রকিবুল-লিপুর প্রতিক্রিয়া

খামখেয়ালির চরম মাশুল

ছোট ভুলের অনেক বড় মাশুল দিতে হলো সাকিব আল হাসানকে। ২০১৮ সালে চার মাসের মধ্যে তিনবার ম্যাচ গড়াপেটার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও তা কোনোবারই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কিংবা আইসিসির অ্যান্টি করাপশন ইউনিটকে জানাননি, যা আইসিসি’র নিয়মের স্পষ্ট লঙ্ঘন। সাকিবের নিষেধাজ্ঞা বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখছেন সাবেক ক্রিকেটাররা। তারা মনে করেন আইসিসি’র এই সিদ্ধান্ত কেবল সাকিব নয়, ক্ষতি করবে দেশের ক্রিকেটকে। পাশাপাশি তাদের বিশ্বাস এই শাস্তি সাকিবসহ সব ক্রিকেটারের জন্যই বড় এক শিক্ষাও।

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান হতাশ সাকিব নিষিদ্ধ হওয়ায়, ‘এটা ২০১৮ সালের ঘটনা। তখন সাকিবকে ম্যাচ গড়পেটার প্রস্তাব দিয়েছিল জয়াসুরিরা। সেটা সে প্রত্যাখ্যান করেছিল। কিন্তু নিয়ম আছে এরকম প্রস্তাব পেলে তাৎক্ষণিকভাবে জানানোর। সেটা  সে করেনি। আমার দুঃখ হলো সাকিব তো প্রতিদিন তৈরি হয় না। সাকিবের মতো উঁচুমানের খেলোয়াড়ের জন্ম হয় দশকে একবার। এটা সাকিবের জন্য যতটা খারাপ, ঠিক ততটাই দেশের ক্রিকেটের জন্য বড় ধাক্কা। তার মতো খেলোয়াড় এক বছর খেলতে না পারাটা বড় ক্ষতি। আমরা অবশ্যই ফিরে আসার জন্য পাশে থাকব।’ আকসুর বেঁধে দেওয়া আইনগুলো অজানা থাকার কথা নয় সাকিবের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের। ২০১০ সালেও একবার এরকম প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তাৎক্ষণিক বিসিবিকে জানিয়েছিলেন সাকিব। রকিবুলও অবাক হয়েছেন এবারে তার হেলাফেলা দেখে, ‘সাকিবের অবশ্যই এটা সম্পর্কে জানা থাকার কথা। কারণ গুরুত্বপূর্ণ সব টুর্নামেন্টের আগে আকসুর পক্ষ থেকে এ বিষয়গুলো নিয়মিত অবগত করা হয়। হয়তো ও এটাকে গুরুত্বই দেয়নি। এটাই ওর জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল।’

রকিবুলের মতো আরেক সাবেক অধিনায়ক গাজী আশরাফ লিপুও মর্মাহত সাকিবের নিষেধাজ্ঞায়, ‘সাকিব আল হাসান কোনো ম্যাচের প্রথম একাদশে নেই- এটা ভাবাই যায় না। কারণ সাকিবের মতো খেলোয়াড়ের দু’জন রিপ্লেসমেন্ট লাগে দলে। এই মাপের কোনো অলরাউন্ডারও আমাদের নেই। তাছাড়া ও দুই ফরম্যাটে দলের অধিনায়ক। নিঃসন্দেহে এটা বড় ধাক্কা।’ সাকিবের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের কাছ থেকে এরকম ভুল প্রত্যাশিত নয় লিপুর কাছেও, ‘এটা আসলে কখনই ভাবিনি যে ও এরকম একটা ভুল করে ফেলবে। আপনি যে পর্যায়ের ক্রিকেটারই হন না কেন আপনাকে আইসিসি’র নির্দেশনা মেনে চলতেই হবে। এই খামখেয়ালির চরম মাশুল সাকিব এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটকে দিতে হবে।’

এই ধাক্কা সামলে বাংলাদেশ দল ঘুরে দাঁড়াবে এমনটা প্রত্যাশা রকিবুলের, ‘আমি মনে করি কারও জন্যই কিছু থেমে থাকে না। সাকিবের শূন্যতা অবশ্যই ভোগাবে। কিন্তু এর ফলে অনেকেই নিজেদের প্রমাণের সুযোগ পাবেন। সেই জেদটা যদি তাদের মধ্যে থাকে তবে আমি মনে করি ভালো কিছু খেলোয়াড়ের দেখা মিলবে।’ লিপু মনে করেন এই শাস্তিকে সাকিব ইতিবাচক হিসেবে নিলে তার ফেরাটাও হবে অস্ট্রেলিয়ার দুই তারকা স্টিভ স্মিথ এবং ডেভিড ওয়ার্নারের মতো, ‘আমি মনে করি এই একটা বছর ও একটা বিশ্রামও পাবে। দীর্ঘদিন ধরে একটা বলয়ের মধ্যে ছিল। তাই এই সময়টায় ও নিশ্চয় নিজেকে আরও ঝালাই করে নিতে পারবে। আমি আশা করব ওর প্রত্যাবর্তনটাও হবে স্মিথ, ওয়ার্নারদের মতো। পাশাপাশি ও না থাকায় বেশ কিছু নতুন ক্রিকেটারকেও দেখার সুযোগ পাবে জাতীয় দল।’

বাংলাদেশের ক্রিকেটের দুই অগ্রজ মনে করেন, এই নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে কেবল মাঠ নয়, মাঠের বাইরের সাকিবের মধ্যে আসবে আমূল পরিবর্তন। আর সে সুযোগে তারা অপেক্ষায় আছেন সাকিবের শূন্যতা পূরণে কোনো এক প্রতিভাবানের বিকাশে।