দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসক থাকলেও নেই কোনো নার্স ও ওয়ার্ডবয়। অব্যবস্থাপনা, ওষুধ না পাওয়া, জরুরি মুহূর্তে চিকিৎসকের অনুপস্থিতি এবং প্রাথমিক চিকিৎসা না মেলার কারণে শিক্ষার্থীদের ছুটতে হচ্ছে ক্যাম্পাসের বাইরের হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে। ফলে ছোটখাটো অসুস্থতাতেও তাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। এ পরিস্থিতিতে দিন দিন রোগীহীন হয়ে পড়ছে হাবিপ্রবির এ চিকিৎসাকেন্দ্র।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিকেলে অন্যান্য দপ্তর বন্ধ হওয়ার পরপরই চিকিৎসকশূন্য হয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র এ চিকিৎসাকেন্দ্র। আর সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবারের পরিস্থিতি আরও খারাপ। ওই দুদিন যেন নামমাত্র হাজিরা দিতে চিকিৎসাকেন্দ্রে আসেন দায়িত্বরত চিকিৎসকরা। আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, প্রায় ১১ হাজার আবাসিক-অনাবাসিক শিক্ষার্থীর চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য এই চিকিৎসাকেন্দ্রে ছয়জন চিকিৎসক থাকলেও নেই কোনো নার্স ও ওয়ার্ডবয়। যে কারণে এখানে মেলে না প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা। ফলে সর্দি, কাশি, জ¦র ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে অল্পসংখ্যক রোগী চিকিৎসার জন্য এলেও তাদের ফিরতে হচ্ছে শুধু ব্যবস্থাপত্র হাতে কিংবা পাঠানো হচ্ছে ক্যাম্পাসের বাইরের এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আর রোগ নির্ণয়ের আধুনিক যন্ত্রপাতির মধ্যে আল্ট্রাসনোগ্রাম, এক্স-রে মেশিন এবং নামমাত্র প্যাথলজি ল্যাব থাকলেও নেই তার সঠিক ব্যবহার। চিকিৎসাকেন্দ্রের দুরবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের শিক্ষার্থী শারমীন সুলতানা গত বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত শুক্রবার দুজন মেয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। চিকিৎসাকেন্দ্রে তখন শুধু অ্যাম্বুলেন্স চালক ছাড়া আর কেউ ছিল না। পরে তার মাধ্যমে (অ্যাম্বুলেন্স চালক) ওই দুই ছাত্রীকে এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। এভাবে অনেক সময়ই হুটহাট মেয়েরা অসুস্থ হয়ে পড়ে, কিন্তু উনাদের (চিকিৎসক) কোনো খোঁজ থাকে না। আর বেশিরভাগ সময়ই রাতে চিকিৎসাকেন্দ্রে কাউকে পাওয়া যায় না।’
গত বৃহস্পতির বিকেলে ব্যবস্থাপত্র হাতে চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সময় অ্যাগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সপ্তাহে সাত দিন মেডিকেল সেন্টার খোলা থাকার পাশাপাশি সাধারণ মেডিসিনগুলো যুক্ত করা হলে খুবই ভালো হতো। এছাড়া নার্স ও অতিরিক্ত স্পেশালিস্ট ডাক্তারও যোগ করা দরকার। নার্সের অভাবে এখানে প্রাথমিক চিকিৎসাও সঠিকভাবে মেলে না।’
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে চিকিৎসাকেন্দ্রে ১০টি বেড থাকার কথা উল্লেখ থাকলেও বর্তমানে প্রকৃতপক্ষে সেখানে বেডের সংখ্যা তিনটি। বাকি সাতটি বেড কোথায় তা জানতে চাইলে চিকিৎসাকেন্দ্রের চিফ মেডিকেল অফিসার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের পর্যাপ্ত জায়গার অভাব আর এখানে রোগী ভর্তি হয়ে বেশিক্ষণ থাকে না। এ কারণে পুরুষ ওয়ার্ডের বেডগুলো সরিয়ে সেখানে রোগ নির্ণয়ের আধুনিক এক্স-রে মেশিন বসানো হয়েছে।’
চিকিৎসাকেন্দ্রের দুরবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. ফজলুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সম্প্রসারণ ও সংস্কারের মাধ্যমে কেন্দ্রটির আধুনিকায়নের কাজ চলছে। সেখানে ছেলে ও মেয়েদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড থাকবে এবং একটি অপারেশন থিয়েটার থাকবে। রোগ নির্ণয়ের আধুনিক যন্ত্রপাতি যুক্ত করারও পরিকল্পনা আছে। এছাড়া সাধারণ ওষুধ দেওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত নার্স ও চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে সব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে তোলার জন্য কাজ করছে প্রশাসন।’