বুলবুল: স্বাভাবিক হয়নি বিদ্যুৎ সরবরাহ

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর সোমবার বিকেল পর্যন্ত তা স্বাভাবিক হয়নি।

ঘণ্টায় ১১৫ কিলোমিটার থেকে ১২৫ কিলোমিটার বেগের বাতাসের শক্তি নিয়ে শনিবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ-চব্বিশ পরগনার সাগর দ্বীপ উপকূলে আঘাত হানে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। রোববার ভোরে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পৌঁছায় এ ঝড়।

আমাদের ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, চার দিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন চার উপজেলার অন্তত ছয় লাখ মানুষ।

জেলা সদরসহ চার উপজেলায় ঘূর্ণিঝড়ে বিদ্যুতের তারের ওপর গাছ পড়ে তার ছিঁড়ে গিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়।

শুক্রবার রাতে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাব শুরুর সঙ্গে সঙ্গে চার উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

সোমবার দুপুরে জেলা সদরের কিছু জায়গায় বিদ্যুৎ চালু হলেও অন্য উপজেলায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

ঝালকাঠি পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির রাজাপুর, কাঠালিয়া অঞ্চলের এজিএম প্রকৌশলী রাজন কুমার দাস বলেন, বিদ্যুতের খুঁটির ওপর গাছ পড়ার কারণে বেশির ভাগ জায়গায় তার ছিঁড়ে গেছে। অনেক জায়গায় এখনো তারের ওপর গাছ পড়ে আছে। গাছ অপসারণ ও তার মেরামতের কাজ সম্পন্ন হলে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা যাবে।

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি জানান, ঝড়ে গাছপালা পড়ে বৈদ্যুতিক লাইন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় টানা দুদিন মোংলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

এতে মোংলার শিল্প এলাকার কলকারখানাগুলোর উৎপাদন বন্ধের পাশাপাশি দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর ও অফিস আদালতের স্বাভাবিক কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে। ভোগান্তিতে রয়েছেন মোংলার বাসিন্দারা। সোমবার বিকেল পর্যন্ত শহরের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।

বাগেরহাট প্রতিনিধির প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তোড়ে সরবরাহ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় বিদ্যুৎ স্বাভাবিক হতে চার-পাঁচ দিন সময় লাগবে বলে মনে করছে জেলার পল্লি বিদ্যুৎ।

সোমবার বাগেরহাট পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক মো. জাকির হোসেন জানান, ঝড়ের কবলে পড়ে এ জেলার ছয় হাজার দু শ কিলোমিটার সরবরাহ লাইনের মধ্যে ৮০৫ কিলোমিটার তার ছিঁড়ে গেছে।

এ ছাড়া ২০৫টি খুঁটি ও ১২৩টি ‘ক্রস আর্ম’ ভেঙে গেছে। ৫০টি ট্রান্সফরমার ও ১৫০টি পল্লি বিদ্যুতের মিটার নষ্ট হয়েছে বলে জানান তিনি।

জেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা মেরামতে দেড় হাজারের বেশি শ্রমিক রাত-দিন কাজ করছেন জানিয়ে জাকির হোসেন বলেন, ‘সন্ধ্যা নাগাদ বাগেরহাট সদরে শহরের আশপাশের এলাকাগুলোয় বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারব বলে আশা করছি। এ ছাড়া হাসপাতালে বিদ্যুৎ সরবরাহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে’।

জেলার পল্লি বিদ্যুৎ সরবরাহের মধ্যে শুধু মোংলা উপজেলার দিগরাজ ও চাঁদপাই এলাকায় আংশিক বিদ্যুৎ সরবরাহ সংযোগ দেওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

তিনি এ প্রতিবেদককে  বলেন, ‘শতভাগ বিদ্যুৎ আনতে আগামী চার-পাঁচ দিন সময় লাগবে’।

বাগেরহাট শহরের বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্ব ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের হাতে।

ওয়েস্ট জোন পাওয়ারের নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুল কুমার স্বর্ণকার বলেন, ‘বিদ্যুৎ সরবরাহ আসা-যাওয়ার মধ্যে আছে’।

টানা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের পাশাপাশি  জেলায় মোবাইল নেটওয়ার্কও ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশিদ জানান, মোবাইল নেটওয়ার্ক বিঘ্নিত হওয়ায় জেলার বিভিন্ন স্থানের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।