সদস্যদের ব্যস্ততায় বোর্ডসভা কমছে নতুন পিপিপি আইনে

বর্তমান সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব আইনে (পিপিপি আইন) বোর্ড অব গভর্নরসের সভা বছরে ছয়টি হওয়ার কথা। সদস্যদের ব্যস্ততার কারণে এসব সভা করা যায় না। এ কারণে সভার সংখ্যা কমানোর প্রস্তাবসহ নির্বাহী বোর্ড গঠন করার বিধান সংযোজন করে ‘বাংলাদেশ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (সংশোধন) আইন, ২০১৯’ -এর খসড়া করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। খসড়টি নীতিগত অনুমোদনের জন্য আগামীকাল সোমবার অনুষ্ঠেয় মন্ত্রিসভা বৈঠকের এজেন্ডায় রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সচিবালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

বর্তমানে ৭৩টি প্রকল্প পিপিপি পাইপলাইনে রয়েছে। এর মধ্যে ১টি প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে সেবা দেওয়া হচ্ছে। ৫টি প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলছে। আরও ১০টি প্রকল্পের বেসরকারি অংশীদারদের সঙ্গে চুক্তি সই হয়েছে। এ ছাড়া ১৬টি প্রকল্পের বেসরকারি অংশীদার বাছাই চলছে। ১২টি প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করা হচ্ছে। ১৭টি প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি অনুমোদন করেছে আরও ১২টি প্রকল্প।

পিপিপি কর্তৃপক্ষের সাংগঠনিক কাঠামো এবং প্রস্তাবিত চাকরি প্রবিধানমালায় বিভিন্ন পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে। পিপিপি কর্তৃপক্ষের সরাসরি নিয়োগ দেওয়া কর্মচারীদের চাকরির শর্তাবলী প্রবিধান দিয়ে নির্ধারিত হলেও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের আলাদা বিধানের কথা বলা হয়েছে। ফলে পিপিপি কর্তৃপক্ষ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে পারবে। আইনে অন্তভু©ক্তির ফলে পিপিপিতে সব সময়ই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হবে। দক্ষ জনবল তৈরি না করে খসড়া আইনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে।

বর্তমান আইনে বিনিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ যেসব ক্ষেত্রে পিপিপি কর্তৃপক্ষের সহায়তা ও মতামত নেবে তার উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের পর বাস্তবায়ন ও সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে পরামর্শ নেওয়ার কোনো বিধান নেই। নতুন আইনে এসব ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

বেসরকারি অংশীদার নির্বাচন প্রক্রিয়া পাবলিক প্রকিউরমেন্ট কার্যক্রমের সমতুল্য। বেসরকারি অংশীদার নির্বাচনে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট গাইডলাইন অনুসরণ করা হয়। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইনে সরল বিশ্বাসে করা কাজের সুরক্ষা দেওয়া হয়। কিন্তু পিপিপি আইনে এ সুরক্ষা দেওয়া হয় না। সংশোধিত খসড়া আইনে সরল বিশ্বাসের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।

পিপিপি আইন সংশোধনের বিষয়টি বোর্ড অব গভর্নরস ও নির্বাহী বোর্ডের সভা অনুমোদন করেছে। লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে খসড়া করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সচিবের নেতৃত্বে খসড়টি পরিমার্জন করা হয়েছে। এ ছাড়া আন্তঃমন্ত্রণালয় সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। খসড়াটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে। প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও আইনটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের বিষয়টি অনুমোদন করেছেন।

দ্রুত অবকাঠামো গড়ে তোলার জন্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ২০১৫ সালে পিপিপি আইন প্রণয়ন করা হয়। এই আইনের মাধ্যমে পিপিপি কার্যক্রম আইনি কাঠামো পায়। এই আইনের ওপর ভিত্তি করে জাতীয় অগ্রাধিকার প্রকল্প নীতি, পিপিপি প্রকল্পের প্রকিউরমেন্ট গাইডলাইন, গাইডলাইনস ফর অনসলিসিটেড প্রপোজালস, জি টু জির আওতায় পিপিপি প্রকল্প বাস্তবায়ন নীতিমালা করা হয়েছে। এসব নীতিমালার ওপর ভিত্তি করে পিপিপি প্রকল্পগুলো চলছে।

আগামীকালের বৈঠকে পিপিপি আইন ছাড়াও রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত নবম আন্তর্জাতিক মেরিটাইম ডিফেন্স শোতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হবে।