গাইবান্ধায় চাকরির প্রলোভন প্রতারণায় নিঃস্ব পরিবার

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের উত্তর রাজিবপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হায়দার আলীর বিরুদ্ধে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ১১ লাখ ৩০ হাজার টাকা আত্মসাৎ, স্বাক্ষর করা পাঁচটি ফাঁকা চেক ও তিনটি ফাঁকা স্ট্যাম্প এবং মূল সনদ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগে জানা গেছে, উত্তর রাজিবপুর গ্রামের তছলিম শেখের ছেলে সোহেল রানাকে সেনাবাহিনীতে কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে একই বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাজল মিয়ার সহায়তায় গত ৭ ও ২০ আগস্ট ১১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নেন সহকারী শিক্ষক হায়দার আলী। এরপর ১০ সেপ্টেম্বর সোহেল রানাকে ঢাকার মিরপুর-১০-এর একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়। বাড়ি ফিরে সোহেল রানার মা রহিমা বেগমের নামে স্বাক্ষর করা পাঁচটি ফাঁকা চেক, সোহেল রানা ও রহিমা বেগমের স্বাক্ষর করা তিনটি ফাঁকা স্ট্যাম্প এবং এসএসসি, এইচএসসি পাস ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণের মূল সনদও নেন হায়দার আলী। বিষয়টি সোহেল রানার পরিবারকে গোপন রাখতে বলেন এবং এসব কথা কেউ জানতে পারলে তার চাকরি হবে না বলেও ভয় দেখান শিক্ষক হায়দার আলী।

পরে ২১ সেপ্টেম্বর মিরপুর-১৪ ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে গিয়ে ঢাকা সেনানিবাস স্টেশন সদর দপ্তরের মেজর রুহুল আমিন স্বাক্ষরিত একটি নিয়োগপত্র দেন হায়দার আলী। তারপর বাড়ি ফিরে ওই নিয়োগপত্র সন্দেহ হলে যাচাই করে দেখা যায় সেটি ভুয়া। এরপর হায়দার আলীকে টাকার জন্য চাপ দিলে তিনি আত্মগোপন করেন।

সোহেল রানা বলেন, এর আগেও হায়দার আলী উত্তর রাজিবপুরের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে নয়ন মিয়াকে শিল্প মন্ত্রণালয়ে অফিস সহায়ক পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে ১ লাখ টাকা ও একই গ্রামের আশরাফ আলীর ছেলে জাহিদুল ইসলামের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা নেন। পরে তাদের চাকরি দিতে পারেননি তিনি।