বোরহানউদ্দিনে মহানবীকে (সা.) নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্যের জেরে পুলিশের সঙ্গে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে একদল লোকের সংঘর্ষে চারজন নিহতের প্রেক্ষাপটে ভোলায় সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের পূর্বঘোষিত দোয়া ও মোনাজাত কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বেলা ৩টায় ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ কর্মসূচি পালনের কথা থাকলেও জেলা প্রশাসনের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে আগের দিন রাতেই তা স্থগিত করা হয়।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জনসমাগম ঠেকাতে গতকাল ভোর থেকেই ভোলার সবকটি রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় জেলা প্রশাসন। এছাড়া ভোলা-বরিশাল নৌরুটে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মুসলিম ঐক্য পরিষদ ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দোয়া ও মোনাজাত কর্মসূচি পালনে জেলা প্রশাসনের কাছে অনুমতি চাইলে বৃহস্পতিবার রাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে জেলায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে শুক্রবার সকাল থেকে শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও কোস্টগার্ড সদস্য মোতায়েন করা হয়। এদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
কর্মসূচি স্থগিতের ব্যাপারে জানতে চাইলে সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সদস্য সচিব মাওলানা মিজানুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঐক্য পরিষদের দেওয়া ছয় দফা দাবি নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। এখনো আলোচনা চলমান। যেহেতু আন্দোলন ও আলোচনা একসঙ্গে চলতে পারে না তাই আমাদের দেওয়া ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম স্থগিত করা হয়েছে। তবে এখানেই শেষ নয়। যদি প্রশাসন আমাদের ছয় দফা না মেনে নেয় তাহলে জাতীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে আরও কঠোর থেকে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।’
অন্যদিকে ভোলার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, ‘তাদের (সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদ) কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় কিছুটা উত্তেজনা রয়েছে। তাই জনগণের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।’
এর আগে গত সোমবার থেকে জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম সিদ্দিক জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।
ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গত রবিবার বোরহানউদ্দিনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক যুবকের বিচারের দাবিতে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে বিক্ষোভ থেকে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্য নামে ওই যুবকের হ্যাক হওয়া আইডি থেকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার বক্তব্য ছড়ানোর ঘটনা থেকে এ পরিস্থিতির সূত্রপাত। একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে চারজন নিহত হন। নিহত চারজনকে নিজেদের কর্মী-সমর্থক বলে দাবি করেছে তৌহিদী জনতা। সংঘর্ষে পুলিশের ১০ সদস্যসহ দেড় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।