মন্ত্রিসভা বৈঠক

২০২০ সালের ছুটির তালিকা অনুমোদন হবে আজ

আগামী বছরের ছুটির তালিকা মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করা হবে আজ সোমবার। খসড়া তালিকা অনুযায়ী, ২০২০ সালে সাধারণ ছুটি ১৪ দিন ও নির্বাহী আদেশে ছুটি ৮ দিন। মোট ২২ দিন সাধারণ ও নির্বাহী আদেশের ছুটি হলেও এর মধ্যে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি রয়েছে ৮ দিন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক হবে। ছুটির তালিকা অনুমোদনের পর তা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে। এরপরই ২০২০ খ্রিস্টাব্দের ক্যালেন্ডার ছাপানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। সরকারি ক্যালেন্ডারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা সরকারি ছুটি অনুসরণ করে ক্যালেন্ডার ছাপিয়ে থাকে।

২০২০ সালের সরকারি ছুটির তালিকা প্রস্তুত করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বাংলা একাডেমি প্রণীত ১৪২৬-২৭ বঙ্গাব্দের তারিখ সংবলিত বর্ষপঞ্জি, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন ধর্মীয় পর্বের তালিকা, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং আরবি প্রত্যেক মাসের ১ ও ইসলামি পর্বগুলো তালিকার সঙ্গে সমন্বয় করে ২০২০ সালের ছুটির খসড়া তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে।

খসড়া তালিকা অনুযায়ী, ইসলামি পর্বের শবেবরাত ৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার, শবেকদর ২১ মে বৃহস্পতিবার, ঈদুল ফিতর ২৫ মে সোমবার, ঈদুল আজহা ১ আগস্ট শনিবার, আশুরা ৩০ আগস্ট রবিবার, ঈদে মিলাদুন্নবী ৩০ অক্টোবর শুক্রবার উদযাপন করা হবে।

বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দিবসের ছুটি সাধারণ ছুটির অন্তর্ভুক্ত। এ ছুটির মধ্যে সাতটি সাপ্তাহিক ছুটির দিন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি শুক্রবার ও দুটি শনিবার। বাংলা নববর্ষ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দিবস উপলক্ষে আট দিন নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি থাকবে। নির্বাহী আদেশে ছুটির মধ্যে এক দিন সাপ্তাহিক ছুটি (শুক্রবার) রয়েছে। সাধারণ ছুটি ও নির্বাহী আদেশের ছুটি ২২ দিন হলেও সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনিবারের কারণে এই ছুটি কার্যত ১৪ দিন।

ধর্মীয় পর্ব উপলক্ষে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের তিন দিনের ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করার সুযোগ রয়েছে। একইভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকা ও এর বাইরে কর্মরত বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত কর্মচারীদের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈশাবী বা অনুরূপ সামাজিক উৎসব উপলক্ষে দুদিনের ঐচ্ছিক ছুটির বিধান রয়েছে।

মন্ত্রিসভা বৈঠকে ২০২০ সালের ছুটির তালিকা অনুমোদন ছাড়াও গাজীপুর উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ আইনের চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদন হবে আজ। এর আগে আইনটির নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। খসড়া আইনে কর্র্তৃপক্ষকে মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। নৌ, বিমান, রেল, সড়ক ও মহাসড়কে যান চলাচলের প্রকৃতি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করবে এই কর্র্তৃপক্ষ। পানি সরবরাহ, সংরক্ষণ, পয়ঃপ্রণালি, পয়ঃনিষ্কাশনের কর্র্তৃত্ব থাকবে গাজীপুর উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষের হাতে। বিভিন্ন সরকারি অফিস, বেসরকারি সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সেবাকেন্দ্র, শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র, উদ্যান, উন্মুক্ত স্থান, জলাশয়, বিনোদন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য পরিচর্যা কেন্দ্র, বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্র, খেলার মাঠ ও হাসপাতালের জন্য ভূমি সংরক্ষণ করার কাজ করবে গাজীপুর উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ। আবাসিক, বাণিজিক ও শিল্প এলাকার অবস্থান নির্ধারণ করবে এই কর্র্তৃপক্ষ। আধুনিক নাগরিক সুবিধার জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কাজও করবে গাজীপুর উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ।

এই সিটির জন্য মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন, সংশোধন বা পরিবর্তন গেজেট প্রকাশিত হওয়ার আগে বা পরে এই সম্পর্কে কোনো আদালতে মামলা করা যাবে না। কর্র্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া আওতাভুক্ত এলাকায় কোনো ইমারত নির্মাণ করা যাবে না। আইনটির বিভিন্ন ধারা অমান্য করলে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে খসড়া আইনে।