তামিমই বিসিবির নতুন সভাপতি

আপডেট : ০৮ জুন ২০২৬, ০৭:৫৭ এএম

যেমনটা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে শোনা যাচ্ছিল, হলোও তাইÑ তামিম ইকবালই বিসিবির নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। গতকালের পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত তামিম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনের পর পরিচালনা পর্ষদের সভায় তামিম ইকবালের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ফাহিম সিনহা।

গতকালের ভোটে বাজিমাত করেন তামিম। ক্লাব ক্যাটাগরির ৭৬ ভোটারের মধ্যে ২ জন ভোট দেননি। বাকি ৭৪ ভোটের ৭৩টি পড়ে তার বাক্সে। পরে সভাপতিও নির্বাচিত হন তিনি। অ্যাডহক কমিটির সভাপতি থেকে এখন বিসিবির চার বছরের মেয়াদের পূর্ণাঙ্গ সভাপতি সাবেক এই অধিনায়ক। নতুন দায়িত্ব নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে শুরুতেই নিজের রাজনৈতিক বোর্ড নিয়ে তামিম বলেন, ‘বৈঠকে আমি একটা জিনিস একদম স্পষ্ট করে বলেছি যে, আপনাদের ব্যক্তিগত পরিচয় যাই থাকুক না কেন, আমাদের দায়িত্ব একটাইÑ বাংলাদেশ ক্রিকেটের হয়ে কাজ করা আর বাংলাদেশ ক্রিকেটকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। কয়েকদিন আগেও একটা কথা বলেছি যে, পরিচয়টা আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে মানুষের কী চাওয়া। আমাদের ২৫ জন পরিচালকের চাওয়া যদি ঠিক থাকে আর এক পথে থাকে, এটাই এই মুহূর্তে বাংলাদেশ ক্রিকেটের দরকার।’

তবু আলোচনা এখানেই থেমে থাকেনি। ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটির সময়ই সংসদে একজন এমপি তামিমের বোর্ডকে ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ আখ্যা দেন। এবার তো নির্বাচিত বোর্ডের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সংশ্লিষ্টতা আরও বেড়েছে। জেলা-বিভাগ ক্যাটাগরির নির্বাচিত ১০ জনের মধ্যে ৮ জনেরই আলাদা করে রাজনৈতিক পরিচয় আছে। ক্লাব ক্যাটাগরির ১২ জনের মধ্যে ৬ জনও সরকারদলীয় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত বা একই দলের মন্ত্রী-এমপিদের সন্তান। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে মনোনীত দুজন রুহুল আমিন ও সরফরাজ আহমেদের সরাসরি না হলেও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আছে বলেই জানা গেছে। বিসিবির ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি হয়ে এমন রাজনৈতিক পরিচয় থেকে বের হতে চান তামিমও, ‘অনেক অনেক ধরনের ট্যাগ দিচ্ছে। এটা অবশ্যই তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। দেখি, বাপের দোয়ার থেকে ক্রিকেটের দোয়া করতে পারি কি না ভবিষ্যতে।’

পাশাপাশি সবাইকে নিয়ে দেশের ক্রিকেট এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও শোনান তামিম, ‘আমি আপনাদের একটা অনুরোধ করব। অনেক ধরনের আলোচনা হয়েছে, অনেক ধরনের কথা বলা হয়, সবকিছু হয়। আপনারা অবশ্যই সমালোচনা করবেন, আমরা যদি কোনো খারাপ কাজ করি বা আমাদের যদি কোনো ভুল হয়। ওটা নিয়ে আপনারা অবশ্যই আলোচনা করবেন। এটা আপনাদের অধিকার, আপনারা অবশ্যই করবেন। কিন্তু আমাদের সবার একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে, বিশ্বে বাংলাদেশ ক্রিকেটের যে ভাবমূর্তির ক্ষতি হয়েছে, এই জিনিসটা কিন্তু আমি একা ঠিক করতে পারব না। আপনাদের প্রত্যেকের সহযোগিতা দরকার হবে।’

সাদামাটা নির্বাচনেও শেষ মুহূর্তে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ক্লাব ক্যাটাগরির ১২তম পরিচালক চূড়ান্ত করতে ভোট গণনার সময় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা নির্বাচন কমিশনাররা। পুনরায় গণনায় ১ ভোটে বোরহানুল হোসেনকে (৪০) পরাজিত করে নির্বাচিত হন ড. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম (৪১)। তিনি বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত বলেই জানা গেছে। এবারের নির্বাচনে ৩ ক্যাটাগরিতে ২৩ জন নির্বাচিত প্রার্থীর মধ্যে ১৪ জনই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, কোনো মন্ত্রী-এমপির ভাই বা সন্তান। বিজয়ী অন্য পরিচালকদের মধ্যেও কয়েকজনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আছে। সরাসরি ক্রিকেট মাঠ থেকে পরিচালক হয়েছেন দুজন। সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদীন ও সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

 

বিসিবির পরিচালক যারা

ক্যাটাগরি-১

ঢাকা বিভাগ : সাইদ বিন জামান, এস এম আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ। চট্টগ্রাম বিভাগ : মিনহাজুল আবেদীন, মঈন উদ্দিন চৌধুরী। খুলনা বিভাগ : শফিকুল আলম, শান্তনু ইসলাম। রাজশাহী বিভাগ : মীর শাকরুল আলম। রংপুর বিভাগ : মির্জা ফয়সল আমীন। সিলেট বিভাগ : আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। বরিশাল বিভাগ : মিজানুর রহমান

ক্যাটাগরি- ২

 তামিম ইকবাল, মাসুদুজ্জামান, ফাহিম সিনহা, আসিফ রব্বানী, ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, ইসরাফিল খসরু, রফিকুল ইসলাম, সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, শানিয়ান তানিম, সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ, সাকিফ আহমেদ।

ক্যাটাগরি-৩

সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর

এনএসসি মনোনীত : শেখ মো. রুহুল আমিন এবং মো. সরফরাজ আহমেদ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত