আশ্বিনে দুর্গাপূজা শেষ হতেই হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা কালীপূজার শুরুতে দীপাবলীর উৎসব আয়োজনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। দেবীর আগমনীতে আশীর্বাদ পেতে দীপাবলির রাতে তাই বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে প্রায় সর্বত্র প্রদীপ জ¦ালানোর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে যায় কয়েক দিন আগে থেকেই।
এই আড়ম্বরতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় বরিশাল নগরের মহাশ্মশানে। কথিত আছে, উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ শ্মশান দীপাবলী হয় বরিশালে। ২০০ বছরেরও আগে থেকে চলা এই উৎসবে যোগ দিতে দেশ-বিদেশে থাকা স্বজন ছাড়াও পর্যটকরা আসেন বরিশালে। আজ শনিবার সন্ধ্যায় প্রদীপের আলোতে আলোকিত হবে পুরো মহাশ্মশান এলাকা।
বরিশাল শহরের কাউনিয়া এলাকায় প্রায় ছয় একর জমির ওপর ওই মহাশ্মশান। পাঁচ লাখেরও বেশি মোমবাতি ও প্রদীপের আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে ৬০ হাজার সমাধি মন্দির। সন্ধ্যায় হাজার হাজার নারী-পুরুষ শ্মশানে স্বজনদের সমাধিতে প্রদীপ জে¦লে তাদের আত্মার শান্তি কামনা করেন। প্রিয় স্বজনদের পছন্দের খাবার সাজিয়ে দেন সমাধি মন্দিরের পাদদেশে।
গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, শ্মশানের সমাধি মন্দিরগুলো ধুয়েমুছে নানান রঙে সাজানো হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও চলছে সমাধি মন্দির রঙিন করার কাজ। মহাশ্মশান রক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে নিরাপত্তায় বসানো হয়েছে সিসি (ক্লোজ সার্কিট) ক্যামেরা।
স্থানীয় প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মানবেন্দ্র বটব্যাল বলেন, বাবা-ঠাকুরদার আমল থেকে এই শ্মশানে দীপাবলি দেখে আসছি। ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসছে এ উৎসব। আমাদের জানামতে, ভারতসহ এশিয়ার আর কোথাও এক স্থানে এতসংখ্যক সমাধি মন্দির নেই। তাই ওইসব দেশে বড় আয়োজনও নেই। এটা এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে বড় আয়োজন বলেই জেনে আসছি।
বরিশাল মহাশ্মশান রক্ষা কমিটির সভাপতি মানিক মুখার্জি জানান, এই শ্মশানে ৫০ হাজার পাকা সমাধি মন্দির রয়েছে। কাঁচা সমাধি আছে প্রায় ১০ হাজারের বেশি। মুক্তিযোদ্ধা এবং শিশুদের জন্য পৃথক সংরক্ষিত স্থান রয়েছে। উৎসবকে কেন্দ্র করে দুদিনের মেলাও বসে শ্মশান এলাকায়। তিনি আরও জানান, মহাশ্মশানে থাকা ৮০০ সমাধি মন্দিরের কোনো স্বজনদের ঠিকানা পাওয়া যায়নি। ওই সমাধিগুলো পরিচ্ছন্ন এবং প্রদীপ জ¦ালানোর দায়িত্ব পালন করে শ্মশান রক্ষা কমিটি। হলুদ রং দিয়ে ওই মন্দিরগুলো পৃথক করা হয়েছে। আয়োজনকে ঘিরে প্রশাসনের নিরাপত্তার পাশাপাশি নিজস্ব কর্মীরাও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন।