পুলিশের ভুলে কারাবাস

১ টাকা মুচলেকায় জামিন

পুলিশের ভুলে গ্রেপ্তার হয়ে ২৬ দিন কারাবাসের পর ১ টাকা মুচলেকায় জামিন মিলেছে রাজন ভূঁইয়া নামে নিরপরাধ এক ব্যক্তির। এছাড়া মামলার দায় থেকেও তাকে অব্যাহতি দিয়েছে আদালত। গতকাল সোমবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান রাজনের জামিন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে ভুল পরোয়ানা তামিলকারী কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া থানার এসআই আরশাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে আদালত। আগামী ৪ ডিসেম্বর এই পুলিশ কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

আদালতের আদেশে আরও বলা হয়েছে, যাচাই-বাছাই না করে নিরীহ-নিরপরাধ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই না করেই রাজন ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া পিআরবির সংশ্লিষ্ট ধারা তুলে ধরে আদালত বলেছে, নিরীহ রাজনকে গ্রেপ্তার

করায় পুলিশ আইনের ব্যত্যয় ঘটানো হয়েছে। এ আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে তিন মাসের কারাদণ্ড বা তিন মাসের বেতনের সমপরিমাণ জরিমানা।

মামলার নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা দেশ রূপান্তরকে জানায়, ২০১২ সালের ৯ মে রাজধানীর বংশাল থেকে নেশাজাতীয় ২৮ পিস ইনজেকশনসহ হাবিবুল্লাহ রাজন নামে এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়। তখন তার বয়স ছিল ২৬ বছর। তার বাবার নাম আবদুল মান্নান। গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া থানার গোপালনগর গ্রামে। গ্রেপ্তারের ১ মাস ২১ দিন পর জামিনে মুক্ত হয় হাবিবুল্লাহ রাজন। এরপর থেকেই সে পলাতক। হাবিবুল্লাহ রাজনের বিরুদ্ধে হওয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলাটি তদন্ত করে বংশাল থানা পুলিশ তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। আদালত অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ২০১২ সালের পহেলা জুলাই হাবিবুল্লাহ রাজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। মামলাটি তখন ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন ছিল। ২০১৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এ বদলি করা হয়। আদালত পলাতক আসামি হাবিবুল্লাহ রাজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। আদালতের পরোয়ানাতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল, আসামির নাম হাবিবুল্লাহ রাজন। বাবার নাম আবদুল মান্নান। গ্রামের নাম গোপালনগর। থানা ব্রাহ্মণপাড়া। জেলা কুমিল্লা। কিন্তু আদালতের পরোয়ানা পেয়ে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া থানা-পুলিশ রাজন ভূঁইয়াকে হাবিবুল্লাহ রাজন নামে গত ১৬ অক্টোবর গ্রেপ্তার করে কুমিল্লার বিচারিক হাকিমের আদালতে তোলে। এরপর থেকেই তিনি কারাগারে।

রাজন ভূঁইয়ার আইনজীবী নিকুঞ্জ বিহারী আচার্য বলেন, ‘রাজন ভূঁইয়ার নামে কোনো মামলা ছিল না। পুলিশ তাকে হাবিবুল্লাহ রাজন মনে করে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। বিষয়টি জানার পর রাজনের পক্ষে ঢাকার আদালতে আমি জামিনের আবেদন করি। আদালতে তার জন্ম সনদ এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সনদপত্র জমা দিই। জন্ম সনদ অনুযায়ী রাজন ভূঁইয়ার বয়স এখন ১৯ বছর। অথচ মামলার আসামি হাবিবুল্লাহ রাজনের বয়স গ্রেপ্তারের সময়ই ছিল ২৬ বছর।’

আদালতে জমা দেওয়া রাজন ভূঁইয়ার কাগজপত্রের তথ্য বলছে, রাজন ভূঁইয়ার বাবার নাম আবদুল মান্নান। আর প্রকৃত আসামি হাবিবুল্লাহ রাজনের বাবার নামও আবদুল মান্নান। তবে রাজন ভূঁইয়ার বাবা মারা গেছেন। কিন্তু হাবিবুল্লাহ রাজনের বাবা জীবিত।