আল-আকসা মসজিদ অনেকের কাছে মসজিদুল আকসা বা বাইতুল মুকাদ্দাস নামেও পরিচিত। এটি ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদ। জেরুজালেমের পুরনো শহরে এর অবস্থান। মসজিদের সঙ্গে একই প্রাঙ্গণে কুব্বাত আস সাখরা অবস্থিত। এই পুরো স্থানকে হারাম আল শরিফ বলা হয়। বর্তমানে ইসরায়েল এ ঐতিহাসিক মসজিদটি দখল করে রেখেছে। ১৯৬৯ সালে তারা একবার আল আকসা মসজিদে অগ্নিসংযোগও করেছিল। পবিত্র এই মসজিদ নিয়ে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা
প্রথম কিবলা
হযরত মুহাম্মদ (সা.) মিরাজের রাতে মসজিদুল হারাম থেকে আল-আকসা মসজিদে এসেছিলেন এবং এখান থেকে তিনি ঊর্ধ্বাকাশের দিকে যাত্রা করেন। এই স্থান মুসলিমদের প্রথম কিবলা। হিজরতের পর কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ হলে কাবা নতুন কিবলা হয়।
খলিফা উমর বর্তমান মসজিদের স্থানে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। পরে উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিকের যুগে মসজিদ পুনর্নির্মিত ও সম্প্রসারিত হয়। এই সংস্কার ৭০৫ সালে তার পুত্র খলিফা প্রথম আল-ওয়ালিদের শাসনামলে শেষ হয়। ৭৪৬ সালে ভূমিকম্পে মসজিদ ধ্বংসপ্রাপ্ত হলে আব্বাসীয় খলিফা আল মনসুর এটি পুনর্নির্মাণ করেন। পরে তার উত্তরসূরি আল মাহদি এর পুনর্নির্মাণ করেন। ১০৩৩ সালে আরেকটি ভূমিকম্পে মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ফাতেমীয় খলিফা আলি আজ-জাহির পুনরায় মসজিদ নির্মাণ করেন যা বর্তমান অবধি টিকে রয়েছে। বিভিন্ন শাসকের সময় মসজিদে অতিরিক্ত অংশ যোগ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে গম্বুজ, আঙিনা, মিম্বর, মিহরাব, অভ্যন্তরীণ কাঠামো। ১০৯৯ খ্রিস্টাব্দে ক্রুসেডাররা জেরুজালেম দখল করার পর তারা মসজিদকে একটি প্রাসাদ এবং একই প্রাঙ্গণে অবস্থিত কুব্বাত আস সাখরাকে গির্জা হিসেবে ব্যবহার করত। সুলতান সালাহউদ্দিন জেরুজালেম পুনরায় জয় করার পর মসজিদ হিসেবে এর ব্যবহার পুনরায় শুরু হয়। আইয়ুবি, মামলুক, উসমানীয়, সুপ্রিম মুসলিম কাউন্সিল ও জর্ডানের তত্ত্বাবধানে এর নানাবিধ সংস্কার করা হয়।
মসজিদুল আকসা শব্দের অর্থ হলো- দূরবর্তী মসজিদ। মিরাজের রাতে মুহাম্মদ (সা.) বোরাকে চড়ে মক্কা থেকে এখানে এসেছিলেন মর্মে কুরআনে উল্লেখ আছে। অনেক বছর ধরে মসজিদুল আকসা বলতে পুরো এলাকাকে বোঝানো হতো এবং মসজিদকে আল-জামি আল-আকসা বলা হতো। উসমানীয় শাসনামলে প্রশাসনিক কারণে পুরো পবিত্র স্থানটি হারাম আল শরিফ বলে পরিচিত হয়।
বর্তমান স্থাপনা
বর্তমান স্থাপনাটি উমাইয়া যুগের। দ্বিতীয় খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব প্রথম এখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। কয়েকজন মুসলিম প-িত যেমন মুজিরউদ্দিন আল-উলাইমি, জালালউদ্দিন সুয়ুতি এবং শামসউদ্দিন আল-মুকাদ্দাসি বলেন যে, খলিফা আবদুল মালিক ৬৯০ খ্রিস্টাব্দে মসজিদ পুনর্নির্মাণ ও সম্প্রসারণ করেন। সেই সঙ্গে তিনি কুব্বাত আস সাখরা নির্মাণ করেন। আবদুল মালিক মসজিদের কেন্দ্রীয় অক্ষ প্রায় ৪০ মিটার ১৩০ ফুট পশ্চিমে সরিয়ে আনেন যা হারাম আল শরিফ নিয়ে তার সামগ্রিক পরিকল্পনার অংশ ছিল। পুরনো অক্ষ একটি মিহরাব দ্বারা চিহ্নিত করা হয় যা উমরের মিহরাব বলে পরিচিত। কুব্বাত আস সাখরার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আবদুল মালিক তার স্থপতিদের দ্বারা নতুন মসজিদকে সাখরার সঙ্গে এক সারিতে আনেন। অন্যদিকে ক্রিসওয়েলের মতে, আবদুল মালিকের ছেলে প্রথম আল ওয়ালিদ মসজিদ পুনর্নির্মাণ করেন এবং দামেস্কের কর্মীরা এতে কাজ করেন। অধিকাংশ পণ্ডিতের মতে, মসজিদের পুনর্নির্মাণ আবদুল মালিকের সময় শুরু হয় এবং আল ওয়ালিদের সময় তা শেষ হয়। ৭১৩ থেকে ৭১৪ সালে কয়েকটি ভূমিকম্পে জেরুজালেমের ক্ষতি হয় এবং মসজিদের পূর্ব অংশ ধ্বংস হয়। এই কারণে আল-ওয়ালিদের শাসনামলে পুনর্নির্মাণের প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
৭৪৬ সালে ভূমিকম্পেও মসজিদুল আকসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর চার বছর পর আস-সাফাহ উমাইয়াদের উৎখাত করে আব্বাসীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেন। দ্বিতীয় আব্বাসীয় খলিফা আল মনসুর ৭৫৩ সালে মসজিদ পুনর্নির্মাণের জন্য তার সংকল্প ব্যক্ত করেন এবং ৭৭১ সালে তা সমাপ্ত হয়। ৭৭৪ সালে দ্বিতীয় একটি ভূমিকম্পের ফলে আল মনসুরের সংস্কারের সময়ের দক্ষিণ অংশ বাদে অনেক অংশ ধ্বংস হয়। ৭৮০ সালে তার উত্তরসূরি খলিফা আল-মাহদি এর পুনর্নির্মাণ করেন। তিনি দৈর্ঘ্য কমিয়ে প্রস্থ বৃদ্ধি করেন। আল-মাহদির সংস্কার এই বিষয়ে প্রথম লিখিত বিবরণ বলে জানা যায় যা কাজের বর্ণনা প্রদান করে। ৯৮৫ সালে জেরুজালেমে জন্ম নেওয়া আরব ভূগোলবিদ শামসউদ্দিন আল-মুকাদ্দাসি লিখেছেন, এসময় মসজিদে পনেরটি দরজা ও মুসল্লিদের ধারণের জন্য উত্তর-দক্ষিণ বরাবর পনেরটি সারি ছিল। সালাহউদ্দিনের মিম্বরের দরজা, ১৯০০ এর দশকের প্রথমভাগ। নুরউদ্দিন জেনগির নির্দেশে এটি নির্মিত হয় তবে সালাহউদ্দিন এটি স্থাপন করেন। ১০৩৩ সালে আরেকটি ভূমিকম্প হয় ফলে মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফাতেমীয় খলিফা আলি আজ-জাহির ১০৩৪ থেকে ১০৩৬ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে মসজিদ পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার করেন। এসময় মুসল্লিদের ধারণের জন্য পনেরটি মূল সারির সংখ্যা কমিয়ে সাতটি করা হয়। আজ-জাহির কেন্দ্রীয় কক্ষের চারটি তোরণ এবং করিডর নির্মাণ করেন যা বর্তমানে মসজিদের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। পারস্যের ভূগোলবিদ নাসির খসরু ১০৪৭ সালে তার ভ্রমণের সময় মসজিদুল আকসার বর্ণনা দিয়ে বলেছেন,
‘হারাম এলাকা জেরুজালেমের পূর্ব অংশে অবস্থিত এবং এই কোয়ার্টারের বাজারের মধ্যে দিয়ে গিয়ে একটি বৃহৎ ও সুন্দর ফটক দিয়ে আপনি এই এলাকায় প্রবেশ করবেন। এই ফটক পার হওয়ার পর আপনি দুটি বৃহৎ স্তম্ভের সারির রিওয়াক ডানে থাকবেন যেগুলোর প্রত্যেকটিতে নয় ও বিশটি মার্বেল স্তম্ভ আছে, যেগুলোর শীর্ষ ও ভিত্তি রঙিন মার্বেলের এবং সংযুক্তিগুলো সিসার। স্তম্ভের শীর্ষে আর্চ উত্থিত যা চুন বা সিমেন্ট ছাড়া পাথরে নির্মিত, এবং প্রতিটি আর্চ পাঁচ বা ছয়টির বেশি পাথরের ব্লক দ্বারা তৈরি নয়। এই স্তম্ভসারিগুলো মাকসুরাহ নিয়ে যায়।’
পরিবর্তন ও পরিবর্ধন
১০৯৯ সালে প্রথম ক্রুসেডের সময় ক্রুসেডাররা জেরুজালেম দখল করে নেয়। তারা মসজিদকে ‘সলোমনের মন্দির’ এবং কুব্বাত আস সাখরাকে ‘টেমপ্লাম ডোমিনি’ বা ঈশ্বরের গম্বুজ নাম দেয়। কুব্বাত আস সাখরা এসময় অগাস্টিনিয়ানদের তত্ত্বাবধানে গির্জা হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া শুরু হয়। আল-আকসা মসজিদকে রাজপ্রাসাদ এবং পাশাপাশি ঘোড়ার আস্তাবল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ১১১৯ সালে একে নাইটস টেম্পলারদের সদর দপ্তর করা হয়। এই সময় মসজিদে কিছু অবকাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয়। এর মধ্যে ছিল উত্তরের বারান্দা সম্প্রসারণ অতিরিক্ত এপস যোগ এবং একটি বিভক্তকারী দেয়াল নির্মাণ। কিছু স্থাপনার পাশাপাশি একটি নতুন মঠ এবং গির্জা নির্মিত হয়। টেম্পলাররা দালানের পশ্চিম ও পূর্বে খিলানযুক্ত বর্ধিতাংশ নির্মাণ করে যার মধ্যে পশ্চিমেরটি বর্তমানে মহিলাদের নামাজের জায়গা এবং পূর্বেরটি ইসলামি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বে আইয়ুবীয়রা জেরুজালেম জয় করার পর মসজিদুল আকসায় কয়েকটি সংস্কার সাধিত হয়। জুমার নামাজের জন্য মসজিদকে প্রস্তুতের নিমিত্তে জেরুজালেম জয়ের এক সপ্তাহের মধে ক্রুসেডারদের স্থাপন করা টয়লেট ও শস্যের গুদাম সরিয়ে ফেলা হয়। মেঝে দামি কার্পেটে আচ্ছাদিত করা হয়, এবং ভেতরের অংশ গোলাপজল এবং সুগন্ধি দিয়ে সুগন্ধযুক্ত করা হয়। সালাহউদ্দিনের পূর্বসূরি জেনগি সুলতান নুরউদ্দিন জেনগি ১১৬৮ সাল থেকে ৬৯ সালে হাতির দাঁত এবং কাঠ দিয়ে একটি মিম্বর নির্মাণের আদেশ দিয়েছিলেন যা তার মৃত্যুর পর নির্মাণ সমাপ্ত হয়। নুরউদ্দিনের মিম্বরটি সালাহউদ্দিন মসজিদে স্থাপন করেন। দামেস্কের আইয়ুবি সুলতান আল-মুয়াজ্জাম ১২১৮ সাল তিনটি ফটকসহ উত্তরের বারান্দা নির্মাণ করেন। ১৩৪৫ খ্রিস্টাব্দে আল-কামিল শামানের অধীনে মামলুকরা পূর্ব দিকে আরও দুটি সারি ও ফটক যুক্ত করে। উসমানীয়রা ১৫১৭ সালে ক্ষমতা নেওয়ার পর মসজিদের কোনো বড় পরিবর্তন করেনি কিন্তু পুরো হারাম আল শরিফে সামগ্রিকভাবে পরিবর্তন আনা হয়। এসময় কাসিম পাশার ফোয়ারা ১৫২৭ নির্মিত হয়। রারাঞ্জ সেতু সংস্কার এবং তিনটি মুক্ত গম্বুজ নির্মিত হয়। সেসক স্থাপনা জেরুজালেম গভর্নররা নির্মাণ করিয়েছিলেন। সুলতানরা মিনারের সম্প্রসারণ করেন। ১৮১৬ সালে গভর্নর সুলাইমান পাশা আল-আদিল জীর্ণ অবস্থার কারণে মসজিদ সংস্কার করেন।
১৯২২ সালে বিশ শতকের প্রথম সংস্কার সাধিত হয়। সে সময় জেরুজালেমের গ্র্যান্ড মুফতি মুহাম্মদ আমিন আল-হুসাইনির অধীন সুপ্রিম মুসলিম কাউন্সিল তুর্কি স্থপতি মিমার কামালউদ্দিন বেকে মসজিদুল আকসা এবং এর পরিপার্শ্বের স্থাপনাগুলো সংস্কারের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাছাড়াও কাউন্সিল ব্রিটিশ স্থপতি মিসরীয় প্রকৌশল বিশেষজ্ঞ এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের সংস্কারে অবদান ও তদারকির দায়িত্ব দিয়েছিলেন। এই সংস্কারের মধ্যে ছিল মসজিদের প্রাচীন উমাইয়া ভিত্তি মজবুত করা, ভেতরের কলাম মজবুত করা নতুন বিম যুক্তকরণ একটি মঞ্চ নির্মাণ আর্চ এবং মূল গম্বুজের ভেতরের অংশ সংরক্ষণ, দক্ষিণ দেয়াল পুনর্নির্মাণ এবং কেন্দ্রীয় সারির কাঠগুলো কংক্রিটের স্ল্যাব দ্বারা প্রতিস্থাপন। এসময় প্লাস্টারে ঢাকা পড়ে যাওয়া ফাতেমীয় আমলের মোজাইক এবং খোদিত লিপি ফিরিয়ে আনা হয়। আর্চগুলো স্বর্ণ এবং সবুজ ছোপযুক্ত জিপসাম দ্বারা সৌন্দর্যম-িত করা হয় এবং কাঠের বিমগুলো পিতল দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়। কিছু স্টেইন্ড গ্লাসের জানালা তাদের আব্বাসীয় ও ফাতেমীয় নকশা অপরিবর্তিত রেখে নতুন করা হয়। ১৯২৭ ও ১৯৩৭ সালে ভূমিকম্পে মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল তবে ১৯৩৮ সালে এবং ১৯৪২ সালে তা সারিয়ে তোলা হয়।১৯৮২ সালে মসজিদের গম্বুজ। এটি অ্যালুমিনিয়ামে নির্মিত হয়েছিল যা রুপার মতো দেখাত কিন্তু ১৯৮৩ সালে এর মূল সিসার প্লেট স্থাপন করা হয়।
জেরুজালেম নগরীর ইতিহাস
জেরুজালেম নগরীর ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। ইতিহাস অনুযায়ী, এই নগরী ধ্বংস হয়েছিল পরপর ২ বার। দখল হয়েছে অন্তত ২৩ বার আর ৫২ বার আক্রমণের মুখে পড়েছে। এই শহর পুনরুদ্ধারের মতো ঘটনা ঘটেছে অন্তত ৪৪ বার। শহরটি নিয়ে লিখিত এক ইতিহাস থেকে জানা যায়, জেরুজালেমকে কেনান (ফিলিস্তিনের একটি অংশ) শহরের অধিবাসীরা বলত ‘উরুসালিমা’ বা শালিম। কারণ শালিম ছিল তাদের এক দেবতার নাম। এই তথ্য পাওয়া যায় কিউনিফর্ম হরফে লেখা তাদের এক লিপিতে। এটা অবশ্য খ্রিস্টপূর্ব ২৪০০ সালের কথা। অপরদিকে হিব্রুতে ‘জেরুজালেম’ অর্থ ‘শান্তির শহর’। ইসরায়েলিরা এখানে শহর গড়ে তোলার কাজ শুরু করে খ্রিস্টপূর্ব নবম শতকের দিকে। আরবি ভাষায় এ শহরকে ডাকা হতো ‘কুদস’ নামে। দ্বিতীয় শতকের দিকে রোমানরা এই শহরের নাম দিয়েছিল ‘ইলিয়া কাপিতোলিনা’। এর আরেক নাম ছিল ইলিয়া। তখন থেকেই আরবিতে ইলিয়া নামেই শহরটি পরিচিতি পায়।
জুদাহ রাজ্যের প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম শতকে ব্যবহার করা হতো জেরুজালেমকে। তবে পূর্বের জেরুজালেম বর্তমানের চেয়ে ছোট ছিল। ‘ওল্ড সিটি’ হিসেবেই পরিচিত জেরুজালেম বিভক্ত ছিল আর্মেনিয়, ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুসলিম নামের চার অংশে। ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’ হিসেবে ১৯৮১ সালে মর্যাদা পায় ওল্ড সিটি। ২০১৫ সালের হিসেবে জেরুজালেম শহরে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা সাড়ে আট লাখ। ২০১১ সালের হিসাব অনুযায়ী, শহরটির মোট জনসংখ্যার ৬২ শতাংশ ইহুদি, ৩৫ শতাংশ মুসলিম এবং ২ শতাংশ খ্রিস্টান।
জেরুজালেমের প্রতিষ্ঠা নিয়ে বাইবেল বলে, খ্রিস্টপূর্ব প্রথম সহস্রাব্দে কিং ডেভিড নগরীটিকে জেবুসাইটদের কাছ থেকে জয় করে নিয়ে ইসরায়েলের রাজধানী বানান। কিং সলোমন সেই জায়গার টেম্পল মাউন্ট এলাকায় ফার্স্ট টেম্পল বা প্রথম উপাসনালয়ের নির্মাণকাজ শেষ করেন। এরপর থেকেই তৈরি হতে থাকে ইতিহাস।
সাম্প্রতিক সংঘর্ষ
চলতি বছরের ২ জুন ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে শত শত ইহুদি আল-আকসা মসজিদে ঢুকে পড়ে। ফলে আল-আকসা মুসল্লিদের মধ্যে উত্তেজনা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। এ সময় ইসরায়েলি পুলিশও মুসলিমদের ওপর হামলা চালায়।
ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের লক্ষ্য করে টিয়ার গ্যাস শেল নিক্ষেপ করে ইসরায়েলি বাহিনী। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে আটক করে। এর কয়েকদিন আগেও সশস্ত্র বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ইহুদিরা আল-আকসায় প্রবেশ করে মুসলিমদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল।
২ জুন ইসরায়েলিদের কাছে ‘জেরুজালেম দিবস’ নামে পরিচিত। ১৯৬৭ সালের এই দিনে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ শেষ হয়। ওই যুদ্ধে জয়ী হয় ইসরায়েল। তাই প্রতি বছর ইসরায়েল দিনটি উদযাপন করে থাকে।
চলতি বছরের ১৭ অক্টোবর আবারও আল-আকসা দখল করে নেওয়া হয়। সেদিন ইহুদি সম্প্রদায়ের লোকেরা তাদের ‘সুক্কত’ উৎসবকে কেন্দ্র করে জেরুজালেমের সবচেয়ে পবিত্র ও স্পর্শকাতর জায়গা আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ করে। মসজিদের ভেতর তাদের প্রবেশ করতে সহায়তা করে ইসরায়েলি পুলিশ।