ঘূর্ণিঝড় বুলবুল: চাঁদপুরে চার শতাধিক বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত

চাঁদপুরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে চার শতাধিক বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে হাইমচর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে দুই দিন ধরে পুরো এলাকা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

এছাড়া ঝড়ে চাঁদপুর সদর উপজেলার ইব্রাহিমপুর, রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন স্থানে বসতঘর ও গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার অন্যান্য উপজেলায় ক্ষয়-ক্ষতির তেমন কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে সোমবার সকালে হাইমচর উপজেলার ছোট লক্ষ্মীপুর, মহজমপুর, তেলিরমোড়, থানা রোড, আলগী উত্তরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঘূর্ণিঝড়ে বসতঘরের উপর আছড়ে পড়া গাছ সরাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।

বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা গাছপালা কেটে সরানো হচ্ছে। এছাড়া যেসব স্থানে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে পড়ে রয়েছে, তা ঠিক করা হচ্ছে।

হাইমচর উপজেলার ছোট লক্ষ্মীপুর এলাকার বাসিন্দা খাদিজা বেগম জানান, রবিবার বিকেলে প্রচণ্ড ঝড়ে একটি বড় গাছ কাত হয়ে তাদের বসতঘরের উপর গিয়ে পড়ে। এতে বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি বলেন, সরকারিভাবে আমাদেরকে সহযোগিতা করা হলে উপকৃত হবো।

একই উপজেলার মহজমপুর এলাকার বাসিন্দা দুদু মিয়া বলেন, ঝড়ে গাছ ভেঙে ও বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে আমার বসতঘরের উপর পড়ে। এতে আমার বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গত দুই দিন ধরে আমার বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

হাইমচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুর হোসেন পাটওয়ারী জানান, গত রবিবার বিকেলে চাঁদপুরের উপর বয়ে যায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। বাতাসের প্রচণ্ড গতিবেগে হাইমচর উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে বসবাসকারী লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঝড়ে গাছপালা ভেঙে পড়ে অন্তত তিন শতাধিক বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঝড়ে অনেক বসতঘরের চালা ও বেড়া উড়ে যায়।

নুর হোসেন জানান, ঝড়ে গত শনিবার ও রবিবার বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক লাইনের উপর গাছ পড়েছে। এতে পুরো হাইমচর উপজেলা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, যেসব স্থানে বৈদ্যুতিক তারের উপর গাছ পড়েছে, সেসব জায়গায় রবিবার থেকেই কাজ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা গাছপালা সরানোর পর বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ইতোমধ্যে শুকনো খাবার বিতরণসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া যাদের বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের তালিকা তৈরি করে সহযোগিতা করা হবে।

হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফেরদৌসী বেগম বলেন, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

এদিকে চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হযরত আলী জানান, ঝড়ে তার এলাকার বেশ কিছু বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরি করে সহযোগিতা করা হবে।

এ ্ব্যাপারে চাঁদপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এসএম জাকারিয়া বলেন, ঝড়ে চাঁদপুর জেলায় ৪ শতাধিক মানুষের বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা করা হচ্ছে। তাদের পুনর্বাসনের জন্য নগদ টাকা ও ঢেউটিন দেওয়ার আবেদন জানিয়ে মন্ত্রণালয়ে তালিকা পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।