স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য মায়া বেগমকে (২৫) প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত। এই নির্যাতনের খবর সময়ে সময়ে পৌঁছাত তার বাবার বাড়িতেও। তাই মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে প্রায় দুই মাস আগে জামাইকে যৌতুক হিসেবে চারটি গরু দেন মায়ার বাবা-মা।
কিন্তু এতকিছুর পরও বাঁচতে পারলেন না ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মায়া বেগম। মঙ্গলবার স্বামীর বাড়িতে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বাবার বাড়ির লোকজন দাবি করেছেন, মায়াকে হত্যা করে লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। লাশ উদ্ধারকারী পুলিশ কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, মায়ার মরদেহের পা মাটিতে লাগানো অবস্থায় ছিল। মায়া বেগম সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কাদিপুর গ্রামের সজ্জাদ মিয়ার (৩৫) স্ত্রী এবং সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার জয়দা গ্রামের আনা মিয়ার মেয়ে। মায়ার মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বামী সজ্জাদ মিয়া ও শ্বশুর নজির মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ।
মায়া বেগমের মামা কালাম মিয়া দেশ রূপান্তরকে জানান, প্রায় সাত বছর আগে সজ্জাদ মিয়ার সঙ্গে মায়ার বিয়ে হয়। তাদের পাঁচ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে এবং মৃত্যুর সময় ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন মায়া।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কালাম মিয়া বলেন, ‘যৌতুকের জন্য স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রায়ই মায়াকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত। তাই মেয়ের সুখ-শান্তির কথা চিন্তা করে প্রায় দুই মাস আগে মায়ার স্বামীকে যৌতুক হিসাবে চারটি গরু দেওয়া হয়। কিন্তু এত কিছুর পরও আমার ভাগ্নিকে বাঁচতে দিল না পাষণ্ডরা। গর্ভের ৯ মাসের সন্তানসহ মায়াকে তারা হত্যা করেছে। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
মায়ার মামা আরও জানান, দুপুরে মায়ার শ্বশুরবাড়ির লোকজন মোবাইল ফোনে কল করে দ্রুত তাদের বাড়িতে যেতে বলে। খবর পেয়ে তারা গিয়ে দেখেন, মায়ার নিথর দেহ ফ্যানের সঙ্গে বাঁধা। আর পা মাটিতে লেগে আছে। এরপর তারা ওসমানীনগর থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
মায়ার লাশ উদ্ধার ও সুরতহালকারী পুলিশ কর্মকর্তা ওসমানীনগর থানার এসআই শফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘লাশটি ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস লাগানো অবস্থায় থাকলেও পা মাটিতে ছিল। এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা ময়নাতদন্তের পরই বলা যাবে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মায়ার স্বামী ও শ্বশুরকে আটক করা হয়েছে।’
ওসমানীনগর থানার ওসি রাশেদ মোবারক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অন্তঃসত্ত্বা মায়া বেগমের মৃত্যুর ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার স্বামী ও শ্বশুরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এছাড়া মায়ার বাবার বাড়ির লোকজনের পক্ষ থেকে এজাহার পেলে মামলাসহ পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’