একনেকে ৬ প্রকল্প অনুমোদন

রূপপুরের নিরাপত্তায় প্রকল্প পাস

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আরেক প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হলো। এ নিয়ে টানা দুই সপ্তাহে দুটি প্রকল্প পাস হলো। আগের প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ১৭০০ কোটি টাকা। গতকাল পাস হওয়া প্রকল্পের ব্যয় ৩৫০০ কোটি টাকা। একই সঙ্গে ৪ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ প্রকল্প পাস হয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায়।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন। সভা শেষে একনেক সভার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

এম এ মান্নান বলেন, নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রটির জন্য সাইবার নিরাপত্তা এবং সংবেদনশীল তথ্যের ব্যবস্থাপনা সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হবে। সম্পূর্ণ সরকারি খরচে প্রকল্পটি চলতি বছর থেকে ২০২৩ সালের মার্চের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে। প্রকল্পটিতে বৈদেশিক প্রশিক্ষণ ও প্রতিনিধি খাতে ৫ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ খাতে ১ কোটি টাকা করা হয়েছে। শ্রমিক মজুরি খাতে ২১ লাখ টাকা, মুদ্রণ ও বাঁধাই খাতে ১৫ লাখ টাকা, জরিপের ১০ লাখ টাকা এবং অডিও ভিডিও নির্মাণে ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ১০০ একর ভ‚মি অধিগ্রহণ, ১২ লাখ ১৪ হাজার ৬৭৮ ঘনমিটার ভ‚মি উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও ভৌত সুরক্ষা (পিপিএস) ব্যবস্থা সংক্রান্ত কাজ, পিপিএস সংক্রান্ত কৌশল ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া সীমানাপ্রাচীর (টহল রোড) নির্মাণ, পরামর্শক সেবা গ্রহণ, মোটর যান (৩টি জিপ, ৫টি ডাবল কেবিন পিকআপ, ১টি মাইক্রোবাস, ২টি  মোটরসাইকেল) ও জলযান হিসেবে একটি স্পিডবোট সংগ্রহ, ৫৬টি কম্পিউটার সরঞ্জামাদি সংগ্রহ করা হবে।

সভায় যশোর (রাজারহাট)-মনিরামপুর-কেশবপুর-চুকনগরের আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন ৩৬৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প নেওয়া হয়। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে চলতি বছর থেকে ডিসেম্বর ২০২১ সালে বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে যশোর জেলার সঙ্গে মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলা এবং খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন হবে। প্রকল্পের আওতায় মোট ৩৮ দশমিক ২৬ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ হবে। সভায় সব মিলিয়ে ৬টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক। এগুলো বাস্তবায়নে মোট খরচ ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৪৪৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৪ হাজার ৪৩৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা খরচ করা হবে।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে ফেনী-সোনাগাজী-মুহুরী প্রকল্প সড়কের ৩০তম কিলোমিটারে ৩৯১ দশমিক ৩৪ মিটার দীর্ঘ মুহুরী সেতু এবং বক্তারমুন্সী-কাজিরহাট-দাগনভুঞা সড়কের ১৩তম কিলোমিটারে ৫০ দশমিক ১২ মিটার দীর্ঘ ফাজিলাঘাট  সেতু নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। কক্সবাজার জেলার একতাবাজার থেকে বানৌজা শেখ হাসিনা ঘাঁটি পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩৬১ কোটি ২২ লাখ টাকা। আগারগাঁও শেরেবাংলা নগরে পর্যটন ভবন নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭৯ কোটি টাকা। সিলেট জেলার সিলেট সদর ও বিশ্বনাথ উপজেলায় দশগ্রাম, মাহতাবপুর ও রাজাপুর পরগনা বাজার এলাকা সুরমা নদীর উভয় তীরের ভাঙন থেকে রক্ষা প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১২০ কোটি ৮২ লাখ টাকা।