নবীগঞ্জে অবাধে চলছে পাহাড় নিধন

নবীগঞ্জ উপজেলার দিনারপুরে ফের শুরু হয়েছে পাহাড় কাটা। নির্বিচারে পাহাড় কাটার কারণে নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। ভারসাম্য হারাচ্ছে পরিবেশ।

স্থানীয় প্রশাসন, বন বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়মিত তদারকি না থাকায় উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের লামরোহ, সাতাইহাল, গজনাইপুর, মামদপুরসহ বিভিন্ন স্থানে কয়েক শ বছর ধরে গড়ে ওঠা ‘দিনারপুর পরগনার’ প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পাহাড়ের পরিবেশ, মাটি, পানি ও প্রাণবৈচিত্র্যের ওপর। সেই সঙ্গে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে সবুজ বনভূমি।

কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে পাহাড় কাটতে পারবে না। কাটলে কমপক্ষে ১০ বছরের জেল কিংবা ১০ লাখ টাকা জরিমানার এমন আইন থাকলেও এর প্রয়োগ না থাকায় দিন দিন পাহাড় নিধন বেড়ে চলেছে। স্থানীয়রা জানান, গজনাইপুর ইউনিয়নের লামরোহ গ্রামের জয়নাল মিয়ার টিলা থেকে কুতুব মিয়া নামের একজন বেশ কিছুদিন ধরে পাহাড় কাটছেন।

অপর দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশেই সাতাইহাল গ্রামের স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ির প্রবেশপথেই উঁচু একটি পাহাড় কেটে সমতল করছেন সাবেক ইউপি সদস্য তোয়াব মিয়া। বাড়ি নির্মাণের জন্য তিনি এ কাজ করছেন বলে এলাকার লোকজনের অভিযোগ। তারা আরও জানান, এসব স্থানে কোনো কোনো সময় দিনদুপুরে আবার কোনো সময় রাতের আঁধারে পাহাড় কেটে মাটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অনেক জায়গায় এক্সকেভেটর মেশিন দিয়ে পাহাড় কাটা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। প্রভাবশালীদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা রয়েছে  এতে। পাহাড় কাটায় এ অঞ্চলের সৌর্ন্দয বিলীন হয়ে যাচ্ছে। গজনাইপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা  ইমদাদুর রহমান মুকুল বলেন, ব্যাপক হারে পাহাড় কাটা হচ্ছে এমন তথ্য আমার কাছে নেই। টিলায় বসবাসকারীদের বাড়ির উঠোন বা টয়লেট নির্মাণের জন্য ভূমি সমতল করাকেও ইদানীং পাহাড় টিলা কাটার অভিযোগ তোলা হচ্ছে। যা কাম্য নয়।

নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ বিন হাসান বলেন, স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে গজনাইপুর ইউনিয়নের লামরোহ গজনাইপুর ফুলতলি বাজারসহ কয়েকটি পাহাড় কাটা পরিদর্শন করেছি।

পাহাড় কাটায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা হবে। এ কাজে জড়িত স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম মর্তুজা স্বপন ও মহিলা ইউপি সদস্য পারভিন বেগমকে শোকজ করা হবে।

হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনের সাংসদ গাজী মোহাম্মদ শাহনওয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দিনারপুর পাহাড়ি দ্বীপ হিসেবে সারা দেশে পরিচিত। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের শত বছরের পুরনো ইতিহাস-ঐতিহ্য। পাহাড় কাটায় যে জড়িত থাকবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে বলে দিয়েছি।