চ্যাম্পিয়ন হতে হলে চ্যাম্পিয়ন মানসিকতা থাকতে হয়

মারুফুল হকের মন্ত্রে উজ্জীবিত চট্টগ্রাম আবাহনী। শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা। মারুফুল যেন সীমিত সামর্থ্যের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে পাড়ি দিচ্ছেন কঠিন পথ। শিরোপা পুনরুদ্ধার করতে পারলেই তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতে চান প্রথম আসরের শিরোপাজয়ী দলের এই ‘অতিথি’ কোচ। দু-চারজন ছাড়া এই দলে বেশিরভাগই উঠতি খেলোয়াড়। অথচ একের পর এক ম্যাচে তারা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ রেখে পৌঁছে গেছে ফাইনালে। কাল হোটেলে নিজ কক্ষে বসে দেশ রূপান্তরের সুদীপ্ত আনন্দর কাছে দেশের একমাত্র উয়েফা ‘এ’ লাইসেন্সধারী কোচ বললেন কী করে বদলে দিয়েছেন দলটিকে–

যতটা জানি পুরো স্কোয়াড নিয়ে সেভাবে কাজ করতে পারেননি। তারপরও মাঠে কিন্তু আপনার দলটি প্রমাণ দিয়েই চলছে...

মারুফুল : শুরুতে একটা বার্তাই দিয়েছি খেলোয়াড়দের– চট্টগ্রাম আবাহনী যেহেতু প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়ন, পরেরবার পারেনি, তাই এবার আমরা শিরোপা জিততে চাই। আমার খুব কমন একটা স্টাইল আছে, যেটা এতদিন মিডিয়ার কেউ জানত না। সেটা হচ্ছে একজন খেলোয়াড়/টিম যদি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আগে মানসিকভাবে চ্যাম্পিয়ন না হতে পারে, তাহলে সে কখনো চ্যাম্পিয়ন হতে পারে না। ছেলেদের বলেছি মানসিকভাবে চ্যাম্পিয়ন হও। তারপর ট্যাকটিক্যালি চ্যাম্পিয়ন হও। যখন তুমি মানসিকভাবে চ্যাম্পিয়ন হবে তখন তোমার সবকিছুই বদলে যাবে। বারবার কল্পনা করতে করতে একটা সময় যেটা সত্যি হয়ে যাওয়া। আপনি যদি গার্ডিয়ানের রিপোর্টার হওয়ার স্বপ্ন দেখেন– দেখবেন একদিন হতে পারবেন।

কোচিংয়ে কোন জায়গাগুলোতে বেশি গুরুত্ব দেন?

মারুফুল : শুরু থেকেই মানসিক দিক নিয়ে কাজ করি আমি। এটা আমি শিখেছি ফ্রান্সের কাছ থেকে। ওরা কিন্তু ১৯৯৪ বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি। স্বাগতিক হিসেবে ৯৮-এর বিশ্বকাপে খেলেছে এবং চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ব্রাজিল যেদিন ৯৪-এর বিশ্বকাপ জিতে নিল সেদিনই একটা সভায় বসল ফ্রান্স জাতীয় দল। যেখানে হাজির করা হলো বিশ^কাপের একটা রেপিস্নকা। সেটা দেখিয়ে কোচ বললেন, এখন থেকে ভেবে নাও ৯৮ বিশ্বকাপ আমরাই জিতব। তুমিই চ্যাম্পিয়ন। হৃদয়ে বুনে দেওয়া এই ভাবনাটাই তাদের সত্যিকারের চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছে।

গ্রুপের ম্যাচগুলোতে বলেছিলেন দল ৭০ ভাগ দিয়েছে। গোকুলাম কেরালার বিপক্ষে সেমিফাইনালে চেয়েছিলেন ৮০ ভাগ। শিষ্যরা কতটা সন্তুষ্ট করেছে কোচকে?

মারুফুল : ৮০ ভাগ হচ্ছে মাঠের পারফরম্যান্স। কিন্তু সামর্থ্যের দিক থেকে বিবেচনা করলে ছেলেরা ১৫০ ভাগ দিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি তাদের আরও ৫০ ভাগ দেওয়ার ক্ষমতা আছে।

সেমিফাইনালের মতো ম্যাচে মাঝমাঠের দায়িত্ব দিয়েছিলেন মানিক মোল্লাকে। দারুণভাবেই সেই দায়িত্ব পালন করেছে এই তরুণ...

মারুফুল : ও আসলে এই পজিশনে আমার সেরা পছন্দ। এই পজিশনে পাওয়ার-রানিংয়ের পাশাপাশি বুদ্ধিরও প্রয়োজন হয়। যা ওর রয়েছে। আমি তো মনে করি এই পজিশনে ও-ই এখন দেশসেরা। সেমিফাইনালে দেখেছেন মানিকের কারণে জামাল ভুইয়ার কাজটা সহজ হয়েছে। ও অনেক মুক্ত থেকে আক্রমণে যোগ দিতে পেরেছে।

গোকুলাম প্রথমার্ধে ধারার বিপরীতে গোল করে এগিয়ে যায়। বিরতিতে খেলোয়াড়দের কাছে আপনার বার্তা কী ছিল?

মারুফুল : বিরতির সময় প্রথমার্ধের ভুলগুলো দেখিয়ে দেওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয়ার্ধের কিক-অফ নিয়ে একটা বিশেষ পরিকল্পনা ছিল প্রথম ১০ মিনিটে আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ার। আর মনস্তাত্ত্বিক কিছু কাজ করেছিলাম। বলেছিলাম, ইয়ং এলিফ্যান্টের বিপক্ষে প্রথমার্ধে কিন্তু তোমরা পিছিয়ে থেকে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছ। তোমরা জানো এই পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দিতে হবে। সেভাবেই খেলো।

এই দলটিতে তারকার ছড়াছড়ি নেই। তারপরও তারা ধারাবাহিক ভালো করছে। যাদের ঘিরে কৌশল সাজান তাদের সম্পর্কে কিছু বলুন।

মারুফুল : আসলে নির্দিষ্ট করে কেউ নেই। দলের তিন-চারজনকে ঘিরে পরিকল্পনা সাজানো হয়। নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন করা হয়। চিনেডz ম্যাথিউ, দিদিয়ের চার্লস, মানিক এবং জামাল– এরাই মূল অস্ত্র।

দলের ভালো দিক, মন্দ দিক?

মারুফুল : টিম বন্ডিং সবচেয়ে ভালো দিক। মনে হয় একটা সুখী পরিবারের মতো। আর মন্দ দিক এখনো চোখে পড়েনি।

এবারের আসরটা কেমন দেখছেন?

মারুফুল : আমি তিনটি আসরই তো দেখলাম। এ বছর অনেক শক্তিশালী দল এসেছে।  ম্যাচগুলো খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল।

ফাইনাল কেমন হবে?

মারুফুল : আমরা শিরোপার জন্যই খেলব ইনশাল্লাহ।