ইইউর

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন চলতি সপ্তাহে পার্লামেন্টে চুক্তি পাস করাতে ব্যর্থ হলে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্রেক্সিটে দেরি করবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইউনিয়ন কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, সিদ্ধান্তটি এখনো চূড়ান্ত না হলেও বরিস জনসন চলতি সপ্তাহে পার্লামেন্টে চুক্তি পাস করাতে পারবেন না বলেই মনে হচ্ছে। তবে বিলটি পাস হলেই যুক্তরাজ্য যেকোনো সময় বেরিয়ে যেতে পারবে।

এদিকে নির্ধারিত সময় ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন করতে চান বরিস জনসন। এ লক্ষ্যে তিনি তার সরকারি বাসভবনে গতকাল মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠকেও বসেন। সেখানে তিনি তার দলের সব সংসদ সদস্যকেই ভোটে অংশ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, আমাদের হাতে ৯ দিনের সময় আছে। এই সময়ের মধ্যেই একটা ইতিবাচক ফল আনতে হবে।

তবে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, জনসন বিষয়টি যত সহজ ভাবছেন তা অতটা সহজ হবে না। পার্লামেন্টে বিরোধী দলের তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে তাকে।

গত সোমবার ব্রেক্সিটের খসড়া চুক্তি অনুমোদনে হাউজ অব কমন্সে আইনপ্রণেতাদের ‘হাঁ-না’ ভোটের আয়োজন করতে চেয়েছিল বরিস জনসন সরকার। যা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন নিম্নকক্ষের স্পিকার জন বার্কো। তিনি বলেছেন, শনিবারও (১৯ অক্টোবর) খসড়া ব্রেক্সিট চুক্তিটির ওপর প্রস্তাব আনা হয়েছিল আইনপ্রণেতাদের সামনে। আবার একই ‘বিতর্কিত’ প্রস্তাব আনা হলে এটি ‘পুনরাবৃত্তিমূলক’ এবং ‘অব্যবস্থাপনামূলক’ হবে।

এর আগে শনিবার হাউজ অব কমন্সের বিশেষ সভায় এই চুক্তি উত্থাপন করার আগেই আরেক প্রস্তাবের ভোটে হেরে যান প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ব্রেক্সিট পেছানোর প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন কনজারভেটিভ ও বিরোধী দলের বেশির ভাগ সংসদ সদস্য।

এদিকে ব্রেক্সিট পেছানোর ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনানুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে ‘দ্য সানডে টাইমস’ নামের ব্রিটিশ পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, ইইউ দেশগুলোর সরকার যতক্ষণ পর্যন্ত ব্রেক্সিট চুক্তি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পাস হওয়ার সুযোগ কতটুকু তা খতিয়ে না দেখছে ততক্ষণ এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হচ্ছে না। সিদ্ধান্ত হলে তা হতে পারে মঙ্গলবারের পরই।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী জনসন ইইউ-কে ব্রেক্সিটে দেরি করার জন্য স্বাক্ষরবিহীন চিঠি দিলেও নিজের সই করা আরেকটি চিঠিতে এ-ও লিখেছেন যে, ব্রেক্সিট পিছিয়ে দেওয়াটা ‘ভুল’ হবে।

ফলে ইইউ এখনই ব্রেক্সিটে দেরির সুস্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে কেবল সময় হাতে রাখার চেষ্টা নিয়েছে বলে বলছে রয়টার্স।