বাড়ির ছাদ বা আঙিনায় স্বল্প পুঁজিতে মাছ চাষের নতুন প্রযুক্তি বায়োফ্লক নিয়ে কাজ করছেন রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকোয়াকালচার বিভাগের একদল গবেষক। ড্রাম কিংবা ট্যাংকিতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছ চাষে কাজ করছেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়টির কৃষি অনুষদের ছাদে তৈরি করা হয়েছে বায়োফ্লক ল্যাবও।
গবেষকরা জানান, বায়োফ্লক হলো এমন এক পদ্ধতি যেখানে উপকারী ব্যাকটেরিয়া অ্যামোনিয়া থেকে একক প্রোটিন তৈরি করে; যা মাছ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। এতে করে পুকুরে অপকারী পরজীবী তৈরি হয় না আর মাছের খাবারের খরচও কমে যায়। সনাতন পদ্ধতিতে যেখানে ১০টি মাছ চাষ করা যায়, সেখানে এ পদ্ধতিতে ৩০টি পর্যন্ত মাছ চাষ করা সম্ভব। এই প্রযুক্তি পানিতে বিদ্যমান কার্বন ও নাইট্রোজেনের সাম্যবস্থা নিশ্চিত করে পানির গুণাগুণ বৃদ্ধি ও ক্ষতিকর জীবাণু নিয়ন্ত্রণ করে।
গবেষক দলের প্রধান ড. এ এম সাহাবউদ্দিন বলেন, বায়োফ্লক প্রযুক্তি মাছ চাষের একটি পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি, যা ক্রমাগতভাবে পানিতে বিদ্যমান পুষ্টি উপাদানগুলোর পুনঃব্যবহার নিশ্চিত করে। এ পদ্ধতিতে খাবার কম লাগে, রোগের প্রাদুর্ভাব কম হয়। অল্প জায়গায় বেশি পরিমাণ মাছ চাষ করে অধিক মুনাফা অর্জন করা যায়। প্রশিক্ষণ থাকলে এ পদ্ধতিতে যে কেউ বাড়ির উঠানে বা ছাদে ৩০ থেকে ৪০টি ট্যাংকে সহজেই মাছ চাষ করতে পারবেন।
তিনি বলেন, এ পদ্ধতিতে তেলাপিয়া, রুই, শিং, মাগুর, পাবদা, ট্যাংরা, চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শহরের বাড়িতেই চাষ করা যায়।
গবেষণাটি ছড়িয়ে দিতে পারলে তা দেশে মাছ চাষে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ভূমিকা পালন করবে বলে আশা গবেষকদের।