জরুরি উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসাসহ ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী। এরই অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চালু করা হয়েছে ‘প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় ও ত্রাণ তৎপরতা মনিটরিং সেল’। গতকাল শনিবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের অনুরোধে চিকিৎসক টিমসহ যশোর থেকে সেনাবাহিনীর ১২০ সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল শ্যামনগরে পাঠানো হয়েছে। সেখানে প্রাথমিকভাবে স্থানীয়দের আশ্রয়কেন্দ্রে নিতে তারা সহায়তা করবে।
আইএসপিআর বলেছে, সেনাবাহিনী স্থানীয় সিভিল প্রশাসনের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছে। এ জন্য ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং সেল চালু করা হয়েছে। ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে তারা প্রয়োজনীয় উদ্ধারসামগ্রী এবং দুর্যোগ-পরবর্তী সহায়তার জন্য ওষুধ, বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে।
গতকাল রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ক্ষয়ক্ষতি প্রতিরোধে কক্সবাজারে জরুরি সহায়তা মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাইক্লোন বিবেচনায় নৌবাহিনীর ২৭টি জাহাজ নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে। নৌবাহিনীর ৫টি জাহাজ (বিএনএস কর্ণফুলী, তিস্তা, পদ্মা ও এলসিভিপি ০১১,০১৩) দুর্যোগ পরবর্তী বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তাদের সঙ্গে নৌবাহিনীর ৪টি কন্টিনজেন্ট ও অনেকগুলো চিকিৎসক দল থাকবে। এ ছাড়া নৌবাহিনী তিন স্তরে উদ্ধার তৎপরতা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় চট্টগ্রাম নৌ-অঞ্চলে ১০০ জন সদস্যের কন্টিনজেন্ট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া বিমানবাহিনী সদর দপ্তরে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-পরবর্তী পরিস্থিতি মনিটরিংয়ে সেল চালু করা হয়েছে। বিমানবাহিনীর সব এয়ারক্রাফট দুর্যোগ-পরবর্তী রেকি ও যেকোনো জরুরি মিশনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। বিমানবাহিনীর একটি অগ্রগামী দুর্যোগ মোকাবিলা দল বরিশালে গেছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।