আবাসন সংকটে ৩৪ হাজার শিক্ষার্থী

খুলনার ব্রজলাল (বিএল) সরকারি কলেজে আবাসন সংকট প্রকট আকার নিয়েছে। প্রায় ৩৫ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৫৭৭ জনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। দুটি ছাত্রী হলসহ সাতটি আবাসন থাকলেও, তিনটিই জরাজীর্ণ। একটি দীর্ঘদিন ধরে বসবাসের অযোগ্য। দূর থেকে প্রতিদিন আসতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। আর কলেজের আশপাশের এলাকায় চড়া ভাড়ায় মেসজীবন তাদের শিক্ষা ব্যয় বাড়াচ্ছে। কর্র্তৃপক্ষ বলছে, আবাসন সংকট নিরসনে তারা চেষ্টা করে যাচ্ছে।

কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জানান, ভৈরব নদের তীরে দৌলতপুরে ১৯০২ সালে কলকাতার হিন্দু কলেজের আদলে হিন্দু একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন ব্রজলাল শাস্ত্রী (চক্রবর্তী)। দুটি টিনশেড ঘরে কার্যক্রম শুরুর পাঁচ বছর পর এটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়। ১৯৪৪ সালে তিনি মারা যাওয়ার পর একাডেমিকে বিএল কলেজ নামকরণ করা হয়। এরপর ১৯৬৭ সালের ১ জুলাই এটি সরকারি করা হয়।

বর্তমানে কলেজে স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ে ২১টি ও স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) পর্যায়ে ১৮টি বিষয় রয়েছে। প্রাইভেট পর্যায়েও কোর্স চলছে। ১৯৯৬ সালে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে পাঠদান বন্ধ করা হলেও ২০১০ সাল থেকে ফের চালু হয়েছে। সব মিলে এখন প্রায় ৩৫ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। খুলনা, যশোর ও বাগেরহাট জেলা থেকে এখানে বেশি ভর্তি হয়।

কলেজে এখন ছাত্রীদের দুটিসহ সাতটি হল আছে। এর মধ্যে তিতুমীর, মুহসীন, ড. জোহা, কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও সুবোধ চন্দ্র ছাত্রাবাসে ৩৮৯ জনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। আর দুটি ছাত্রীনিবাসে ১৮৮ জন থাকতে পারেন। সুবোধ চন্দ্র ছাত্রাবাস, কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও ড. জোহা হল পুরনো ভবন হওয়ায় জরাজীর্ণ। সেখানে ঝুঁকি নিয়েই ছাত্ররা বসবাস করছেন। দীর্ঘদিন বসবাসের অযোগ্য সুবোধ চন্দ্র ছাত্রাবাস। মাঝে সামান্য সংস্কার করা হলেও এখনো বসবাসের উপযোগী হয়নি। সরেজমিনে দেখা যায়, বেশির ভাগ হলের দরজা-জানালা নষ্ট হয়ে গেছে। ছাদ ও দেয়াল স্যাঁতসেঁতে। সেখান থেকে নিয়মিত পলেস্তারা খসে পড়ে। এর মধ্যেই শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন।

এর বাইরে ৩৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী বাইরে অবস্থান করছেন। ক্যাম্পাসে আসতে তাদের জন্য চারটি বাস থাকলেও সেগুলো ঠিকমতো চলে না। ফলে শিক্ষার্থীদের বড় অংশ আশপাশের মেসে থাকেন। সেখানে ভাড়া ও খাবার বাবদ মাসে ৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়। আর মেসে থেকে কলেজে আসা-যাওয়া করতে রিকশা-টেম্পোতে মাসে প্রায় ১ টাকার মতো লাগে।

নগরীর মহির খালপাড় এলাকার মেসে থাকেন মনিরুল ইসলাম। তিনি জানান, মেস থেকে হেঁটে টুটপাড়া বাসস্ট্যান্ডে যাই। এরপর বাস অথবা মাহিন্দ্র করে কলেজে। এ জন্য মেসের খরচ ছাড়াই প্রতিদিন আমার ৫০ টাকার মতো খরচ হয়। পাবলা এলাকার শফিকুল ইসলাম জানান, বাড়ির মালিকরা মেস ভাড়া দিতে চান না। যারা দেন, তারা ভাড়া নেন বেশি। সঙ্গে থাকে হাজারো শর্ত। ফলে খরচ চালিয়ে পড়ালেখা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ডুমুরিয়া উপজেলার মধুগ্রাম থেকে আসা পিয়াস সাহা জানান, প্রতিদিন ক্লাস ও ব্যাচের জন্য তাকে ১৫ কিলোমিটার যানবাহনে থাকতে হয়। এতে ক্লান্তি চলে আসে, পাঠে মন বসে না। কলেজের হলে থাকতে পারলে, পড়ালেখায় ভালো করা সম্ভব হতো বলে জানান তিনি।

আবাসন সংকট নিরসনে কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক কে এম আলমগীর হোসেন জানান, কলেজের আবাসন সমস্যা বেশ পুরনো। বিভাগের সঙ্গে শিক্ষার্থী বাড়লেও নতুন কোনো আবাসন তৈরি হয়নি। পুরনোগুলো নানা সমস্যায় জর্জরিত। আবাসন বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগে দাবি-দাওয়া দেওয়া হয়েছে। আর বর্তমান অবকাঠামোগুলো সংস্কার করে বসবাসের উপযোগী করা হচ্ছে।