আগামী জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি বা শেষের দিকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভোট হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর। গতকাল রবিবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে কমিশন সভা হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটির ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে ইসি সচিব বলেন, নভেম্বরের ১৮ তারিখের পর যেকোনো দিন এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। চলতি ভোটার তালিকা দিয়ে ইভিএমের (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) মাধ্যমে এই দুই সিটিতে ভোট হবে। আর চট্টগ্রাম সিটির যেহেতু এখনো সময় হয়নি তাই এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। মার্চ, এপ্রিল কিংবা তার পরে নতুন ভোটার তালিকার মাধ্যমে এ সিটিতে ভোট হবে।
২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটিতে ভোট হয়। এতে মেয়র নির্বাচিত হন যথাক্রমে প্রয়াত আনিসুল হক, সাঈদ খোকন ও আ জ ম নাছির উদ্দীন। তবে তারা ভিন্ন ভিন্ন দিনে প্রথম সভা করায় সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের মেয়াদ পূর্ণ হবে ভিন্ন দিনে। ঢাকা উত্তরে প্রথম সভা হয় একই বছরের ১৪ মে, দক্ষিণে ১৭ মে ও চট্টগ্রামে ৬ আগস্ট। সে হিসাবে উত্তরের মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের ১৩ মে, দক্ষিণে ১৬ মে এবং চট্টগ্রামে ৫ আগস্ট। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী, পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিন আগে যেকোনো সময় ভোট করতে হবে।
মো. আলমগীর বলেন, ‘যেহেতু মেয়াদ শেষের ১৮০ দিনের আগে নির্বাচন করা যাবে না, সে জন্য রবিবারের কমিশন সভায় শিডিউলের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আমাদের নির্বাচনী আইন অনুযায়ী ঢাকা উত্তরে চলতি বছরের ১৫ নভেম্বর থেকে ১৩ মে ২০২০ সালের মধ্যে আর দক্ষিণে ১৮ নভেম্বর থেকে ২০২০ সালের ১৬ মের মধ্যে ভোট করতে হবে। তবে ডিসেম্বরে জেডিসি ও পিএসসি পরীক্ষা থাকে, তাই নির্বাচন করা হবে না। একইভাবে ফেব্রুয়ারি মাসে এসএসসি ও এপ্রিলে এইচএসসি পরীক্ষা হবে। তাই জানুয়ারিতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটিতে ২০২০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ আগস্টের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। সেখানে আমাদের হাতে অনেক সময় আছে। তাই এখনই চট্টগ্রাম সিটির ভোটের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ভোটার তালিকা আইন অনুযায়ী জানুয়ারিতে নতুনদের ভোটার হওয়ার সুযোগ থাকে। সেখানে যেহেতু ফেব্রুয়ারি বা তারপরে নির্বাচন হবে, তাই সেখানে নতুন ভোটারসহই ভোট হবে।’
সিটি নির্বাচনে কোনো আইনি জটিলতা আছে কি না এ প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোনো আইনি জটিলতা আমরা এখনো দেখছি না।’ ইভিএমের মাধ্যমে দুই সিটির ভোট চ্যালেঞ্জ মনে করছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ তো বটেই। তবে আমরা এ নির্বাচন আয়োজনে সক্ষম।’ কোনো দল ইভিএমে আপত্তি জানালে কী করবেনÑ এ প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, এ বিষয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।১৪