লেখাপড়া শেষ করে শুধু চাকরির দিকে নজর না দিয়ে উদ্যোক্তা হয়ে নিজের জীবিকার পাশাপাশি অন্যদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। এক্ষেত্রে বর্তমান বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিপুল সম্ভাবনার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন তিনি।
মঙ্গলবার হোটেল র্যাডিসনে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) আয়োজনে ‘ইয়ং বাংলা উইথ সজীব ওয়াজেদ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের ‘ইয়ুথ অন পলিটিক্স’ সেশনে দেওয়া বক্তৃতায় এ কথা বলেন তিনি।
জয় বলেন, ‘শুধু চাকরির দিকে নজর দেবেন না। আমাদের অর্থনীতি বাড়ছে। উদ্যোক্তা হন, নিজের পায়ে দাঁড়ান। অন্য কারও ওপর আপনার নির্ভরশীল হতে হবে না। সরকারের ওপর নির্ভরশীল হতে হবে না, অন্য কোনো সংগঠনের ওপর নির্ভরশীল হতে হবে না এবং কোনো কোম্পানির ওপরও নির্ভরশীল হতে হবে না।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে জয় হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনপ্রশাসনে স্নাতকোত্তর করেছেন। আর কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে। তিনি নিজেও একজন তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা।
তিনি বলেন, ‘আপনারা নিজেদের কোম্পানি করেন। আপনারা হয়তো ভাবতে পারেন বাণিজ্য করে দেশের এবং দেশের মানুষের কী লাভ?’
বাণিজ্য করলে অর্থনীতির লাভ হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা তখন অন্যদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পারবেন। আপনাদের কোম্পানিতে আপনারা অন্যদের চাকরি দিতে পারবেন। সেজন্য আমরা চেয়েছি, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব, তার সাথে আমরা তরুণদের আকর্ষণ করব, তরুণদের আহ্বান জানাব যে, আসো নিজের উদ্যোগে কিছু করো। দেশের জন্য কিছু করো।’
দেশে বিসিএসসহ সরকারি চাকরিতে সীমিত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা থাকার কথা উল্লেখ করেন জয়। তিনি বলেন, ‘দেখেন আবারও সেই বিসিএসের প্রশ্নে চলে যাই। সরকারি চাকরি, বিসিএসে চাকরি কিন্তু বছরে চার থেকে পাঁচ হাজার। মাত্র, সামান্য। কিন্তু এই যে প্রতি বছর হাজার হাজার তরুণ স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নিয়ে আসছে তাদের কিন্তু বেশিরভাগের (সরকারি চাকরিতে) সুযোগ, সম্ভাবনাই নেই। কারণ সরকারি চাকরি মাত্র পাঁচ হাজার।’
জয় বলেন, ‘আপনারা যদি নিজেদের উদ্যোগে কোনো ব্যবসা করেন, কোনো ছোটখাটো দোকান করেন, ফ্রিল্যান্সিংও করেন সেখান থেকে একপর্যায়ে কিছুটা ট্যাক্স দেবেন। সেই ট্যাক্স কোথায় যায়? আমাদের অর্থনীতিতেই যায়। মানুষের সেবায় কিন্তু আসে। এভাবে কিন্তু আপনারা নিজেদের উদ্যোগে দেশকে, দেশের মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন।’
আর উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করার জন্যই ‘আওয়ামী লীগ সরকার অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছে’ বলে জানান তিনি। এ সময় তিনি সারা দেশের কারিগরি শিক্ষা কেন্দ্র, ভোকেশনাল ও ডিপ্লোমা শিক্ষা কেন্দ্র এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। একইসঙ্গে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর জন্য নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
সজীব ওয়াজেদ বলেন, ‘যাতে তারা (তরুণরা) নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারে। ভালো চাকরি পেতে পারে। শুধু সরকারি চাকরি না। বেসরকারি চাকরি বেড়েছে। বিদেশে যাতে তারা চাকরি পেতে পারে এই ব্যবস্থা সরকার করে দিয়েছে। আমরা ফ্রিল্যান্সারদের প্রশিক্ষণ দিয়েছিলাম। আমাদের দেশে এখন প্রায় ৬ লাখের ওপর ফ্রিল্যান্সার আছে। আমাদের দেশ কিন্তু ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যায় সারা বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে।’
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাহ আলী ফরহাদের সঞ্চালনায় ‘ইয়ং বাংলা উইথ সজীব ওয়াজেদ’ অনুষ্ঠানে প্রায় আড়াইশ তরুণ অংশ নেন; যাদের মধ্যে ছিলেন জয় বাংলা ইয়ুথ বিজয়ীরা, আইসিটি বিভাগের স্টুডেন্ট টু স্টার্ট-আপের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ তরুণ উদ্যোক্তারা। অনুষ্ঠানের দুটি সেশনে অংশগ্রহণকারীরা সজীব ওয়াজেদ জয়কে বিভিন্ন প্রশ্ন করার সুযোগ পান। খবর: বিডিনিউজ।