চীন থেকে ৯০ কোটি টাকায় দুটি স্ক্যানার নভেম্বরের মাঝামাঝি চালু হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরের ১ নম্বর গেট ও নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) ৩ নম্বর গেটে স্ক্যানার দুটি বসানোর কাজ চলছে। কাস্টমস কর্মকর্তাদের মতে, নতুন দুটি স্ক্যানার চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের কমিশনার ফখরুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, চলতি মাসেই নতুন দুটি স্ক্যানার আমাদের কাছে হস্তান্তরের কথা ছিল। কিন্তু এর মধ্যে একটি স্ক্যানার বসানোর কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন না হওয়ায় স্ক্যানারগুলো হস্তান্তর হয়নি।
আগামী মাসের মাঝামাঝিতে স্ক্যানার দুটিতে কন্টেইনার পরীক্ষা শুরু করা যাবে বলে আশা করছি।
চট্টগ্রাম বন্দরের ১২টি গেট দিয়েই এসব আমদানি-রপ্তানি পণ্যবাহী কন্টেইনার আনা নেওয়া হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত স্ক্যানার না থাকায় কন্টেইনার পরীক্ষায় দীর্ঘসূত্রতা লেগে থাকে। বর্তমানে বন্দরে তিনটি স্ক্যানার রয়েছে। এর বাইরে রয়েছে একটি মোবাইল স্ক্যানার।
আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্টরা জানান, স্ক্যানার স্বল্পতার সুযোগ নিয়ে মিথ্যা ঘোষণায় আনা পণ্যবাহী অনেক কন্টেইনার বন্দর থেকে বের হয়ে যায় স্ক্যানিং ছাড়াই। মঙ্গলবার ইপিজেডের আইসিডি কিউএনএস কন্টেইনার সার্ভিসেস লিমিটেডে যে কন্টেইনারটিতে তুলা ঘোষণায় বালির বস্তা পাওয়া যায়, ওই কন্টেইনারটিও পরীক্ষা ছাড়া ডেলিভারি নিয়েছিল আমদানিকারকের নিয়োজিত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট। পরে ট্রাকে পণ্য ডেলিভারির জন্য কন্টেইনার খোলার পর বালির বিষয়টি সামনে আসে।
চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার জানান, স্ক্যানার দুটি চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান স্ক্যানার সংকট কিছুটা কেটে যাবে। এতে আমদানি-রপ্তানি পণ্যবাহী কন্টেইনার পরীক্ষায় আরও গতি আসবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দেশের বন্দরগুলোর জন্য আরও ১৭টি স্ক্যানার সংগ্রহের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
চিটাগাং পোর্ট ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন (সিপিটিএফ) প্রকল্পের আওতায় ২০০৯ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে চারটি কন্টেইনার স্ক্যানার স্থাপন করে কাস্টমস। পরে আরেকটি মোবাইল স্ক্যানার সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে একটি স্ক্যানার অচল রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। অতিরিক্ত চাপের কারণে অন্য স্ক্যানারগুলোও মাঝেমধ্যে অচল হয়ে পড়ে। তখন ভোগান্তি বাড়ে ব্যবসায়ীদের।
চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম এ প্রসঙ্গে দেশ রূপান্তরকে বলেন, নতুন দুটি স্ক্যানারে বর্তমান পরিস্থিতির হয়তো কিছুটা উন্নতি হবে, তবে তা যথেষ্ট হয়। মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি বন্ধ ও নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে বন্দরের সব গেটে স্ক্যানার স্থাপন জরুরি বলে আমি মনে করি।