ইন্টারনেটের উন্মুক্ত জগতের অন্যতম একটি নাম উইকিপিডিয়া। তিনশ'রও অধিক ভাষায় এই বিশাল ইন্টারনেট বিশ্বকোষ গড়ে উঠেছে। গুগল কিংবা বিংয়ে কোনো কিছু জানতে সার্চ দিলে শুরুতেই সেটি প্রসঙ্গে উইকিপিডিয়ার প্রবন্ধ চলে আসে।
অনেক বিষয়ে তথ্যের অসম্পূর্ণতা থাকা সত্ত্বেও মানুষ কোনো কিছু সম্পর্কে জানতে উইকিপিডিয়ার ওপর নির্ভর করে। কারণ এখানের প্রত্যেকটি তথ্যের উৎস দেওয়া থাকে। তথ্যের সত্যতা বা নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করতে সহযোগিতা করে উৎসগুলো। সেই সঙ্গে আরও বেশি কিছু জানতে সাহায্য করে। আবার বিশ্বাসযোগ্য কোনো উৎস পাওয়া না গেলে সেটি উইকিপিডিয়াতে যুক্ত করতে অনুসন্ধানকারীকে আহ্বান করা হয়।
অনলাইনে থাকা তথ্যের উৎসগুলো আপনি সহজেই যাচাই করতে পারবেন, যেহেতু ক্লিক করলেই সেটি পেয়ে যাচ্ছেন আপনি। কিন্তু উইকিপিডিয়ার অনেক নিবন্ধ নির্ভর করে অনেক বছর আগে প্রকাশিত কোনো বইয়ের সূত্রের ওপর বা শুধু বইয়েই সেই তথ্য পাওয়া যায়, যা অনলাইনে সংগৃহীত নেই।
যেমন, মার্টিন লুথার কিং সম্পর্কে নিবন্ধে উদ্ধৃতি দেওয়া হলো ৬৬টি বই থেকে। এখন তার সম্পর্কে তথ্যগুলো যাচাই করতে আপনাকে সবগুলো বই ঘেঁটে দেখতে হবে। এর জন্য বইগুলোও আপনাকে সংগ্রহ করতে হবে। স্বাভাবিকভাবেই অধিকাংশ মানুষের জন্য এটি সম্ভব হয়ে উঠবে না।
তবে উইকিপিডিয়ায় তথ্যের এমন উৎস যাচাইয়ে সহজ করে দিয়েছে অনলাইনে বইয়ের ভান্ডার ইন্টারনেট আর্কাইভ। উইকিপিডিয়ার নিবন্ধে উল্লেখ করা কোনো বইয়ের নামে ক্লিক করলেই ইন্টারনেট আর্কাইভ আপনাকে সেই বইয়ের দুই পৃষ্ঠার একটি রিভিউ দেখাবে। সেই সঙ্গে বইয়ের নির্দিষ্ট পৃষ্ঠায়ও আপনি যেতে পারবেন। চাইলে বইটির ডিজিটাল কপি আপনি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ধারও নিতে পারবেন।
যদিও অনেক লেখক ও প্রকাশক ইন্টারনেট আর্কাইভের এমন নীতি নিয়ে সমালোচনা করেছে। নিয়ম-বহির্ভূতভাবে স্ক্যান করা বই পাঠকের কাছে তুলে দেয় ইন্টারনেট আর্কাইভ। তবে অনলাইন লাইব্রেরিটি জানাচ্ছে, ভারসাম্য ঠিক রেখে ও সম্মানজনক উপায়ে অনুসন্ধানকারীকে তারা বই ভাড়া দেন।
ইতিমধ্যে ইন্টারনেট আর্কাইভ বিভিন্ন ভাষায় প্রকাশিত ৫০ হাজার বইয়ের এক লাখ ৩০ হাজার রেফারেন্স উইকিপিডিয়াতে যুক্ত করেছে। অনলাইন লাইব্রেরিটির একজন ডিরেক্টর মার্ক গ্রাহাম বলেন, অধিক মানুষের কাছে পৌঁছতে পারে এমন একটি কার্যকর লাইব্রেরি গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।
অনেকের জন্যই বই সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না, আমাজন থেকেও কেনাটাও ব্যয় সাপেক্ষ হয়ে পড়ে। এই সমস্যার সমাধান দিতে ইন্টারনেট আর্কাইভের ওয়েব্যাক মেশিন সার্ভিস ২০০১ সালে গড়ে তুলেছে ৩৮৭ বিলিয়ন ওয়েবপেইজ। তারা এখন পর্যন্ত ৩৮ লাখ বই স্ক্যান করতে সক্ষম হয়েছে। এ ছাড়া আরও লাখ লাখ বই তাদের গুদামঘরে সংগৃহীত আছে স্ক্যানের অপেক্ষায়।
উইকিপিডিয়ায় নিবন্ধের সংখ্যা প্রায় ৪০ মিলিয়ন। শুধু ইংরেজি উইকিপিডিয়ায় রয়েছে ৫৮ লাখেরও অধিক নিবন্ধ। প্রতিদিন এতে নিত্য নতুন তথ্য যুক্ত হচ্ছে। সেই সঙ্গে ইন্টারনেট আর্কাইভের বিশাল ভান্ডার যুক্ত হলো এই বিশ্বকোষের সঙ্গে। যার ফলে অনুসন্ধানকারীদের কাছে আরও বেশি আস্থাভাজন হয়ে উঠছে উইকিপিডিয়া।