বিতর্কিত বন্দি প্রত্যর্পণ বিল প্রত্যাহার

ক্যারি লামকে সরাচ্ছে পেইচিং!

চীনে বহিঃসমর্পণের সুযোগ রেখে করা প্রস্তাবিত বিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে হংকংয়ের আইনসভা। গতকাল বুধবার হংকংয়ের আইনসভার এ পদক্ষেপে আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির একটি পূরণ হয়েছে বলে জানিয়েছে এএফপি।

বিক্ষোভকারীদের দাবির মধ্যে আছে চলমান প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ‘দাঙ্গা’ হিসেবে অভিহিত না করা, গ্রেপ্তারদের নিঃশর্ত মুক্তি ও ক্ষমা, বিক্ষোভে পুলিশি বর্বরতার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সর্বজনীন ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।

এদিকে হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যারি লামকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে পেইচিং। হংকংয়ে গণতন্ত্রপন্থিদের প্রায় পাঁচ মাসের লাগাতার আন্দোলনের পর তাকে সরিয়ে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত শিগগিরই বাস্তবায়ন করা হতে পারে। গতকাল বুধবার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আধা সায়ত্তশাসিত এই অঞ্চলের চীনপন্থি নেতা ক্যারি লাম বিতর্কিত বন্দি প্রত্যর্পণ বিল পাসের জেরে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়েন। বিক্ষোভ ঠেকাতে হংকংয়ের পুলিশ ও ক্যারি লামের প্রতি চীনের কেন্দ্রীয় সরকার সমর্থন জানিয়ে বিক্ষোভকারীদের দাঙ্গাবাজ এবং সহিংস হিসেবে আখ্যা দেয়।

কিন্তু ফিন্যান্সিয়াল টাইমস বলছে, ক্যারি লামের বিকল্প হিসেবে নতুন নির্বাহী নিয়োগের পরিকল্পনা করছে পেইচিং। নতুন এই নির্বাহীর নাম প্রকাশ না করা হলেও তিনি অন্তর্বর্তীকালীন হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে নতুন এই নির্বাহী চীনপন্থি হবেন এমনটাও আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

প্রধান নির্বাহী নিয়োগের বিষয়টি প্রথমত নির্ভর করছে হংকংয়ের স্থিতিশীলতা ফিরে আসার ওপর। বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস বলছে, সেখানে সহিংসতার মধ্যে নতুন নির্বাহী নিয়োগ দিতে চাইছে না পেইচিং। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই দৈনিকের প্রতিবেদনকে ‘অসৎ উচ্চাশার রাজনৈতিক গুজব’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনইং বলেছেন, ‘হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি লামকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন জানায় কেন্দ্রীয় সরকার। যত দ্রæত সম্ভব সেখানকার সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবসান ঘটবে।’

তবে ল্যামের কার্যালয় বলছে, তারা গুজবের ব্যাপারে কোনো ধরনের মন্তব্য করবে না। গত প্রায় ২০ সপ্তাহের টানা বিক্ষোভ-সহিংসতায় বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে চীনের বিশেষ এই প্রশাসনিক অঞ্চল। রাজনৈতিক কোনো সমাধান না আসায় প্রায় প্রত্যেক দিনই বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সংঘাত ও সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করছে।