স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার একপর্যায়ে রাগের মাথায় ‘তালাক’ শব্দটি উচ্চারণ করেন জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের উত্তর বিষ্ণুপুর গ্রামের এক ব্যক্তি (৫৫)। বিষয়টি জানতে পারেন গ্রামের মাতব্বর ও আওয়ামী লীগ নেতা মোকলেছুর রহমান বাদেশ। এরপর কয়েক দফা সালিস বসিয়ে ওই গৃহবধূকে (৫০) হিল্লা বিয়ের জন্য চাপ দেন বাদেশসহ গ্রামের অন্য মাতব্বররা। কিন্তু তাতে রাজি না হওয়ায় তারা ওই গৃহবধূসহ তার পরিবারকে একঘরে করে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার এখানেই শেষ নয়, হিল্লা বিয়ে করতে ক্রমাগত চাপের মুখে থাকা ওই গৃহবধূ গত সোমবার থানায় অভিযোগ করতে যাওয়ার ‘অপরাধে’ বেধড়ক মারধরের শিকার হয়েছেন বাদেশ ও অন্য মাতব্বরদের সন্তান এবং তাদের সহযোগীদের হাতে। গুরুতর আহত ওই গৃহবধূ বর্তমানে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন। আর তার স্বামী ঘরছাড়া প্রথম থেকেই।
দেশ রূপান্তরের অনুসন্ধানের পর বুধবার বিকেল ভুক্তভোগী ওই নারীর সঙ্গে মোবাইলে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি জানান, আমি অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতাল থেকে থানায় অভিযোগ দিতে এসেছি। অভিযোগের ব্যাপারে থানার পুলিশ সহযোগিতা করছে। এখান থেকে আবার হাসপাতালে ফিরে যাব।
তিনি জানান, মঙ্গলবার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোকছেদ আলী অভিযুক্ত মোকলেছুর রহমান বাদেশ মেম্বারসহ কয়েকজনকে সাথে নিয়ে হাসপাতালে আমাকে দেখতে আসেন। মোকছেদ আলী বলেন, বাড়িতে চলো তোমার সব সমস্যা সমাধান করে দেব। মোকলেছুর রহমান বাদেশ মেম্বার বলেন, আমি ভুল করেছি, আমাকে ক্ষমা করে দাও, চিকিৎসার ক্ষতিপূরণ দেব। গ্রামের ব্যাপার গ্রামে বসেই ঠিক করে দেব। জবাবে ভুক্তভোগী নারী তাদের বলেছেন, আমি তখন বলেছি থানা পুলিশ-আইনের মাধ্যম ছাড়া আমি হাসপাতাল থেকে যাব না। মীমাংসা করতে হলে তাদের মাধ্যমেই করতে হবে।
এদিকে, মাতব্বররা বৈঠক করে গ্রামবাসীদের কেউ ওই গৃহবধূর পক্ষে সাক্ষী দেবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া, ওই গৃহবধূ মানসিকভাবে অসুস্থ বলে চিহ্নিত করারও ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে গৃহবধূর পরিবার জানায়।
অভিযুক্ত স্থানীয় তিলকপুর ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোকলেছুর রহমান বাদেশ বলেন, আমি কিছু জানি না, আমি কিছু বলব না।
এ ব্যাপারে আক্কেলপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোকছেদ আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঘটনার খবর শুনে মেম্বারসহ আমি হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলাম এবং গৃহবধূকে বলেছি স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মিটানো হবে, তুমি যদি আপস করো কিন্তু সে মামলা করবে এবং আইনের বাইরে কিছু করবে না। এই শুনে আমি রোগীর খোঁজ-খবর নিয়ে চলে এসেছি। যদি কেউ গৃহবধূকে হিল্লা বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে সেই দায়ভার তার। আর স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক গ্রুপিংও এই বিষয়টির মধ্যে কাজ করছে।
আক্কেলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবু ওবায়েদ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জয়পুরহাট অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজ্জাদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় আগেই আমরা একটি জিডি করে রেখেছি।