দাপটেই চলছে অবৈধ যান

মহাসড়কে ইঞ্জিনচালিত যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হলেও রাজশাহীতে তা বন্ধ হয়নি। রাজশাহীর প্রধান প্রধান সড়কে নিয়ম ভেঙে নির্বিঘেœ চলাচল করছে নসিমন-করিমন, ভটভটি, ট্রলি ও অটোরিকশা। শ্যালো ইঞ্জিনের সঙ্গে লাগসই প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে তৈরি হয় বিভিন্ন নামে পরিচিত এসব যান। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার কোনো তোয়াক্কাই করছে না চালকরা। ঝুঁকিপূর্ণ এসব অবৈধ যানের কারণে রীতিমতো অসহায় হয়ে পড়েছে বৈধ যানগুলো। নিয়মনীতি না মেনে চলাচল করায় হরহামেশাই দুর্ঘটনা ঘটছে। যত্রতত্র চলাচলের কারণে বাড়ছে যানজট। অবৈধ এসব যান বন্ধে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্টদের।

মহাসড়কে দুর্ঘটনার নেপথ্যে এসব যানকে দায়ী করেছেন দূরপাল্লার বাস-ট্রাকচালকরা। তাদের অভিযোগ, ছোট আকারের এসব যান অনেক সময় নিজেদের মতো চলতে গিয়ে দূরপাল্লার দ্রুতগামী যানগুলোকে দুর্ঘটনায় ফেলে। সর্বশেষ ২০১৪ সালে রাজশাহী অঞ্চলের মহাসড়ক ও আঞ্চলিক প্রধান সড়কগুলোতে অবৈধ যান চলাচল বন্ধে অভিযান চালায় বিভাগীয় প্রশাসন। বিভাগীয় কমিশনার হেলালুদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে এই অভিযান চালানো হয়। ওই সময় বেশ কয়েকটি ভটভটি জব্দ করে রাস্তার পাশে গর্তে ফেলা হয়। এরপর দীর্ঘদিন মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সরব থাকতে দেখা গেলেও এখন এই কার্যক্রম নেই। এই সুযোগে নছিমন-করিমন, ভটভটি, শ্যালোচালিত ট্রলিসহ সব অবৈধ যান দুর্বার গতিতে চলাচল করছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজশাহী-চাঁপাই, রাজশাহী-নাওগাঁ ও রাজশাহী-নাটোরসহ অভ্যন্তরীণ সব সড়কেই অবৈধ যানের দৌরাত্ম্য উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। অস্বাভাবিক গতিতে চলাচল করা এসব অবৈধ যানের কারণে সড়কে বৈধ যানবাহনগুলোর জায়গা মিলছে না। নিরাপদে হাঁটাচলা করতে পারছেন না পথচারীরাও। তা ছাড়া অসংখ্য মোটরচালিত ভ্যান ও ইজিবাইক রাস্তার মধ্য দিয়ে ইচ্ছামতো চলাচল করছে। এদের যথেচ্ছ চলাচল পথযাত্রা অনিরাপদ করে তুলেছে। এসব যানের চালকরা সাধারণ নিয়ম-কানুনের কোনো তোয়াক্কা করছে না। স্থানীয় কারিগরদের দ্বারা অনুমোদনহীন তৈরি এসব যানে নেই নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা। তা ছাড়া কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ ছাড়াই অপ্রাপ্তবয়স্করাও চালকের আসনে বসছে। বেপরোয়া গতিতে চলাচলকারী এই যানগুলো জরুরি মুহূর্তে ব্রেক করতে না পারায় দুর্ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছে। তা ছাড়া অন্যান্য যানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গতি বাড়িয়ে দেওয়ায় মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা বহু গুণ বেড়ে গেছে বলে সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ।

বিশেষ করে রাতের বেলায় বেশি সমস্যার মুখে পড়তে হয়। এসব যানে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় বিপদের মুখে পড়তে হয় যাত্রীদের। সেই সঙ্গে ভয়ংকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে বিপরীত দিক থেকে আসা ভটভটির তীক্ষè আলোর কারণে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এত কিছুর পরও উদ্ভট কায়দায় তৈরি এসব যানে যাত্রীর অভাব হয় না। সাধারণ যাত্রীদের মতে, দুর্ঘটনার শঙ্কা থাকা সত্ত্বেও বিশেষ পরিস্থিতিতে অনেকটা বাধ্য হয়েই এসব যানে যাতায়াত করছেন তারা।

রাজশাহী পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি কামাল হোসেন রবি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা আগেই প্রশাসনকে অবহিত করেছি। তারা মাঝে মাঝে ব্যবস্থা নেয়। এতে কোথাও কমে আবার কোথাও বাড়ে। তবে সামনে আমাদের নির্বাচন। নির্বাচন শেষে আমরা এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাব।’

রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ পিপিএম বলেন, ‘এমন হওয়ার কথা নয়। তারা মূল সড়কে আসতে পারে না। বিষয়টি আমার নজরে এলে অবশ্যই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার নূর-উর-রহমান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসন প্রতি মাসেই অভিযান চালাচ্ছে। এসব যানের দরকার আছে, কিন্তু এগুলো মহাসড়কে চলাচল করতে পারবে না। এ নিয়ে কোথাও কোনো অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’