ডায়াবেটিসে অন্ধত্ব!

চোখের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে ডায়াবেটিস। এই রোগে আক্রান্ত রোগীরা ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি, ছানি পড়া কিংবা গøুকোমায় আক্রান্ত হয়ে অন্ধ হতে পারেন। গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথিতে প্রায় ৪ কোটি মানুষ চিরকালের জন্য অন্ধ হয়ে গেছে। মোট ডায়াবেটিস আক্রান্তের প্রায় ৬০ শতাংশ রেটিনার সমস্যায় আক্রান্ত। এছাড়া গ্লুকোমা ও ছানি পড়ার জন্য আরও কয়েক লাখ লোক অন্ধত্ববরণ করেন।

বাংলাদেশে এ সম্পর্কে সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও অন্ধত্বের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে একটি ডায়াবেটিস। শুধু ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সহজেই অন্ধত্ব প্রতিরোধ করা যায়। অনেক সময় অজ্ঞতা ও অবহেলার কারণে অন্ধত্বের মতো নির্মম পরিণতির শিকার হতে হয়।

ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি

এর কারণে চিরতরে অন্ধত্ববরণ করতে হয়। তখন চিকিৎসা করালেও খুব একটা লাভ হয় না। তবে শুরুতেই রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা করলে অন্ধত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি মেলে।

চোখের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো রেটিনা। এটা একটি সংবেদনশীল পর্দা, যা চক্ষুগোলকের ভেতরের দিকে থাকে। এর ওপর আলোক রশ্মি পড়ে প্রতিসরিত প্রতিফলিত হয়। এরপর তা বিভিন্ন নিউরো কেমিক্যাল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মুহূর্তে মস্তিষ্কে পৌঁছে এবং আমরা ছবি দেখি। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের কারণে রেটিনার সুক্ষ রক্তনালিগুলো বন্ধ হয়ে আসে। এই রক্তশূন্যতায় কেন্দ্রীয় রেটিনায় পানি ও তেল জাতীয় পদার্থ জমে যায় অথবা রেটিনার বিভিন্ন স্থানে নতুন অস্বাভাবিক রক্তনালির সৃষ্টি হয় রেটিনার অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ানোর জন্য। এসব রক্তনালি স্বাভাবিক রক্তনালির মতো পরিপক্ব হয় না। এসব নতুন অপরিপক্ব রক্তনালি খুব সহজেই ভঙ্গুর হয়। এতে করে চোখের ভেতর রক্তক্ষরণ হয়। ফলে দৃষ্টিশক্তি একেবারে চলে যায়। তখন কিছুই করার থাকে না। তবে শুরুতেই চিকিৎসা গ্রহণ করলে দৃষ্টিশক্তি ধরে রাখা সম্ভব

ছানি পড়া

অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের কারণে চোখের লেন্স ঘোলা হয়ে রোগী অন্ধ হয়ে যায়। এটাকে বলে ছানি পড়া। এর কারণেও দৃষ্টিশক্তি কমে যায়। দীর্ঘদিনের ছানির কারণে পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যাওয়াও অস্বাভাবিক কিছু নয়। অথচ মাত্র ১০ থেকে ৩০ মিনিটের ছোট একটি অপারেশন পারে এ অন্ধত্ব দূর করতে।

গ্লুকোমা

ডায়াবেটিসের কারণে চোখের চাপ বেড়ে দেখা দেয় গøুকোমা। এটিও রেটিনায় এবং অপটিক নার্ভে সমস্যা করে চিরতরে অন্ধ করে দিতে পারে।

ডায়াবেটিসের কারণে যে অন্ধত্ববরণ করতে হয়- এ কথাটি এখনো দেশের বেশিরভাগ মানুষ জানেন না। অথচ এ অন্ধত্ব প্রতিরোধযোগ্য। শুধু ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অন্ধত্ব প্রতিরোধ করা যায়। চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ সেবন, নিয়মিত ব্যায়াম ও নিয়ন্ত্রিত খাদ্যভ্যাসের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দিয়ে বছরে দুবার চোখ পরীক্ষা করান। একটু সচেতন হলেই অন্ধত্বের অভিশাপ থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

প্রফেসর ডা. সৈয়দ এ. কে. আজাদ

চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ও ফ্যাকো সার্জন

সাবেক অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান

চক্ষুরোগ বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

ও জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট

মোবাইল : ০১৭১০-৭৩৬০০৮