গাইবান্ধার সাঘাটা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের কম্পিউটারসহ অন্যান্য মালামাল চুরির অভিযোগে অধ্যক্ষের টাকার চাপে নিরাপত্তা প্রহরী ভাদু বিশ্বাস (৬২) গতকাল রবিবার ভোরে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের।
ভাদু বিশ্বাসের বাড়ি সাঘাটা উপজেলার ঘুরিদহ ইউনিয়নের যাদুরতাইড় গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের পূর্ণচন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে।
তবে থানার ওসি বলছেন, ভাদু বিশ্বাস হঠাৎ করে রবিবার মারা গেছেন। এ ঘটনায় ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ লাশ উদ্ধার করেনি, হয়নি মামলাও।
ভাদু বিশ্বাসের স্ত্রী ও মেয়ের অভিযোগ, গত শুক্রবার নিরাপত্তা প্রহরী ভাদু বিশ্বাস অসুস্থ থাকায় যাদুরতাইড় গ্রামের সাঘাটা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজে রাত্রি যাপন করেননি। ফলে ওই রাতে কলেজটির দুটি কম্পিউটারসহ অন্যান্য মালামাল চুরি যায়। পরদিন শনিবার চুরির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কলেজটির অধ্যক্ষ নওয়াব আলী সাজু ভাদু বিশ্বাসকে সন্দেহ ও সাঘাটা থানায় একটি অভিযোগ করেন।
এ ঘটনার তদন্ত করতে এসআই মোশারফ হোসেন ভাদু বিশ্বাসকে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে অধ্যক্ষ নওয়াব আলী সাজু থানা থেকে নিজের জিম্মায় নিয়ে গিয়ে ভাদু বিশ্বাসকে তার বাড়িতে রেখে যান ও চুরি হয়ে যাওয়া ল্যাপটপ, কম্পিউটারসহ অন্যান্য মালামালের দাম বাবদ তিন লাখ টাকা দাবি করে রবিবার সকালের মধ্যে টাকা বুঝিয়ে দিতে চাপ প্রয়োগ করেন। রবিবার সকালের মধ্যে টাকা না দিলে চুরির অপরাধে তাকে জেলে পাঠানোর হুমকি দিয়ে ভয়ভীতিও দেখান অধ্যক্ষ। এতে ভয়ে ও চুরির অপবাদ সইতে না পেরে রবিবার ভোররাতে নিজ ঘরে ভাদু বিশ্বাস আত্মহত্যা করেছেন বলে তার স্ত্রী ও মেয়ে অভিযোগ করেছেন। তবে অধ্যক্ষ টাকা চাওয়ার দাবি অস্বীকার করেছেন।
ওই গ্রামের ইউপি সদস্য আনিছুর রহমান বলেন, ভাদু বিশ্বাসের পরিবর্তে তার ছেলে চাকরি করবেন। রবিবার সকালে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। সাঘাটা থানার ওসি বেলাল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, লোকমুখে ভাদু বিশ্বাসের মৃত্যু ও শেষকৃত্য সম্পন্নের কথা শুনেছি। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার থেকে কেউ অভিযোগ দেয়নি। তাই লাশের ময়নাতদন্ত ও মামলা হয়নি।