ম্যাচটি ছিল বাংলাদেশ ও ভারতের দুই চ্যাম্পিয়নের। অথচ বসুন্ধরা কিংস-চেন্নাই সিটি এফসি’র ঘটনাবহুল ম্যাচের আলোচিত চরিত্র কোনো ফুটবলার নন, আলোচনায় শ্রীলঙ্কান রেফারি লাকমাল ভেরাকরি। যদিও দু’দল চাইবে রেফারির নামের আগে খলনায়ক উপাধিটি বসিয়ে দিতে। রেফারির ভুল ও বিতর্কিত বাঁশিতে বারবার বিঘ্নিত হওয়া ম্যাচটি অবশ্য ৩-২ ব্যবধানে জিতেছে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নরা। যে জয় শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপে সেমিফাইনালের সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রেখেছে তাদের।
চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়াম কাল বিকেলে দেখেছে অনেক নাটক। প্রথমার্ধেই লালকার্ড প্রদর্শিত হয়েছে তিনবার। পরের অর্ধে আরও একবার। রেফারির সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে চেন্নাই সিটি এফসি একটা সময় না খেলেই মাঠ ছাড়তে চেয়েছে। এ জন্য খেলা বন্ধ থেকেছে ১২ মিনিট। দু’দলের দুই কোচও লালকার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছেন। শরীর নির্ভর খেলায় ফুটবলের সৌন্দর্য বিনষ্ট হয়েছে বারবার। আবার এ ম্যাচেই কিনা গোল হয়েছে ৫টি! তাতেই পরিষ্কার, ক্ষণে ক্ষণে বদলেছে রং। শেষ পর্যন্ত শেষ হাসি হাসলেও কিংসের সেমিফাইনালের পথটা আগের মতোই
থাকছে সংকীর্ণ।
ষষ্ঠ মিনিটেই এগিয়ে গিয়েছিল কিংস। বাম দিক থেকে নুরুল নাঈম ফয়সালের ক্রসে উজবেক ফরোয়ার্ড বখতিয়ার দুইশবেখভের ব্যাক হেড ডান পায়ে রিসিভ করে বাম পায়ের ভলিতে জালে জড়ান লেবানিজ স্ট্রাইকার মোহাম্মদ জালাল কদৌহ। ২৪ মিনিটে সূত্রপাত ঘটে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার। ইমন বাবু ফাউল করে ফেলে দেন চার্লস আনন্দরাজকে। তার কয়েক মিনিট আগে চেন্নাই এফসির পেনাল্টির একটি যৌক্তিক দাবি রেফারি বাতিল করে দেন। এবারও রেফারিকে কার্ড না দিতে দেখে উত্তেজিত হয়ে পড়েন চেন্নাইয়ের ফুটবলাররা। রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়ান চেন্নাইয়ের জাপানি মিডফিল্ডার কাতসুমি ইউসা। মেজাজ হারিয়ে এই জাপানি এক পর্যায়ে মাঠের বাইরে বেরিয়ে এসে চতুর্থ অফিশিয়ালের টেবিল লাথি দিয়ে ভেঙে ফেলেন এবং রেফারিকে মারতে যান। এই ঘটনার সমাধান হয় প্রথমে বেঁকে বসা চেন্নাই খেলতে রাজি হওয়ায়। কাতসুমিকে দেখতে হয় লালকার্ড।
১২ মিনিট পর খেলা ফের শুরু হলেও ১০ জনের দলে চেন্নাইয়ের বিপক্ষে সেভাবে গুছিয়ে আক্রমণ করতে পারছিল না কিংস। উল্টো ৪৩ মিনিটে গোল খেতে হয় তাদের। মাঝমাঠ থেকে চার্লসের বাড়ানো বল দখলের লড়াইয়ে কিংস ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষকে ছিটকে ফেলে জালে শট নেন ফরোয়ার্ড মাশুর শেরিফ। তার শট কিংস গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো ঠেকিয়ে দিলেও স্প্যানিশ স্ট্রাইকার জেভিয়ার পেদরোর প্লেসিং রুখতে পারেননি। যোগ করা সময়ে আরেকটি ফাউলকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি ফের ঘোলাটে হয়েছে। যার সমাপ্তি কিংস কোচ অস্কার ব্রæজন আর চেন্নাই কোচ আকবর নাওয়াজের লালকার্ড দেখার মাধ্যমে। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৯ মিনিটে লিড পুনরুদ্ধার করেছে কিংস। ডান প্রান্ত থেকে কলিনদ্রেসের ক্রসে বখতিয়ারের হেড রুখতে পারেননি চেন্নাই গোলরক্ষক গার্সিয়া সান্তানা। ৬৯ মিনিটে ৯ জনের দলে পরিণত হয় চেন্নাই। এবার কলিনদ্রেসকে জোড়া পায়ে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় স্প্যানিশ ডিফেন্ডার রবার্তো সুয়ারেজকে। তাতেও লাভ হয়নি কিংসের। উল্টো দু’মিনিট পর কিংস গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকোর হাস্যকর ভুলের সুযোগে দলকে সমতায় ফিরিয়েছেন মাশুর শেরিফ। তবে ৮৮ মিনিটে কলিনদ্রেসের বানিয়ে দেওয়া আক্রমণের সফল পরিণতি দিয়ে জালাল কদৌহ কিংসের জয় নিশ্চিত করেন।
ম্যাচ শেষে চেন্নাইয়ের সহকারী কোচ সত্যায়া সাগারা শ্রীলঙ্কান রেফারি লাকসামের বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ তোলেন। ‘রেফারি আমাদের কাতসুমিকে উদ্দেশ্য করে বর্ণবাদী কথা বলেছেন। তিনি তাকে চাইনিজ বলে সম্বোধন করেছেন। যা আবেগপ্রবণ কাতসুমিকে উত্তেজিত করে তোলে এবং সে মেজাজ হারিয়ে ফেলে। আশা করব রেফারির বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করে দেখবে ফেডারেশন।’ রেফারি নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও তা আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করেননি কিংসের সহকারী কোচ মাহবুব হোসেন রক্সি। বরং ঘটনাবহুল এই ম্যাচ থেকে তিন পয়েন্ট পাওয়াতেই স্বস্তি খুঁজেছেন তিনি।
দিনের শেষ ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করেছে ‘বি’ গ্রæপের অপর দু’দল তেরেঙ্গানু এফসি এবং গোকুলাম কেরালা এফসি। সুবাদে দু’দলেরই সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট করে।