দশ কি. মি. সড়কে ১০ হাজার খানাখন্দ

চলাচলের উপযোগিতা হারিয়ে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার লোন্দা-নোমরহাট এবং লোন্দা-কলেজ বাজার সড়ক।

বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের ভারি পণ্য নিয়ে ট্রলি, হামজা চলাচলের ফলে সড়কটি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে অভ্যন্তরীণসহ উপজেলা সদরের সঙ্গে দুটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা হয়ে পড়েছে বিপর্যস্ত।

বছরের পর বছর এমন অচলাবস্থা চললেও সংস্কারের উদ্যোগ না থাকায় প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

প্রাণহানিসহ পঙ্গুত্বের অভিযোগ রয়েছে এ পথে চলাচলকারী সাধারণ মানুষের।

এদিকে লোন্দা-কলেজ বাজার সড়ক সংস্কারের দাবিতে (৩০ অক্টোবর) অর্ধবেলা অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীসহ ওই সড়কের চলাচলকারী মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা চালক-শ্রমিকরা।

জানা গেছে, ২০০৮-২০০৯ অর্থ বছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে লোন্দা-নোমরহাটের সাড়ে আট কিলোমিটার এবং ২০০৬-২০০৭ অর্থ বছরে লোন্দা-কলেজ বাজার সড়কের দশ কিলোমিটার সড়ক কার্পেটিং করে।

দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার না করায় বর্তমানে সড়কটি যানবাহন চলাচলে সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার লোন্দা খেয়াঘাট থেকে নোমরহাট সাড়ে আট কিলোমিটার সড়কের কার্পেটিং উঠে বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে লোন্দা-কলেজ বাজার সড়কের দশ কিলোমিটার।

এ সড়কটিতে কখনো কার্পেটিং ছিল এমন চিহ্ন কোথায়ও নেই। দশ কিলোমিটার সড়কে তৈরি হয়েছে অন্তত দশ হাজার ছোট-বড় খানাখন্দ।

সামান্য বর্ষা হলেই কাদাপানিতে থৈ থৈ সড়কে যানবাহন দূরের কথা পায়ে হাঁটার সামান্য পথ অবশিষ্ট থাকে না।

সড়কটি দিয়ে চলাচলে প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যানবাহনসহ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর। যানবাহন চলাচলের সময় কাদাপানি ছিটকে নষ্ট হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পোশাক, দোকানের মালামাল।

প্রায়শই দুর্ঘটনা শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষসহ অনেক মোটরসাইকেল চালক। এতে অনেকর ভাগ্যে জুটেছে পঙ্গুত্বের জীবন।

ধানখালী কলেজ বাজারের ব্যবসায়ী জুলহাস জানান, খানাখন্দসহ কাদাপানিতে কখনো ট্রলি, হামজা, পণ্যবাহী ভারি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান আটকে পড়লে রাস্তায় সম্পূর্ণ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

উৎপাদিত মৌসুমী ফসল রপ্তানি নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে লোন্দার কৃষক ইউনুচ হাওলাদার। তিনি বলেন, তরমুজ ও রবিশষ্য মৌসুমে এ দুটি সড়ক দিয়েই পণ্য পরিবহন করতে হয়।

ধানখালী ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ তালুকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত লোন্দা-কলেজ বাজার রাস্তাটি আরপিসিএল’র মেরামত করে দেওয়ার কথা। এ নিয়ে একাধিকবার তাদের সঙ্গে একাধিকবার কথা হলেও তারা গড়িমসি করছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রতিষ্ঠান রুলার পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড’র সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান দেশ রূপান্তরকে জানান, লোন্দা-কলেজ বাজার রাস্তাটির মেরামত কাজ শুরু হয়েছিল। কিছু দিন কাজ বন্ধ থাকায় রাস্তাটিতে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী আ. মান্নান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ভারি যানবাহন চলাচল উপযোগী করে মেরামতের জন্য প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু করা হবে। লোন্দা-নোমরহাট সড়কটি পানি উন্নয়ন করবে।