দিনাজপুরে দু’দিন ধরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আর হালকা বাতাসে পাকা ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বাতাসের কারণে অনেক জমির পাকা ধান মাটিতে নুইয়ে পড়েছে। এতে দিনাজপুরের বেশির ভাগ কৃষক এবার ধান চাষ করে ক্ষতির সম্মুখীন হবেন বলেও একাধিক কৃষক জানিয়েছেন।
শনিবার সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন উপজেলার ধানক্ষেত ঘুরে এমনই চিত্র চোখে পড়ে। কৃষকেরা জানান, গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার সারা দিনরাত গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আর হালকা বাতাসের কারণেই পাকা আধা পাকা ও কাঁচা ধান জমিতে শুয়ে পড়েছে।
জেলার খানসামা উপজেলার ধান চাষি মো. মিজানুর রহমানের এক বিঘা জমির আধা পাকা ধান মাটিতে শুয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ‘গত দুদিন ধরে সামান্য বৃষ্টি আর হালকা বাতাসের কারণেই আমার এক বিঘা জমির ধান মাটিতে একেবারে শুয়ে গেছে। এই জমি থেকে ধান ঘরে তোলার কোনো ব্যবস্থা নেই।’
সদর উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের আজিজুল হক (৬৫) বলেন, ‘আমার ৬ বিঘা জমির ধান বৃষ্টি আর বাতাসের কারণে একদম মাটির সাথে মিশে গেছে। আধা পাকা ধানগুলো জমিতে এভাবে পড়ে যাওয়ায় যতটুকু থাকবে ততটুকু কাটাও সম্ভব হবে না।’
একই এলাকার মো. সামিউল ইসলামকে দেখা যায় পড়ে যাওয়া ধানগুলোকে দাঁড় করিয়ে কয়েকটা গাছ এক সঙ্গে বেঁধে দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘সব তো পড়েই গেছে! তারপরেও চেষ্টা করছি কয়েকটা ধানের গাছকে এক সাথে করে বেঁধে দেওয়ার। যদি একটু হলেও ধান পাওয়া যায়। কারণ এই ধানের উপরই আমাদের জীবন নির্ভর করে। ধান না থাকলে আমরা খাব কি?’
এছাড়া চিরিরবন্দর, বীরগঞ্জ, কাহারোল, বিরল, বোচাগঞ্জসহ অন্যান্য উপজেলাতেও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আর হালকা বাতাসের কারণে পাকা আধা পাকা ও কাঁচা ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানান কৃষকেরা।
খানসামা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যারা আগাম ধান লাগিয়েছিলেন তারা ইতোমধ্যে ধান কেটে ফেলেছেন। বাকি যে জমিগুলোতে ধান আছে সেগুলোর মধ্যে পাকা আধা পাকা ও কাঁচা ধানও আছে। বাতাসে ধান হেলে পড়লেও বর্তমানে ধানের দানা পরিপক্ব হবার কারণে ক্ষতির সম্ভাবনা খুব একটা নেই বলেও জানান তিনি।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. তৌহিদুল ইকবাল বলেন, ‘আমরা গোটা জেলার সব উপজেলাতেই মাঠ পর্যায়ে সার্ভে করছি। দুয়েক দিনের মধ্যেই জানা যাবে কি পরিমাণ ধানের ক্ষতি হতে পারে। তবে আকাশ ভালো থাকলে এবং জমিতে পানি জমে না থাকলে ক্ষতির পরিমাণ অনেকাংশে কমে যাবে।’