উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলামের অপসারণ দাবিতে টানা আন্দোলনে অচল হয়ে পড়েছে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম।
শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের চলমান ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি আজ বুধবার (২০ মে) দশম দিনে গড়িয়েছে।
সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় উপাচার্য, রেজিস্ট্রারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে তালা ঝুলতে দেখা যায়। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। জরুরি নথিপত্র ও শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সেবা ব্যাহত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
প্রশাসনিক ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জহিরুল ইসলাম, ডেপুটি রেজিস্ট্রার আবু বকর ছিদ্দিক, সহকারী রেজিস্ট্রার শহিদুল ইসলাম, পবিপ্রবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা জনি, শিক্ষার্থী মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও আবদুল্লাহ নাহিদসহ অন্যরা।
আন্দোলনকারীরা জানান, উপাচার্যের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে। আন্দোলন শুরুর পর থেকেই উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করছেন বলেও দাবি করেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষক-কর্মকর্তাদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে প্রশাসনের অভ্যন্তরে বিরোধ তৈরি হয়। পরে তা প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে রূপ নেয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, প্রশাসনে স্বচ্ছতার অভাব, টেন্ডার ও উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম এবং মতবিরোধ হলেই চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।
সম্প্রতি আন্দোলনরত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা বাদী হয়ে ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পবিপ্রবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা জনি বলেন, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে পক্ষপাতিত্ব এবং উন্নয়ন কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও উপাচার্যের অপসারণ দাবি করেন তিনি।
তবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের অনিয়ম আড়াল করতে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
‘আওয়ামী লীগ ব্যাক করেনি, তারা ছিলই’