বরিশালে ‘বুলবুলের’ প্রভাবে বৃষ্টি

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে বরিশালে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। শনিবার সকাল থেকে বৃষ্টির সঙ্গে বাতাসের মাত্রাও কিছুটা বেড়েছে। পায়রা বন্দরসহ উপকূল এলাকায় মহাবিপদ সংকেত ঘোষণা হওয়ায় সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব এবং ক্ষতির আশঙ্কায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন।

স্থানীয় আবহাওয়া কার্যালয় জানিয়েছে, সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল জেলায় ৩৩ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে বৃষ্টি দিনভর অব্যাহত থাকবে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাতাসের গতিবেগ বাড়বে।

এদিকে উপকূলীয় এলাকা পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করায় পায়রা বন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বন্দর সংলগ্ন উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরগুনা এবং তাদের অদূরবর্তী চর ও দ্বীপগুলোতে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে এমন হুঁশিয়ারি জারি করা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আব্দুর রশীদ জানান, শনিবার সকাল থেকে বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় এলাকার জনসাধারণকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় প্রশাসন ও সিপিপিসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকরা ঘূর্ণিঝড়ের বিষয়ে সতকর্তামূলক প্রচারণা চালাচ্ছেন।

বরিশাল বিভাগীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বরিশাল বিভাগজুড়ে দুই হাজার ৯৪টি সাইক্লোন শেল্টারসহ বিভিন্ন বিদ্যালয় ভবনসহ পাকা ও নিরাপদ স্থাপনা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রস্তুত করা হয়েছে এলাকা ও আশ্রয়কেন্দ্রভিত্তিক মেডিকেল টিম।

পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, জেলা পুলিশ, নৌ-পুলিশ এবং কোস্টগার্ডের সদস্যদেরও বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত রাখা হয়েছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে নদ-নদীর পানি স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ) নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগ বরিশালের উপ-পরিচালক আজমল হুদা মিঠু জানান, বরিশাল নদীবন্দরে চার নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। শনিবার সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল উপকূলীয় এলাকায় সরকারি ছুটি বাতিল করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) বাস্তবায়ন বোর্ড’ শুক্রবার বৈঠক করে ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, ভোলা, বরগুনা, পিরোজপুর, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, খুলনা, চাঁদপুর, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম এই ১৩টি জেলার সকল সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর আগামী ৯ ও ১০ নভেম্বর (শনি ও রবিবার) সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

এসব জেলার সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মস্থল ত্যাগ না করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।