‘বিতর্কিতদের’ নিয়েই চলছে ছাত্রলীগ

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর পাঁচ মাস পেরোলেও ‘বিতর্কিতদের’ নিয়ে জটিলতার এখনো সুরাহা হয়নি। এরই মধ্যে চাঁদাবাজির অভিযোগসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য পদ হারিয়েছেন সংগঠনটির শীর্ষ দুই নেতা রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানী। ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন আল নাহিয়ান খান জয় ও লেখক ভট্টাচার্য। তবে নেতৃত্ব বদল হলেও এখনো ‘বিতর্কিতদের’ নিয়েই চলছে ছাত্রলীগের কার্যক্রম। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বলছেন, বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা আশ্বাস দিলেও এ সমস্যা কাটেনি।

ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন হয় ২০১৮ সালের ১১ ও ১২ মে। সম্মেলনের আড়াই মাস পর গত বছর ৩১ জুলাই শোভনকে সভাপতি ও রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করে সংগঠনের আংশিক কমিটি ঘোষিত হয়। এর প্রায় এক বছর পর গত ১৩ মে ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরদিন ‘বিতর্কিতদের’ বাদ দিয়ে কমিটি পুনর্গঠনের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেন পদপ্রত্যাশীরা। পরে গত ১৫ মে শোভন-রাব্বানীকে গণভবনে ডেকে নিয়ে কমিটি থেকে ‘বিতর্কিতদের’ বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওইদিন রাতেই ‘বিতর্কিত’ হিসেবে চিহ্নিত ১৬ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়ার কথা জানান ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। নির্দোষ প্রমাণের জন্য তাদের ২৪ ঘণ্টার সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়। তবে কেউ নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পেরেছেন কি না– পরবর্তী সময়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে সেটি আর জানানো হয়নি। এরপর গত ২৮ মে কমিটির ১৯টি পদ শূন্য ঘোষণা করে যাচাই-বাছাই শেষে সেগুলো পূরণের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে ওই ১৯ জনের নাম প্রকাশ করেনি ছাত্রলীগ। ‘বিতর্কিত’ ১৬ জনও তাদের মধ্যে আছেন কি না– সে বিষয়েও কিছু জানানো হয়নি।

এরপর গত ১৪ সেপ্টেম্বর চাঁদাবাজির অভিযোগসহ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য ছাত্রলীগের শীর্ষ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় শোভন ও রাব্বানীকে। ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান সংগঠনের ১নং সহসভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। ভারপ্রাপ্ত দুই নেতাকে স্বাগত জানিয়ে এরপর থেকে বিক্ষুব্ধ অংশটিকে সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দিতে দেখা যাচ্ছে।

‘বিতর্কিতদের’ বাদ দেওয়ার বিষয়ে এখনো আশাবাদী কমিটিতে পদপ্রত্যাশী বিক্ষুব্ধ অংশটি। তাদের মুখপাত্র ছাত্রলীগের বিগত কমিটির কর্মসূচি ও পরিকল্পনাবিষয়ক সম্পাদক রাকিব হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ছাত্রলীগের এ কমিটিতে বিভিন্ন বিতর্কিত ব্যক্তি জায়গা পেয়েছেন এটা সবাই অবগত। সংগঠনকে কলঙ্কমুক্ত করতে হলে সবার আগে বিতর্কিত যারা আছেন তাদের বাদ দিতে হবে। আমাদের মধ্যে যারা বঞ্চিত হয়েছি তাদের যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন করতে হবে এবং অতি শিগগিরই তা বাস্তবায়ন করতে হবে। এটা নিয়ে আমরাও আর টালবাহানা শুনতে চাই না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্রলীগের পদচ্যুত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে একাধিকবার দেখা করেছি। সংগঠনকে কীভাবে বিতর্কমুক্ত করা যায় সে ব্যাপারে আলোচনা করেছি এবং তাদের সব ধরনের সহযোগিতার কথা বলেছি। কিন্তু তাদের গোঁয়ার্তুমির কারণে সংগঠন তখন বিতর্কমুক্ত হয়নি। তবে এখনকার নতুন নেতৃত্বের কাছে আমাদের দাবি, এ বিষয়টি সর্বোচ্চ আমলে নিয়ে অতি দ্রুত সংগঠন থেকে বিতর্কিতদের বিতাড়ন করবে।’

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব গ্রহণকালেই বলেছি যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে নাম প্রকাশ করব। তবে আগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এখনো বিতর্কিত ১৯ জনের নাম আমাদের কাছে দেননি। খুব তাড়াতাড়ি সেই বিতর্কিতদের পদ বাতিল করতে পারব বলে আমরা আশা করছি।’