বিতর্কিত রেফারিংয়ের ম্যাচে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপে ভারতের আই-লিগ চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই সিটিকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস।
চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার প্রথমার্ধেই লালকার্ড হয় তিনটি। পরের অর্ধে আরও একবার। রেফারির সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে চেন্নাই সিটি এফসি একটা সময় না খেলেই মাঠ ছাড়তে চেয়েছে। এ জন্য খেলা বন্ধ থেকেছে ১২ মিনিট। দু’দলের দুই কোচও লালকার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছেন।
এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় হারের স্বাদ পেল চেন্নাই। নিজেদের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার দল টেরেঙ্গানু এফসির কাছে ৫-৩ গোলে হেরেছিল তারা।
ষষ্ঠ মিনিটে কিংসের হয়ে গোল করেন লেবানিজ স্ট্রাইকার মোহাম্মদ জালাল কদৌহ। ২৪ মিনিটে সূত্রপাত ঘটে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার। ইমন বাবু ফাউল করে ফেলে দেন চার্লস আনন্দরাজকে। তার কয়েক মিনিট আগে চেন্নাই এফসির পেনাল্টির একটি যৌক্তিক দাবি রেফারি বাতিল করে দেন। এবারও রেফারিকে কার্ড না দিতে দেখে উত্তেজিত হয়ে পড়েন চেন্নাইয়ের ফুটবলাররা।
রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়ান চেন্নাইয়ের জাপানি মিডফিল্ডার কাতসুমি ইউসা। মেজাজ হারিয়ে এই জাপানি এক পর্যায়ে মাঠের বাইরে বেরিয়ে এসে চতুর্থ অফিশিয়ালের টেবিল লাথি দিয়ে ভেঙে ফেলেন এবং রেফারিকে মারতে যান। এই ঘটনার সমাধান হয় প্রথমে বেঁকে বসা চেন্নাই খেলতে রাজি হওয়ায়। কাতসুমিকে দেখতে হয় লালকার্ড।
১২ মিনিট পর খেলা ফের শুরু হলেও ১০ জনের দলে চেন্নাইয়ের বিপক্ষে সেভাবে গুছিয়ে আক্রমণ করতে পারছিল না কিংস। উল্টো ৪৩ মিনিটে গোল খেতে হয় তাদের।
মাঝমাঠ থেকে চার্লসের বাড়ানো বল দখলের লড়াইয়ে কিংস ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষকে ছিটকে ফেলে জালে শট নেন ফরোয়ার্ড মাশুর শেরিফ। তার শট কিংস গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো ঠেকিয়ে দিলেও স্প্যানিশ স্ট্রাইকার জেভিয়ার পেদরোর প্লেসিং রুখতে পারেননি।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৯ মিনিটে লিড পুনরুদ্ধার করে কিংস। ডান প্রান্ত থেকে কলিনদ্রেসের ক্রসে বখতিয়ারের হেড রুখতে পারেননি চেন্নাই গোলরক্ষক গার্সিয়া সান্তানা। ৬৯ মিনিটে ৯ জনের দলে পরিণত হয় চেন্নাই। এবার কলিনদ্রেসকে জোড়া পায়ে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় স্প্যানিশ ডিফেন্ডার রবার্তো সুয়ারেজকে। তাতেও লাভ হয়নি কিংসের। উল্টো দু’মিনিট পর কিংস গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকোর হাস্যকর ভুলের সুযোগে দলকে সমতায় ফিরিয়েছেন মাশুর শেরিফ।
তবে ৮৮ মিনিটে কলিনদ্রেসের বানিয়ে দেওয়া আক্রমণের সফল পরিণতি দিয়ে জালাল কদৌহ কিংসের জয় নিশ্চিত করেন।