চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের অনার্স প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা রবিবার থেকে শুরু হতে হচ্ছে।
পাঁচ দিন ব্যাপী এই ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেবেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬৭০ পরীক্ষার্থী। এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮টি বিভাগ, পাঁচটি ইনস্টিটিউটের ৪ হাজার ১৮৯টি সাধারণ ও ৭৩৭টি কোটা আসনের জন্য চারটি ইউনিট ও দুটি উপ ইউনিটে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় রুটে বিশেষ ৩ জোড়া শাটল ও ডেমু ট্রেন মোট ২২ বার যাতায়াত করবে। এছাড়া বিশাল এই ভর্তি উৎসবকে ঘিরে ক্যাম্পাস জুড়ে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ নানা পদক্ষেপ নানা ধরনের পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে চবি কর্তৃপক্ষ।
‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা দিয়ে শুরু ভর্তি উৎসব
রবিবার কলা ও মানববিদ্যা অনুষদভুক্ত ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শুরু হবে চবি ভর্তি উৎসব। এবছর ‘বি’ ইউনিটের ১ হাজার ২২১টি আসনের বিপরীতে আবেদন পড়েছে ৪২ হাজার ৪টি। এই ইউনিটে প্রতি আসনের বিপরীতে ভর্তির জন্য লড়বেন ৩৪ জন।
বি ইউনিটের পরীক্ষা সকাল ও বিকেল দুটি শিফটে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা সকাল ১১টা থেকে শুরু হলেও পরীক্ষার্থীদের সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার আকবর হোসাইন বলেন, এ বছর চারটি ইউনিট ও দুটি উপ ইউনিটে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ ভিত্তিক ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২৭ অক্টোবর, সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ ভিত্তিক ‘ডি’ ইউনিটের পরীক্ষা ২৮ অক্টোবর, বিজ্ঞান অনুষদ ভিত্তিক ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষা ২৯ অক্টোবর এবং ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ভিত্তিক ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা হবে ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া উপ ইউনিট ‘বি-১” এবং ‘ডি-১’ ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ভর্তি সংক্রান্ত সব ধরনের তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট (http://admission.cu.ac.bd) থেকে জানা যাবে।
২২ বার যাতায়াত করবে তিন জোড়া শাটল ও ডেমু ট্রেন
চট্টগ্রাম শহর থেকে ভর্তি পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য প্রতিবছরের মতো বিশেষ শাটল ট্রেনের ব্যবস্থা করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ বছর ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন (২৭-৩১ অক্টোবর) দুই জোড়া শাটল ট্রেন এবং এক জোড়া ডেমু ট্রেন মোট ২২ বার বিশ্ববিদ্যালয় রুটে যাতায়াত করবে। তবে এবার তিন দফা পরিবর্তনের পর শাটল ট্রেনের চূড়ান্ত সময়সূচি প্রকাশ করে চবি কর্তৃপক্ষ। ফলে সময়সূচি নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) প্রণব মিত্র চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের প্রস্তাবিত সময়সূচি ভুলক্রমে প্রকাশিত হয়ে গেছে। আমরা আইসিটি সেলকে চূড়ান্ত সময়সূচি প্রকাশ করতে বলেছি। আর পূর্বে প্রকাশিত সময়সূচি মুছে ফেলার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। নতুন এ সময়সূচি ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন কার্যকর থাকবে।
নতুন সময়সূচিতে চট্টগ্রাম নগরীর বটতলী স্টেশন থেকে সকাল ৬ টায়, সাড়ে ৬ টায়, সোয়া ৮টায়, পৌনে ৯টায়, সোয়া ৯টায় (ডেমু), ১১টা ৪০ মিনিট, বেলা ১২টায়, দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে (ডেমু), বিকেল ৩টায়, ৪টায় এবং রাত সাড়ে ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে ট্রেন ছেড়ে যাবে। একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে সকাল ৭ টা ৫ মিনিটে, ৭টা ৩৫ মিনিটে, ৯টা ২০ মিনিটে, ১০ টায়, সাড়ে ১০টায় (ডেমু), দুপুর ১টায়, দেড়টায়, বিকেল ৩টায় (ডেমু), ৫টায়, সাড়ে ৫টায় এবং রাত ৯ টা ১০ মিনিটে চট্টগ্রাম নগরীর বটতলী স্টেশনের উদ্দেশ্যে ট্রেন ছেড়ে যাবে।
র্যাগিং ও প্রক্সি বন্ধে থাকবে বিশেষ টিম
এ বছর ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষার হলে ভুয়া পরীক্ষার্থী শনাক্ত এবং পরীক্ষায় জালিয়াতি ঠেকাতে কাজ করবে অ্যান্টি প্রক্সি ইউনিট। ভর্তি জালিয়াতি বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতও থাকবে বলে জানিয়েছে চবি প্রশাসন। এছাড়া সব ধরনের র্যাগিং বন্ধে ইতিমধ্যে অ্যান্টি র্যাগিং ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ভর্তিচ্ছুরা ওয়েবসাইটে তাদের সকল অভিযোগ জানতে পারবেন। পাশাপাশি অভিযোগের অগ্রগতি সম্পর্কেও জানতে পারবেন। এ বিষয়ে চবি প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) প্রণব মিত্র চৌধুরী বলেন, ভর্তিপরীক্ষা চলাকালীন আমাদের অ্যান্টি প্রক্সি টিম ও অ্যান্টি র্যাগিং টিম কাজ করবে। পাশাপাশি কোন শিক্ষার্থী অসদুপায় অবলম্বন করলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।
নিষিদ্ধ নেকাব ও লাগবে না সত্যায়িত
এ বছর ভর্তিপরীক্ষার কোন কিছু সত্যায়িত করার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে জালিয়াতি বন্ধে হিজাব-নেকাব নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিবারের মতো পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন, ঘড়ি এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস ডিভাইস নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার আকবর হোসাইন বলেন, প্রতিবছর সত্যায়িত করা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ঝামেলা পোহাতে হয়, তাই এবার তা বাদ দেওয়া হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে চবি উপাচার্য (দায়িত্বপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. শিরিন আখতার বলেন, আসন্ন ভর্তি উৎসবকে সফল করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ সময় যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা, অসদুপায় ও গুজব সন্ত্রাস বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করছে। ভর্তি পরীক্ষার উপলক্ষে আগত পরীক্ষার্থী অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের যেন কোন ধরনের ভোগান্তি না হয় সেদিকে চবি প্রশাসন সজাগ দৃষ্টি রাখবে।