রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রত্যাখ্যান মুক্তিযোদ্ধার

মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন। বুধবার সকাল ১১টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার লেখা শেষ চিঠিতে ‘শেষ ইচ্ছা’ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ইসমাইল হোসেনকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই দাফন করা হয়।

এসময় ‘গার্ড অব অনার’ দিতে আসা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যদের ফিরিয়ে দেন ইসমাইল হোসেনের স্বজনরা।

মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন দিনাজপুর সদর উপজেলার ৬নং আউলিয়াপুর ইউনিয়নের যোগীবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ছেলেকে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ এনে তিনি রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রত্যাখ্যান করেন বলে জানা গেছে।

মৃত্যুর আগে তিনি রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দেওয়ার কথা উল্লেখ করে একটি চিঠি লিখেন।

চিঠিতে মুক্তিযোদ্ধা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিমকে তার ছেলেকে চাকরি চ্যুত করা ও বাসা থেকে উচ্ছেদের অভিযোগ আনেন স্থানীয় প্রশাসনের  বিরুদ্ধে।

জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিমের কাছে ন্যায় বিচার চেয়ে তিনি চিঠিতে লেখেন, ‘জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে যদি আমার মৃত্যু হয় আমাকে যেন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা না হয়। কারণ এসিল্যান্ড, ইউএনও, এডিসি, ডিসি যারা আমার ছেলেকে চাকরিচ্যুত ও বাস্তুচ্যুত করে পেটে লাথি মেরেছে তাদের সালাম, স্যালুট আমার শেষ যাত্রার কফিনে চাই না’।

এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান নুর ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার বাবা মৃত্যুর আগে যা লিখে গেছেন সবই সত্য। আমার বাবার মৃত্যুর পর আমরা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনও করতে দিইনি’।

তিনি বলেন, ‘আমার বাবাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জেলা প্রশাসন অফিস থেকে কর্মকর্তা ও কয়েকজন পুলিশ সদস্য এসেছিলেন। কিন্তু আমার বাবার ওসিয়ত (কথা অনুযায়ী) আমরা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করতে দেইনি।’

সদর উপজেলা ভূমি কমিশনার (এসিল্যান্ড) আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘নুর ইসলাম দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে কাজ করত। সে নিয়মিত ডিউটি পালন করত না। আর সে মাদক সেবন করত বলে আমি তার গাড়িতে নিরাপদ বোধ করতাম না’। এ জন্য কাজ হারায় বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নুর ইসলাম যে মুক্তিযোদ্ধার ছেলে আমি সেটা আজকেই প্রথম জানলাম। তবে তিনি মাস্টার রোলে চাকরি করতেন। পূজার ডিউটিতে তিনি আসেননি। তাকে ফোন করেও আনা যায়নি এবং তার বিপরীতে অন্য একজনকে চালক হিসেবে নেওয়া হয়েছে। এসিল্যান্ড আমাকে যেটা জানিয়েছেন, নুর ইসলাম মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। একজন সরকারি কর্মকর্তা মাদকসেবীর গাড়িতে কতটা নিরাপদ সেটা আপনারাই বলুন’।