মাছ ধরতে কেটে ফেলা হয়েছে বাঁধ, বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কা

মদন উপজেলার সদর ইউনিয়নের পাছকুনিয়া হাওরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফসল রক্ষার বেড়িবাঁধ মাছ ধরার জন্য কেটে ফেলা হয়েছে। এতে জমি থেকে পানি সরে যাওয়ায় বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কায় ভুগছেন এলাকার কৃষকরা। এ নিয়ে বিভিন্ন কর্র্তৃপক্ষ বরাবর দুই মুক্তিযোদ্ধা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে জানা যায়, মদন দক্ষিণপাড়ার প্রভাবশালী রহিছ মিয়া, আবদুল জলিল, আবদুল আওয়াল, শামীম, ফজলে রাব্বি, শিহাবউদ্দিন নিজেরা লাভবান হওয়ার আশায় বেড়িবাঁধের ভেতরে জমির মাছ ধরার জন্য একই গ্রামের সালেকের কাছে এক বছরের জন্য ৮০ হাজার টাকায় লিজ দেয়। সালেক মিয়া মাছ ধরার জন্য ওই বেড়িবাঁধের দুই স্থানে কেটে পানি ছেড়ে জাল দিয়ে মাছ ধরছেন। এতে হাওরের পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। ফলে হাওরের উঁচু জমির পানি দ্রুত সরে যাওয়ায় কৃষকরা বোরো আবাদ নিয়ে আশঙ্কায় ভুগছেন।

স্থানীয়রা জানায়, একদিকে সরকার কোটি টাকা ব্যয় করে কৃষকদের ফসল রক্ষার জন্য বাঁধ নির্মাণ করেছে, অন্যদিকে এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় যার যার মতো ইচ্ছানুযায়ী বাঁধ কেটে মাছ ধরছে। এতে ফসলহানির দিকে কেউ লক্ষ করছে না।

স্থানীয় বদরুল, জামাল, কাইয়ুমসহ অনেকে জানান, ফসল রক্ষার বেড়িবাঁধ কেটে মাছ নিধন করছে মদন দক্ষিণপাড়ার সালেক মিয়া। এতে বেড়িবাঁধ ভেঙে বড় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। তারা আরও বলেন, সরকার লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে ফসল রক্ষার জন্য বাঁধ নির্মাণ করলেও এলাকার কতিপয় জামায়াত-বিএনপির সমর্থক প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজেরা লাভবান হওয়ার আশায় ওই বাঁধ কেটে মাছ নিধন করে কৃষকদের ক্ষতি করছে। আমাদের গ্রামের দুই মুক্তিযোদ্ধা কৃষকদের দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে কর্র্তৃপক্ষ বরাবর অভিযোগ করেছেন।

অভিযুক্ত সালেক মিয়া বলেন, বেড়িবাঁধের ভেতরের জমির মালিকদের কাছ থেকে মাছ ধরার জন্য এক বছরের জন্য ৮০ হাজার টাকায় লিজ নিয়েছি। আমি বেড়িবাঁধ কাটিনি। পানির স্রোতে এমনিতেই দুই স্থানে গর্ত হয়েছে।

মদন ইউপি চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান শেখ মানিক জানান, কোনো দুষ্টচক্র যদি বেড়িবাঁধ কেটে মাছ নিধন করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী নিবারণ চক্রবর্তী জানান, বিষয়টি উপজেলা কর্র্তৃপক্ষের কাছ থেকে জেনে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মদনের ইউএনও ওয়ালীউল হাসান বলেন, এ ব্যাপারে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।