জমি কিনে দেয়ার শর্তে ঈশ্বরদী পাকুড়িয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী পদে নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষা নেয়া হবে বলে খবর পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সভাপতি ও লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মো. জিল্লুর রহমান এ কথা নিজেই জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী পদে চাকরির জন্য কোন টাকা নেয়া হবে না, তবে চূড়ান্ত প্রার্থীর কাছ থেকে স্কুলের ভবন নির্মাণের জন্য চার কাঠা করে জমি কিনের নেয়ার শর্তে বুধবার স্কুল শাখার দুজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী পদে চাকরির লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আর এ পরীক্ষায় মোট ১৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে এ সময় উপস্থিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক, গভর্নিং বডির সদস্য ও সাংবাদিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি পাকুড়িয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী পদের নিয়োগ নিয়ে আদালতে মামলা এবং মামলার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় তার প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
মো. জিল্লুর রহমান বলেন, যার যার চাকরি চূড়ান্ত হবে তার কাছ থেকে কোন নগদ টাকা নেয়া হবে না, তারা দুজন স্কুলের ভবন নির্মাণের জন্য ৪ কাঠা করে জমি কিনে দেবেন।
তিনি বলেন, ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীন ইসলাম তার চাচাতো ভাইকে ওই পদে নিয়োগ দেয়ার জন্য তার কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা নিয়ে আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। এতে আমরা অস্বীকৃতি জানালে সে মো. রশিদুল ইসলাম নামের অপর এক চাকরি প্রার্থীকে দিয়ে নিয়োগ বন্ধের জন্য পাবনার সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করান। পরবর্তীতে মামলার বাদী নিজেই তার ভুল বুঝতে পেরে মামলাটি প্রত্যাহার করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মামলার বাদী মো. রশিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শাহীন ইসলাম আমাকে ভুল বুঝিয়ে আদালতে মামলা করতে উৎসাহিত করেছিলেন। কিন্তু আমি আমার ভুল বুঝতে পেরে তা প্রত্যাহার করে নিয়েছি।
নিয়োগ কমিটির সদস্য ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. সেলিম আক্তার জানান, নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে টাকা নেয়াটা সম্পূর্ণ অবৈধ ও বিধি বহির্ভূত। তবে কেউ চাইলে জমি দান করতে পারেন, তবে নিয়োগ দেয়ার শর্তে জমি লিখে নেয়া যাবে না, এটা অন্যায়।