পল্লবী থানা হাজতে জনি হত্যাকাণ্ড

আসামিদের হুমকিতে আতঙ্কে পরিবার

পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি রাজধানীর পল্লবী থানা হেফাজতে গাড়িচালক ইশতিয়াক হোসেন জনি হত্যার মামলা। যদিও নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইনের এই মামলা ১৮০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে। মামলার প্রধান আসামি এসআই জাহিদ কারাগারে থাকলেও বহাল তবিয়তে আছেন অন্য চার আসামি। এদিকে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি পেরিয়ে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ চললেও এরই মধ্যে বিচার থেকে রক্ষা পেতে নানা অপতৎপরতা চালাচ্ছে আসামিরা। বিপুল অর্থ দিয়ে সমঝোতা প্রস্তাবের পাশাপাশি হুমকি-ধমকি থেকে শুরু করে নানাভাবে নিহত জনির পরিবারকে মামলা পরিচালনা থেকে আসামিরা বিরত রাখার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

পুলিশের নির্যাতনে নিহত জনির স্ত্রী, দুই সন্তান, মা ও তার ছোট ভাই বসবাস করছেন মিরপুরের ইরানি ক্যাম্পে। মামলার বাদী জনির ছোট ভাই রকি দেশ রূপান্তরকে জানান, জামিন নিয়ে বের হওয়ার পর থেকেই সমঝোতায় রাজি হতে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে আসামিরা। সমঝোতার জন্য দেখানো হচ্ছে মোটা অঙ্কের অর্থের প্রলোভন। প্রধান আসামি এসআই জাহিদের মা নিজে রকির সঙ্গে যোগাযোগ করে এই প্রস্তাব দেন। একইভাবে মামলার আসামি এএসআই কামরুজ্জামান মিন্টু ও এএসআই রাশেদুল রকির বাসায় গিয়ে সমঝোতার প্রস্তাব দেন। তারা প্রত্যেকেই সমঝোতার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের অর্থের প্রস্তাব দেন রকিকে। এসব প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে রকি তাদের জানিয়েছেন, তারা টাকা চান না। জনি হত্যার বিচার চান। অর্থের বিনিময়ে সমঝোতার প্রস্তাবের ধারণকৃত ভিডিওচিত্রও আদালতে জমা দিয়েছেন রকি। প্রধান আসামি এসআই জাহিদ কারাগারে থেকেও মুক্তিপ্রাপ্ত এক আসামির মাধ্যমে রকিকে হুমকি দিয়েছে। জাহিদ বলেছে, ‘রকিকে বলিস প্রস্তুত থাকতে। আমি আসতেছি।’

মামলার দুই আসামি এএসআই রাশেদুল বাড্ডা থানায় এবং এএসআই কামরুজ্জামান মিন্টু গুলশান থানায় কর্মরত। সমঝোতায় ব্যর্থ হয়ে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে এই আসামিরা। স্থানীয়রা জানান, নিহত জনির পুরো পরিবারটি এখন তার ছোট ভাই রকির ওপর নির্ভরশীল। রকি মোটর মিস্ত্রি। মিরপুর-১১-এর বি ব্লকের বড় মসজিদ সংলগ্ন রোডে গাড়ির একটি গ্যারেজ রয়েছে তার। গ্যারেজটি উঠিয়ে দিতে পারলে মামলা চালাতে হিমশিম খাবে রকি। যদিও মামলা পরিচালনায় তাকে সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)।

স্থানীয় বাসিন্দারা দেশ রূপান্তরকে জানান, রকির আয়ের উৎস ওই গ্যারেজটি বন্ধ করে দিতে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি ষড়যন্ত্র করছেন। ওয়েলফেয়ার অব বিহারিজের সভাপতি মোস্তাক আহমেদ গত ২১ অক্টোবর প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছেন রকিকে। তার গ্যারেজের জায়গায় অফিস নির্মাণ করতে চান তিনি। রকি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জনি হত্যা মামলার দুই আসামি রাশেদুল ও মিন্টুর সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন মোস্তাক। তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে তিনি আমার পেটে লাথি মারতে চাচ্ছেন। রুটি-রুজির উৎস বন্ধ করে দিলে মামলা পরিচালনা করতে পারব না মনে করেই এমনটি করা হচ্ছে।’