আংশিক ভিডিও। তাও সাদাকালো। আইএস প্রধান আবু বকর বাগদাদির ডেরায় আক্রমণ চালানোর এমন ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পর ‘সম্পূর্ণ ভিডিও’ আছে কি না, সেটি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
মার্কিন সেনাদের আকাশ থেকে তোলা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, উঁচু পাচিলে ঘেরা একটি কম্পাউন্ড। সেটির দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছেন সেনারা। ওই ডেরার আশপাশে থাকা বেশ কিছু মানুষকেও দেখা যাচ্ছে। ভেতরেও দুএকজনের গতিবিধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এর কিছুক্ষণ পরেই দেখা যায় ওই বাড়িটির উপর একের পর এক বোমা আছড়ে পড়ছে। তার পরেই বাড়িটি পুরো কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। একটা সময় আগুন জ্বলতেও দেখা যাচ্ছে ওই বাড়িতে।
ভিডিওর পরের অংশে দেখা যাচ্ছে, ওই ডেরা তথা উঁচু পাঁচিল ঘেরা বাড়িটি পুরো ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। কোথাও সামান্য নির্মাণও অবশিষ্ট নেই। ফাঁকা জায়গায় কয়েকটি গর্তের মতো। কয়েক জনের আনাগোনাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে ওই ধ্বংসস্তূপে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান জেনারেল কেনেথ ম্যাকেনজির দাবি, অভিযানের সময় বাগদাদি একটি সুড়ঙ্গে ঢুকে পড়েন। সেখানে বোমা মেরে নিজেকে উড়িয়ে দেন।
ভিডিওতে এই অংশের কোনও ছবি বা প্রমাণ নেই। উপর থেকে বোমা পড়ার পরেই ধ্বংসস্তূপ। মাঝের সময়ের কোনও ছবি বা ভিডিও নেই। অথবা প্রকাশ করা হয়নি। তাই অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, পুরো ভিডিও কেন প্রকাশ করা গেল না।
আবার যদি মার্কিন সেনার হাতে না থাকে, তাহলে অভিযানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
তাহলে কী ভাবে প্রমাণিত হল বাগদাদি মৃত?
ম্যাকেঞ্জির দাবি, ডিএনএ পরীক্ষায়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা বাগদাদির দেহের অংশ থেকে নমুনা মিলিয়ে দেখা হয় ২০০৪ সালে ইরাকের জেলে বন্দি থাকা বাগদাদির ডিএনএর সঙ্গে। তাতেই ডিএনএ মিলে গেছে বলে দাবি ম্যাকেঞ্জির।
২০১৪ সালে নিজেকে ‘খলিফা’ ঘোষণা করেন আবু বকর আল বাগদাদি। সেই সময় থেকেই আইএস জঙ্গি প্রধানকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল মার্কিন বাহিনী ও সিআইএ।
‘প্রাথমিকভাবে আমরা বাগদাদির তিন সন্তানের কথা ভেবেছিলাম। পরে বোঝা গেছে দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি আত্মঘাতী হন। তাদের বয়স ১২ বছরের নিচে।’ বলেন ম্যাকেনজি।