পলিথিন-প্লাস্টিকে বেকায়দায় রাসিক

পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে সারা দেশেই আলাদা একটা সুনাম রয়েছে রাজশাহী শহরের। মূলত রাতের বেলা পরিকল্পিত উপায়ে প্রতিদিনের বর্জ্য অপসারণের মাধ্যমে শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু রাজশাহী নগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও ড্রেনেজ সিস্টেম বর্তমানে হুমকির মুখে পড়েছে পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্যরে কারণে। শহরজুড়ে এলোমেলো পড়ে থাকা প্লাস্টিক আর পলিথিন বর্জ্য চরমভাবে বাধাগ্রস্ত করছে সুন্দর শহর গড়ার কার্যক্রমকে। বিশেষ করে রাজশাহী শহরের ড্রেনগুলোতে কয়েক বছর আগেও বৃষ্টির সময় সেভাবে পানি জমত না। কিন্তু এখন বৃষ্টি হলেই ড্রেনগুলো থেকে পচা-নোংরা পানি উপচে পড়ে। স্থানীয়রা ও নগর কর্র্তৃপক্ষ বলছে, এর অন্যতম কারণ পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজশাহী নগরীর বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ক্লিনিক-হাসপাতাল ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিদিনকার ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা দিনের বেলা নির্দিষ্ট একটি জায়গায় জড়ো করে রাখেন। পরে রাতের বেলা সেসব বর্জ্য নিয়ে গিয়ে ফেলা হয় সিটি হাট এলাকার ভাগাড়ে। সিটি করপোরেশন কর্মীদের সংগ্রহ করা এ বর্জ্যরে মধ্যে দেখা যায় প্রচুরসংখ্যক প্লাস্টিক ও পলিথিন।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শহরে প্রতিদিন প্রায় ৩৫০ মেট্রিক টন বর্জ্য তৈরি হয়। সেগুলো ভাগাড়ে ফেলা হয়। এসব বর্জ্যরে মধ্যে প্রচুর পরিমাণে প্লাস্টিক ও পলিথিন থাকে। নগরবাসীকে পলিথিন ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করার পরও তা কমছে না। এ ক্ষেত্রে সব থেকে বড় জটিলতা তৈরি হচ্ছে নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনায়। রাজশাহী শহরের ড্রেনগুলোতে কয়েক বছর আগেও বৃষ্টির সময় সেভাবে পানি জমত না। কিন্তু এখন বৃষ্টি হলেই পানি উপচে যায়। এর অন্যতম কারণ পলিথিন ও প্লাস্টিক।’

সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরাও ড্রেনে পড়ে থাকা পলিথিন ও প্লাস্টিক নিয়ে বিপাকে আছেন। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন সম্প্রতি তার ফেইসবুক পেজে নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ড্রেনে প্লাস্টিক ও পলিথিন না ফেলার আহ্বান জানান। কিন্তু এরপরও কোনো ফল মেলেনি। নগরীর বড় বড় ড্রেনে অসংখ্য পলিথিন ও প্লাটিকের সামগ্রী পড়ে থাকতে দেখা যায় সবসময়ই।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাজশাহী শহরে যে ড্রেনেজ সিস্টেম রয়েছে তাতে পানি নিষ্কাশন অনেক সুন্দর হওয়ার কথা। কিন্তু কিছু অসচেতন মানুষ ড্রেনে প্লাস্টিক ও পলিথিন ফেলে খারাপ পরিস্থিতি তৈরি করছে। আমরা মানুষকে সচেতন করার কাজ করছি। অনেকে সচেতন হচ্ছেন, আবার অনেকে হয়তো হবেন আরও পরে। তবে পলিথিন ও প্লাস্টিকের কারণে কিছু সমস্য যে বাড়ছে এ কথা সত্য।’

এদিকে রাজশাহীর সব বাজারেই মিলছে নিষিদ্ধ পলিথিন। কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে মুদিখানাসহ সব বড় বড় শপিংমল যেন পলিথিনের রাজ্য। মাছ, মাংস ও মুরগি বিক্রেতারা এখন অবাধেই এটা ব্যবহার করছে। অন্যদিকে প্রকাশ্যেই বিক্রি করা হচ্ছে পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এ পলিথিন। বিক্রেতারা তা দোকানে থরে থরে সাজিয়ে রাখছে। এটি যে বিক্রি নিষিদ্ধ পণ্য সেটি দেখে বোঝার কোনো উপায় নেই। বছরের পর বছর রাজশাহীতে পলিথিনবিরোধী দৃশ্যমান কোনো অভিযানও নেই।

সহজপ্রাপ্তি আর দাম কম হওয়ায় অন্য ব্যাগের পরিবর্তে পলিথিনে আগ্রহ বেশি বলে জানান খুচরা ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক তন্ময় সান্যাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মারাত্মক ক্ষতিকর পলিথিনের নিয়মিত ব্যবহার পরিবেশ দূষণের মাত্রাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। অপচনশীল এ পদার্থ পরিবেশে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করে। ফলে মাটি-পানি দূষিত হচ্ছে।’

নিষিদ্ধ পলিথিনবিরোধী অভিযান না পরিচালনার কারণ জানতে চাইলে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সমর কুমার পাল বলেন, ‘আমরা উচ্ছেদ অভিযান নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকি। এটি করতে পারি না এমনটি নয়। এটি আমাদের পরিবেশের অনেক ক্ষতি করে। তবে এ বিষয়ে আমাদের গুরুত্ব দেওয়া উচিত।’