বালু উত্তোলনে ভাঙন আতঙ্কে ১০ গ্রামের মানুষ

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার আওতাধীন মেঘনা নদীর কয়েকটি এলাকায় বালু উত্তোলনে হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দিলেও তা বন্ধ হয়নি। বরং আরও বেড়েছে এখন।

স্থানীয়রা জানান, কয়েকটি প্রভাবশালী ‘বালুদস্যু সিন্ডিকেট’ স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আর্থিক রফার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে উপজেলার রামপ্রসাদেরচর, মহিশারচর, নলচর, ফরাজিকান্দি, সোনাকান্দা, চালিভাঙ্গাসহ ১০টি গ্রামের মানুষ নদীভাঙনের আতঙ্কে দিনযাপন করছেন। এরই মধ্যে মেঘনার ভাঙনের কবলে পড়ে বসতভিটা হারিয়ে বহু পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। এই অঞ্চল থেকে বালু উত্তোলনের ফলে ওইসব গ্রামের শত শত পরিবারকে নদীভাঙনের যন্ত্রণা সইতে হচ্ছে। নদীভাঙন থেকে রক্ষার্থে বালুদস্যুদের বিরুদ্ধে স্থানীয় লোকজন দফায় দফায় ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের বরাবর আবেদন-নিবেদন করে আসছেন। কর্র্তৃপক্ষ কয়েকবার বন্ধের নির্দেশ জারি করলেও স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বালুদস্যু সিন্ডিকেট বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেই চলেছে।

সরেজমিনে নদীভাঙনকবলিত কয়েকটি গ্রামে গেলে এসব চিত্র দেখা যায়। এলাকার লোকজন জানান, রামপ্রসাদেরচর গ্রামের হোসাইন মোহাম্মদ মহসীন নামে এক ব্যক্তি ২০১৭ সালের ৯ এপ্রিল নদীভাঙনের কবল থেকে গ্রামগুলোকে রক্ষা করতে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন করেন। পরে ওই মাসের ১১ এপ্রিল এক শুনানিতে হাইকোর্ট বালু উত্তোলন না করার জন্য সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়।

কিন্তু ওই বালুদস্যু সিন্ডিকেট হাইকোর্টের নির্দেশের তোয়াক্কা না করে বালু উত্তোলন অব্যাহত চালিয়েই যাচ্ছে। বাড়িঘর ও ফসলি জমি নদীতে তলিয়ে যাওয়া শত শত পরিবার উপায়ন্তর না দেখে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে আবার হোসাইন মোহাম্মদ মহসীন হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন। হাইকোর্ট গত ১৭ সেপ্টেম্বর দুটি ইজারা বাতিলসহ আশপাশের এলাকায় বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দেয়। কিন্তু এ  নির্দেশনা পাওয়ার পর বালুদস্যুরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন এবং ভিন্ন কৌশলে রাতের অন্ধকারে বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখে বালুদস্যু সিন্ডিকেটের জনৈক ওয়াশীম, কাইয়ুম, চালি হুমায়ন চেয়ারম্যান (সাবেক), আবদুল লতিফ সরকার গং। বালুদস্যু সিন্ডিকেট এতই ভয়ংকর যে, সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের মুখে তাড়া খেয়ে পালিয়ে আসতে হয়।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেঘনা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রতন সিকদার বলেন, বালু সিন্ডিকেট সরকারের আদেশ-নির্দেশকে তোয়াক্কা করছে না। তারা চোরাইপথে রাতে বালু উত্তোলন করছে আর স্থানীয় প্রশাসন নীরব ভূমিকায়!