পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, এসডিজি অর্জনে আমরা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে মতামত গ্রহণ ও উদাহরণ পর্যবেক্ষণ করে কাজ করে যাচ্ছি। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বেসরকারি খাতের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির উন্নয়নের আগে প্রয়োজন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। প্রযুক্তির মাধ্যমে অনেক ক্ষতিকর কাজ করা যায়, যা অতীতেও হয়েছে, বর্তমানেও হচ্ছে। প্রযুক্তির যখন সূচনা হয়েছিল, তখন থেকেই এর কল্যাণকর দিক বিবেচনা করে সবকিছু শুরু হলেও অপব্যবহার তখন থেকেই শুরু হয়েছে।
বক্তারা বলেন, এসডিজিতে বেসরকারি খাতকে সংযুক্ত করা সহজ কাজ নয়। এক্ষেত্রে সরকারের নীতিমালায় সবচেয়ে বড় বাধা রয়েছে। কিন্তু সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে বিষয়টি সহজ করার জন্য। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আরও উন্নয়ন দরকার। সরকারের সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক ভালো নয়। ফান্ড আরও বেশি বাড়ানো প্রয়োজন। বেসরকারি খাতকে নিয়মমতো টাকা পরিশোধ করায় সরকারের নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। সাধারণ মানুষ এখন পর্যন্ত পরিষ্কারভাবে জানে না এসডিজি ও পিপিপি কী। তাদের এগুলো জানাতে হবে। কেননা আমাদের বেশিরভাগ উন্নয়ন আসে ব্যক্তিগত বিনিয়োগ থেকে। তাই তাদের বাদ দিলে এসডিজি অর্জন করা একেবারেই অসম্ভব।
রেমিট্যান্সের ওপর গুরুত্বারোপ করে বক্তারা আরও বলেন, ১৯৭৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২০৫ বিলিয়ন ডলার বাংলাদেশে এই খাত থেকে আয় করেছে। এই খাতকে নজরদারির আওতায় এনে বিষয়টি সহজ করার মাধ্যমে আরও বেশি আয় করা সম্ভব। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) অধ্যাপক ড. শামসুল আলম। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, ইউএনডিপির বাংলাদেশ প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জি, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান বেনজির আহমেদ প্রমুখ।