দিনাজপুরের কোতয়ালি থানার ভেতর বাড়ি থেকে তুলে এনে যুবলীগের কর্মী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে জেলা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ পারভেজের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার রাতে যুবলীগ কর্মী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে তার নিজ বাড়ি থেকে জেলা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ পারভেজসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জন মিলে দিনাজপুর কোতয়ালি থানায় ডেকে এনে মারধর করেছেন বলে মৌখিক অভিযোগ করেছেন যুবলীগ কর্মী আব্দুল্লাহ আল মামুন।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার ওই যুবলীগ কর্মীর স্ত্রী মোছা. আকতারিনা বেগম ঘটনার বিবরণ দিয়ে চিরিরবন্দর থানায় জেলা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ পারভেজ ও দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর রিটেইনার প্রকৌশলী মাসুদ রানা শামীম আকতারসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১৫ জনের নামে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
যুবলীগ কর্মীর স্ত্রী আকতারিনা অভিযোগে উল্লেখ করেন, ‘‘পূর্বশক্রতার জেরে মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে আমার স্বামীকে দিনাজপুর জেলা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ পারভেজ ও দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর রিটেইনার প্রকৌশলী মাসুদ রানা শামীম আকতারসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১৫ জন আমার বাড়ির সম্মুখে এসে চিকাৎকার ও ডাকাডাকি করে। ডাকাডাকির পর আমার স্বামীকে গালিগালাজ করলে আমার স্বামী বাড়ি থেকে বের হলে রাশেদ পারভেজ ও মাসুদ রানা শামীম বাকি ১০-১৫ জনকে হুকুম দিয়ে বলে, ‘বেটা বড় নেতা হয়েছিস! নেতা হবার স্বাদ মিটায় দে!’ দুজনের হুকুম পাওয়ামাত্রই অন্যান্যরা আমার সামনেই আমার স্বামীকে জোরপূর্বক টানাহেঁচড়া করতে থাকে’।
অভিযোগে ওই নারী আরো বলেন, ‘টেনেহিঁচড়ে আমার স্বামীকে অজ্ঞাতনামা স্থানে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে শারীরিক নির্যাতন ও মারধর করে। এ সময় আমার স্বামীর ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন রাশেদ পারভেজ কেড়ে নেয়। একই স্থানে আমার স্বামীর বাম পকেট হতে মাসুদ রানা শামীম নগদ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা জোরপূর্বক বের করে নিয়ে উল্টো আমার স্বামীকেই তারা চাঁদাবাজ বলে আখ্যায়িত করে কোতয়ালি থানায় সোপর্দ করে’।
এদিকে যুবলীগ কর্মী আব্দুল্লাহ আল মামুন বৃহস্পতিবার বিকেলে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে সাংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার এলাকায় বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে রিটেইনার প্রকৌশলী মাসুদ রানা শামীমের বিরুদ্ধে’।
তিনি বলেন, ‘টাকা নিয়েও বিদ্যুতের সংযোগ এলাকাবাসী না পাওয়ায় তারা আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে আসে। আমি বিদ্যুতের সংযোগের বিষয়ে বিভিন্ন জায়গায় কথা বললে কর্তৃপক্ষ দ্রুত সংযোগ দেওয়ার আশ্বাস দেয়। পরে মাসুদ রানা শামীম বিষয়টি জেলা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ পারভেজকে বললে তিনি আরো বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আমাকে মারধোর করেন’।
তিনি জানান, ‘জেলা যুবলীগ সভাপতি রাশেদ পারভেজসহ আরও ১০-১৫ জন মিলে রানীরবন্দর থেকে কোতয়ালি থানায় নিয়ে আসার আগেও আমাকে বাইরে মারধর করে এবং পরে থানায় নিয়ে এসেও গোলঘরের ভেতরে আমাকে প্রচণ্ড মারধর করে। আমাকে মারধোর করে আমার বিরুদ্ধেই রিটেইনার প্রকৌশলী মাসুদ রানা শামীম মামলা দায়ের করেন। এমন নির্মম নির্যাতনের বিষয়ে ইতিমধ্যে চিরিরবন্দর থানায় আমার স্ত্রী একটি অভিযোগ দায়ের করেছে এবং আমিও তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ব্যবস্থা নিচ্ছি। ’
এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতের রিটেইনার প্রকৌশলী মাসুদ রানা শামীমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে দিনাজপুর জেলা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ পারভেজ বলেন, ‘আমার কাছে আব্দুল্লাহ আল মামুনের নামে বিভিন্ন জায়গায় যুবলীগের পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি ও সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ আসছে। এজন্য আমি তাকে ডেকে কোতয়ালি থানায় সোপর্দ করি’।
মারধরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তার গায়ে কোনো হাত দেইনি।’
অভিযোগের বিষয়ে কোতয়ালি থানার তদন্ত অফিসার বজলুর রশিদ বলেন, ‘বুধবার থানায় চিরিরবন্দর উপজেলার রানীরবন্দরের বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মামুন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে। তবে থানার ভিতরে মারধোরের বিষয়টি আমার জানা নেই।’
চিরিরবন্দর থানার ওসি সুব্রত কুমার বলেন, আকতারিনার একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি। তদন্তের পর মামলা নেয়া যাবে কি না তা বলা যাবে।